গত এসএসসি পরীক্ষায় গড়ে সাড়ে ৭ নম্বরের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। রবিবার (২৫ মার্চ) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফাঁসের গুজবমুক্ত সুষ্ঠ পরীক্ষা অনুষ্ঠানে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত্র বৈঠকে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘হিসেব করে দেখা গেছে যদি এভারেজ করা হয়, তাহলে সাড়ে ৭ নম্বরের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এতে খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছে। এটা কম/বেশি পাঁচ হাজার। এর মধ্যে অনেকেই বহিস্কার হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া যারা বিকাশে অথবা রকেটে টাকা দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যাংকিং সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি।’
একটা সভা আহ্বান করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছে, আমরা চাইবো একই নম্বরে যদি একাধিক ট্রানজেকশন করা হয় তাহলে সেটা তদন্ত করতে হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠানে সব নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। গত পরীক্ষায় যিনি টাকা দিয়েছেন তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: এইচএসসির সব সেটের প্রশ্ন যাবে কেন্দ্রে, ২৫ মিনিট আগে সেট নির্ধারণ
সচিব মো. সোহরাব হোসাইন আরও বলেন, ‘গত এসএসসিতে ১৭টি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে ১২টির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে- রচনামূলক কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এমসিকিউ চারটা সেটের মধ্যে একটি প্রশ্নই (খ সেট) প্রতিদিন ২০ মিনিট, ৩০ মিনিট ও ৪০ মিনিট আগে ফাঁস হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। বিষয়টি যদি ব্যাখ্যা করে বিচার করা হতো, তাহলে মানুষ বুঝতে পারতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের জন্য খুব ক্ষতির কারণ হয়েছে, ইমেজ সংকট হয়েছে, সরকারের জন্য ইমেজ সংকট হয়েছে। অযথা, অপ্রয়োজনে।’
তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়েই সচিব বলেন, ‘অবশ্যই আমি এর দায় এড়াতে চাই না। যেহেতু হয়েছে, তার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডকে নিতে হবে। কিন্তু এমনভাবেই প্রচার হয়েছে, যাতে মনে হয়েছে সমস্ত কিছু ফাঁস হয়ে গেছে। সেটি আমি আপনাদের সুবিবেচনা প্রত্যাশা করবো।’








