ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও শহীদুল আলমের মুক্তি দাবি

ঢাবি প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:১৬আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:২৭

প্রতিবাদ সমাবেশ আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামসহ ছাত্র আন্দোলনে আটকদের মুক্তি এবং নাগরিক অধিকার হরণকারী সব আইন বাতিলের দাবিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনতা’র ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি বা শিক্ষক যেই হন না কেন। বর্তমানে দেশে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা দিনাতিপাত করছি। আজ শহীদুল আলম দুই মাস ধরে কারাগারে। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেই সব শিক্ষার্থী ন্যায্য আন্দোলন করেছেন, তারা অনেকেই জামিন পাননি।  অথচ যারা অন্যায় ও দুর্নীতি করছেন, তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন।

তারা বলেন, দেশে বর্তমানে স্বৈরশাসন চলছে। সরকার নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকার দাবি করলেও ঔপনিবেশিক ভাবধারায় শাসন করছেন। বর্তমানে যে তিনটি আইন সংসদে পাস করা হয়েছে, তাতে ব্রিটিশ আমলে করা ‘দাফতরিক গোপনীয়তা আইন’র অনেকগুলো ধারা অপরিবর্তিতভাবে সংযোজন করা হয়েছে। এই আইনগুলোর মাধ্যমে মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাদের কারারুদ্ধ করা হচ্ছে। জনগণকে বিশেষ করে ছাত্রসমাজকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।

এসময় তারা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামসহ ছাত্র আন্দোলনে আটকদের মুক্তি এবং নাগরিক অধিকার হরণকারী সব আইন বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বৈরশাসককে জনগণের আন্দোলনের মুখে নামতে হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে স্বৈরাচারী ব্যবহার বেশি দিন টিকবে না। স্বৈরাচারী আচরণের দিন ঘনিয়ে আসছে। এ কারণে শহীদুল আলমের মতো এত বড় মাপের আলোকচিত্রীকে আটক করে রেখে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা অনেক ক্ষমতাবান। তাদের এত ক্ষমতা যে তারা সারা পৃথিবীর মানুষ এর বিরোধিতা করলেও তারা কোনও কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে। এই আইন যে বাক-স্বাধীনতার জন্যে ক্ষতিকর তা প্রত্যেক গণমাধ্যমেই এসেছে। মানুষ এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবেই। ফলে পরিবর্তন আসবে। তবে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে পরিবর্তন এলে আমরা যেন পিছিয়ে না পড়ি।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খুশি কবির বলেন, ‘আপনারা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না, যাতে দেশ পিছিয়ে পড়ে; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন বৃথা যায়।’

এসময় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাতে লেখা ছিল- ‘৫৭ বা ৩২ নয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই’, ‘আইন শাসকের ডান্ডাবেড়ী নয়’, ‘প্রকৃত গণতন্ত্র চাই’,  ‘সক্রিয়তাই নাগরিকের শক্তি’,  ‘আর কত নীপিড়ন?’, ‘শহীদুল আলমকে মুক্তি দাও’, ‘সরকারের সমালোচনা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়, নাগরিকদের দায়িত্ব’ ইত্যাদি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সাবেক ছাত্রনেতা লাকি আক্তার, সংগীতশিল্পী অরূপ রাহী, লেখক ও সম্পাদক রাখাল রাহা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স প্রমুখ।

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম