সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’র সুফল নেওয়ার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৪আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৭





ডা. দীপু মনি (ফাইল ছবি) ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ) সুবিধা পেতে হলে সঠিক বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘ভিশন-২০২১, এসডিজি লক্ষ্য অর্জন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ভিশন-২০৪১ অর্জন তথা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল নেওয়ার কোনও বিকল্প নেই।’

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, ‘একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সে দেশে একটি সুযোগের সৃষ্টি হয়। যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের উন্নতি সাধন করতে পারে। জনমিতির ভাষায়, এই অবস্থানকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যুগে প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক সময় অতিবাহিত করেছি। আমাদের হাতে আর সময় আছে মাত্র ১০ থেকে ১১ বছর।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কোনও গিফট নয়। এটি পেতে হলে সঠিক বিনিয়োগ দরকার। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে উল্টো এই সুযোগ বিপর্যয় হিসেবে দেখা দেবে। নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বেড়ে যাবে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাবে, খরচ বাড়বে, সঞ্চয় কমবে এবং বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়বে। ফলে কম লোক উপার্জন করবে, আর অধিক লোক তাদের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, একদিকে যেমন দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে তাদের মানবিক গুণাবলী ও সৃজনশীলতার বিকাশও ঘটাতে হবে। শিক্ষাঙ্গণ ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলে আমরা স্নাতক ও চাকরিদাতাদের পারস্পারিক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে দূরত্ব দূর করতে পারবো।’

শিক্ষাঙ্গণকে সন্ত্রাসমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আজ আমাদের কাছে স্পষ্ট যে, শিক্ষাঙ্গণকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ এবং যেকোনও ধরনের নির্যাতন, নিপীড়নমুক্ত রাখার বিকল্প নেই। আর এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও অভিভাবকদের সজাগ, সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন হয়ে ওঠে জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া চর্চার পীঠস্থান।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ আর পেট্রিক ডি জেফনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংস কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. এফআর থমাস জে. ও হারা সিএসসি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকার আর্চ বিশাপ এইচইএম কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও।

 

/এসএমএ/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম