কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা নেই, তবু প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি চেয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার। পদোন্নতি পেতে ওই পদের জন্য চাওয়া শর্তগুলো শিথিল করারও আবেদন করেছেন তিনি। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন বুলবুল আখতার।
দেশের প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ৩ বছরে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আর অনুমোদন না হওয়া খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন দুই বছর।কিন্তু বুলবুল আখতারের অভিজ্ঞতা মাত্র ৮ মাস ১০ দিন। প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকার পরও পদোন্নতি চাওয়ায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আবেদন যে কেউ করতেই পারেন। কিন্তু শুধু আবেদন করলেই হবে না, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পদোন্নতি দেওয়া যায় কিনা, অন্য কোনও দফতর এমন ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আমরা দেখবো। এছাড়া পদোন্নতি প্রাপ্য হলেও চাকরি জীবনের সমস্ত রেকর্ডপত্র না দেখে পদোন্নতি দেওয়া যায় না।’
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের গণপূর্ত অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতরের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা খসড়া বিধিমালায় প্রধান প্রকৌশলী হতে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ীও তার অভিজ্ঞতা এক বছর তিন মাস কম। কিন্তু এরপরও শর্ত শিথিল করে পদোন্নতির আবেদন করেছেন বুলবুল আখতার।
গত ২৮ জুলাইয়ের পদোন্নতির আবেদনে বলা হয়, ‘‘প্রধান প্রকৌশলীর পদটি নন-ক্যাডার এবং দ্বিতীয় গ্রেডভুক্ত। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ‘কর্মকর্তা-কর্মচারী (ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯৬’ -এর বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদটি অন্তর্ভুক্ত নেই। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ নতুন সৃষ্ট এই পদ অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান নিয়োগবিধিটি সংশোধনের জন্য সচিব কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত বিধিমালাটি সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। ওই খসড়া নিয়োগ বিধিমালায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ২ বছর চাকরির শর্ত রয়েছে। আমি ১৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে অদ্যাবধি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে ৮ মাস ১০ দিন চাকরিকাল সম্পন্ন করেছি।”
আবেদনে বুলবুল আখতার আরও বলেন, ‘আমার জন্ম তারিখ ২০ নভেম্বর, ১৯৬১। সে মোতাবেক আগামী ১৯ নভেম্বর আমার পিআরএল শুরু হবে। আমি ৬ জুন, ১৯৮৫ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করে ৩৫ বছর যাবৎ এই দফতরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে মাঠপর্যায়ে ও প্রধান কার্যালয়ে চাকরি করছি। দীর্ঘ ৩৫ বছর চাকরিকাল সম্পন্ন করা এবং এ অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ফিডার পদে চাকরিকাল ২ বছর পূর্ণ না হওয়ার কারণে আমি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এমতাবস্থায়, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ ইইডি’র খসড়া নিয়োগ বিধিমালার শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ২ বছরের ফিডার পদ পূর্ণ না হওয়ায় এক বছর তিন মাস ২০ দিন প্রমার্জনপূর্বক আমাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদানের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহোদয়ের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি।’
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতারকে। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পালন করছেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বুলবুল আখতারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি।








