আগামী ১ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব যথাযথভাবে পালনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রথম দফায় প্রাথমিকের তৃতীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭ কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৩৭৩টি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব বই সরবরাহের কাজ পেয়েছে দেশীয় ৯৮টি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৭৪৬ টাকা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির ১৯তম সভা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বই রয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৪১ লাখ। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা। প্রাথমিকের বইয়ের চাহিদা এখনও না এলেও গত বছরের চাহিদা ধরে প্রায় ১০ কোটি ৫৪ লাখ বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলে বিনামূল্যের প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানোর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। প্রাথমিকের সাড়ে ১০ কোটি বই ছাপাতে ৯৮টি লটে দরপত্র আহ্বান করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা একটা উৎসবমুখর পরিবেশে বই বিতরণ করে থাকি। এ বছরও আমরা সেটি করবো ইনশাআল্লাহ। এ জন্য সাত কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৩৭৩টি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৩২ কোটি ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৭৪৬ টাকা।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে এক হাজার ২২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৯৮ জনকে এসব বাই সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দরপত্রে কম দাম উল্লেখ করে তাদেরকেই কাজ দেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য যারা বই সরবরাহের কাজ পেয়েছে তাদের কাছে সিকিউরিটি মানি নেওয়া হচ্ছে ১০ শতাংশ। সিকিউরিটি মানি বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিলো কিন্তু সবকিছু বিবেচনা করে সেটি বাড়ানো হয়নি। আগেরটাই রাখা হয়েছে। আমরা আশাকরি সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মত বই সরবরাহ করবে।’
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) প্রথম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয় সরকার। ওইদিনই সারাদেশে বই উৎসব দিবস পালন করা হয়।








