সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে নির্ধারিত বেতন জটিলতার বিষয়টি সমাধান করছে না হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিস এক মাসেরও বেশি আগে পত্র দিলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যার মডিউলের সিস্টেমে শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টি সংযোজন (ইনপুট) দেওয়া হয়নি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ মডিউল অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের নিম্নধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে শিক্ষকরা নিজেদের বেতন নির্ধারণ করতে পারছিলেন না। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে সফটওয়্যার আপডেট করে অর্থ বিভাগকে এই সমস্যা সমাধান করতে অনুরোধ জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগ সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ মডিউলের সিস্টেমে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চধাপে মূল বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সংযোজন করতে সম্মত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিস হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চধাপে নির্ধারিত বেতন নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অপশন সফটওয়্যারে সংযোজন করার অনুরোধ জানায়। কিন্তু এক মাস হয়ে গেলেও তা করা হয়নি। ফলে অক্টোবর মাসের বেতন নির্ধারণ শিক্ষকরা জটিলতার শিকার হবেন।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (বিদ্যালয়) মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও চিঠি পাইনি। সোমবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও চিঠি আসেনি। ‘এ বিষয়ে খোঁজ-খবর করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই যুগ্ম-সচিব।
দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিলেন। এরপর ১৩তম গ্রেডে এসব শিক্ষকের বেতন নির্ধারণ করে সরকার। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির পর সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হয় নিম্নধাপে। কিন্তু গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের পর দেখা যায়, বিদ্যমান বেতনের চেয়ে শিক্ষকরা কম বেতন পাচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি তুলে ধরে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সমস্যার সমাধানে ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এতে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যার মডিউলে ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় ইনপুট থাকায় উচ্চতর গ্রেডে শিক্ষকরা বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি। এ বিষয়টি নজরে আনা হলে অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সফটওয়্যারে ইনপুট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আট মাস আগে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যার জটিলতার কারণে আজ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন করা যাচ্ছে না। সফটওয়্যার আপডেট করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ। আমরা আশা করবো দ্রুত এ বিষয়টির সমাধান হবে।’








