সোমবার ভোরে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল সম্প্রসারিত ভবনের বিভিন্ন অংশে অন্তত ৩৫-৪০টির মতো মারাত্মক ফাটলের দেখা দিয়েছে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রেহাই পেয়েছেন হলটিতে বসবাসরত প্রায় দুশ শিক্ষার্থী।
তবে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে ১৯৮২ সালে নির্মিত হলটি।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল খায়ের, প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা, প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, আল-বেরুনী হলের প্রভোস্ট ড. এ কে এম জসীম উদ্দীন, হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ ও প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবদুস সালাম মো. শরীফসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হল পরিদর্শন করে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলটিকে আপাতত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে।
হল পরিদর্শনের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা আলোচনা করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব। শিক্ষার্থীদের জান-মালের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
এদিকে সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হলটির ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (৮০০) ব্লকের উত্তর দিকের দেয়ালে প্রায় ২০ ফুট জায়গা জুড়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। খসে পড়েছে পলেস্তরা। এ ছাড়া ব্লকটির শিক্ষার্থীদের থাকার অধিকাংশ কক্ষেও দেখা দিয়েছে ভয়ঙ্কর ফাটল।
হলের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি মিলনায়তনের টিভির রুমের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালের ভেতরে ও বাইরে কয়েক ফুট জায়গাজুড়ে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
হলের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (১১০০) ও ইঞ্জিনিয়ার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন (১০০০) ব্লকের বেশ কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল চোখে পড়েছে।
বাদ যায়নি হলের মসজিদ, কমনরুম, গেস্টরুম, ডাইনিং রুম ও স্টাফরুমও। এসব কক্ষেও দেখা দিয়েছে বেশ বড় বড় ফাটল। এ ছাড়াও হলের ৬টি ব্লকের অধিকাংশ কক্ষে চিড় ধরেছে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মেফতাউর জামান বলেন, ভোরে ভূমিকম্প শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের ব্লকে ফাটল দেখা দেয়। আমরা ভয়ে রুমের বাইরে চলে আসি। আমাদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলের এক কর্মচারী বলেন, ১৯৮২ সালে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য মাত্র ২ মাসের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে হলটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই হলে সমস্যা লেগেই আছে। বারবার জোড়াতালি দিয়ে হল আর কতদিন চলতে পারে?
এ প্রসঙ্গে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব হলটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা উচিত।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল মূল ভবন, ফজিলাতুন্নেসা হল, জাহানারা ইমাম হল, ব্যাচেলর টিচার্স কোয়ার্টার, শিক্ষক ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, প্রকৌশল অফিস, পুরাতন কলা ভবন, জিমনেসিয়াম, শহীদ সালাম-বরকত ও কামালউদ্দীন হলের সম্মিলিত মসজিদসহ একাধিক ভবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড.এ কে এম আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনগুলো আসলে কতটুকু ভূমিকম্প সহনশীল তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা উচিত।
/এসএম/এফএ/আপ-এনএস/








