করোনাকালে ২০২১ সালের অনলাইন প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ‘দেশসেরা উদ্ভাবক’ নির্বাচিত হয়েছেন ৫ জন। নির্বাচিতদের মধ্যে দু’জন শিক্ষা অফিসার, একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং দু’জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রয়েছেন।
ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে উদ্ভাবক নির্বাচন অনুষ্ঠানে পাঁচ উদ্ভাবককে দেশসেরা হিসেবে মনোনীত করার পর শনিবার (১৫ মে) তা প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত উদ্ভাবক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের সার্বিক সহায়তা দেয় ‘এটুআই’।
দেশসেরা নির্বাচিতদের মধ্যে ‘করোনা তথ্য বাতায়ন’ আইডিয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের শিক্ষা অফিসার মো. শরিফ উল ইসলাম নির্বাচিত হন। এছাড়া ‘সৃজন’ আইডিয়ার জন্য সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের শিক্ষা অফিসার কিশোলয় চক্রবর্তী, ‘বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা (ডাটাবেস সফটওয়্যার) আইডিয়ার জন্য চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভূমিরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ সরোয়ার, ‘বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা (ডাটাবেস সফটওয়্যার)‘ আইডিয়ার জন্য দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান এবং ‘করোনাকালীন শিক্ষা, প্রতিযোগিতা ও আনন্দে’ শীর্ষক আইডিয়ার জন্য রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি সেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত হন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে আমরা শিক্ষক কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদের নীতিমালা অনুযায়ী দেশসেরা ৫ জন উদ্ভাবক নির্বাচন করা হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন আইডিয়া আমরা নিচ্ছি এবং তা বাস্তবায়ন করছি। এবার এই আয়োজনে অনলাইন প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
‘করোনা তথ্য বাতায়ন’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য ২০২১ সালের দেশসেরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের শিক্ষা অফিসার মো. শরিফ উল ইসলাম জানান, ‘ইনোভেশন’ আইডিয়া জমা দেওয়া হয়েছে ৪১টি। এর মধ্যে পাঁচজনের আইডিয়া দেশসেরা নির্বাচিত হয়।
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘‘আমার উদ্ভাবনী আইডিয়া ছিল ‘করোনাকালীন শিক্ষা, প্রতিযোগিতা ও আনন্দে’। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন এবং করোনাকালে আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছি। যারা আমাকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়েছেন এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে ইনোভেশন শোকেসিং ২০২১ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান।










