বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান ও মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট আয়ের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।
সোমবার (৩১ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন এই দাবি জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে করোনায় নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল গেইমসে আসক্ত হয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু বিদ্যালয় ত্যাগ করে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিলো ২৪ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদরাসা খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাখাতে ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো সেখানে কারিগরি ও মাদ্রাসায় ২টি বিভাগে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। যার কারণে মাদরাসা শিক্ষায় তেমন কোনও উন্নতি করা যায়নি। এমনকি ২০২০ সালে জারি হওয়া মাদ্রাসার নতুন সংশোধিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারেনি মাদ্রাসা অধিদফতর। তাই আসছে, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বাজেটে কারিগরি ও মাদ্রাসা- ২টি বিভাগের বাজেট ১৫ হাজার কোটি টাকা করার দাবিসহ বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, সরকারি নিয়মে মেডিক্যাল ও বাড়ি ভাড়া প্রদান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং মুজিব জন্মশতবর্ষে মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট আয়ের ২০ শতাংশ বরাদ্দের রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শান্ত ইসলামের সঞ্চালনায় এসময়ে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন স্বাচিব সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু। আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহসভাপতি ফকরুল ইসলাম, শাহ মাহমুদ কবির, আব্দুস সাকুর, সুরুজ্জামন, অর্থ সম্পাদক মেহেদি হাসান সরকার, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম, টাঙ্গাইল জেলা আহ্বায়ক কেএম শামিম, সদস্য সচিব মো. এলিন তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেহেদি হাসান, সোহরাব হোসেন, জসিম উদ্দীন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম, ইউসুফ ভূঁইয়া, ফিরোজ কবির, ভোলা জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক আব্দুল বারেক, মো. মনিরুজ্জান, কামরুজ্জামান প্রমুখ।









