অনলাইন পরীক্ষায় ঘোর আপত্তি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

আবিদ হাসান, ঢাবি প্রতিনিধি
২৯ জুন ২০২১, ১১:১৫আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ১১:১৫

গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল সভায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মহামারি পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে জুম অ্যাপে লাইভে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে চরম আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গ্রামে যারা আছেন, তাদের কথা হলো, জুমে ক্লাস করাই দায়। সেখানে পরীক্ষা নিয়ে দারুণ সমস্যায় পড়তে হবে তাদের। দুর্বল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুতের সমস্যা তো আছেই, কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কথাও চিন্তা করেনি।

এদিকে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মোবাইল কিনতে বিনাসুদে ঋণও দেওয়া হয়েছে অনেককে। পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের করানো হচ্ছে কর্মশালা। তৈরি করা হয়েছে অনলাইন পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালাও।

শিক্ষার্থীরা বলছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের সমস্যা রয়েছে। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা তো আছেই, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎও থাকে না। এতে মাঝপথে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেকের।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৈবুর রহমান সিফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন গ্রামে। তাদের অনেকেই অস্বচ্ছল। আধুনিক ডিভাইস, ওয়াইফাই বা দামি মোবাইল পর্যন্ত নেই। গ্রামে ফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল বলে মোবাইল ডাটা কিনেও তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেনি এ কয়দিন। সেখানে ভিডিও অন রেখে পরীক্ষা দেওয়ার চিন্তাটা অলীক কল্পনাই মনে হয়। আবার যাদের ওয়াইফাই আছে, তাদেরও দেখা যাবে হুট করে বিদ‍্যুৎ চলে গেছে। তখন তারা পড়বে আরেক বিপদে।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মারিয়াম আক্তার রুমি বলেন, ‘আমাদের যখন অনলাইনে ক্লাস হতো তখন দুই-তিনজনের বেশি থাকতে পারতাম না। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীরা তো ক্লাসই করতে পারতো না। তাদের জন্য অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া আকাশকুসুম ভাবনা। এর জন্য আট হাজার টাকা ঋণ মোটেই যথেষ্ট নয়। এই টাকায় অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার মতো মোবাইল কেনা যাবে না। আবার এই ঋণ নিতে এসেও খরচ হবে এক হাজার টাকার মতো। তাছাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা কীভাবে ঋণ শোধ করবে? তাদের তো এখন টিউশনির আয়ও নেই।’

ইংরেজি সাহিত্যের বিপ্লব আহমেদ অনু বলেন, ‘যেহেতু কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই চায় না, তাই অনলাইন পরীক্ষাই হয়তো একমাত্র পথ। কিন্তু আমাদের দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ আর আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা ডাটা কিনতে না পারলে এক ধরনের বৈষম্যমূলক অবস্থা তৈরি হবে। শতভাগ শিক্ষার্থী কিছুতেই অংশ নিতে পারবে না।’

২০১৯-২০২০ সেশনের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাফসীরুল্লাহ বলেন, ‘সশরীরে পরীক্ষাতেও আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। অনলাইনে পরীক্ষা হলে তো আরও কষ্ট বাড়বে। আমাদের জন্য অতিরিক্ত যে ১০ মিনিট বরাদ্দ থাকে, তাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।’

শিক্ষার্থীদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থক্ষুন্ন হয় এমন পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মহামারিকালে কিছুই চূড়ান্ত নয়, আবার সবই চূড়ান্ত। শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবার তাদের বাদ দিয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু করতে পারবে না। প্রয়োজনে পরীক্ষা পরে হবে। এখানে বাধ্যবাধকতা নেই।’

 

 

/এফএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম