ডিগ্রির তৃতীয় শিক্ষকদের ভাগ্য অর্থ বিভাগের হাতে

এস এম আববাস
১৪ আগস্ট ২০২১, ১০:০০আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ১০:০০

বেসরকারি কলেজের ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের কাছে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির পক্ষে সম্মতি দিলে তৃতীয় শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতার অংশ প্রাপ্য হবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দেবে। পুরোটাই এখন নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের ওপর।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘অর্থ বিভাগের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। এমপিওভুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে কী মতামত আসে তারও ওপর। ’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠায় মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগ। প্রস্তাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি স্তরের প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে দুজন শিক্ষক নিয়োগসহ এমপিওভুক্তির বিধান রয়েছে। অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধিভুক্তি সংক্রান্ত রেগুলেশন অনুযায়ী ডিগ্রি স্তরে প্রতি ঐচ্ছিক বিষয়ে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের বিধান আছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বেসরকারি কলেজের ডিগ্রি স্তরটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, ডিগ্রি স্তরে প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে অনুমোদন পেতে হলে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দু’জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। ফলে তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয় না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভূত সমস্যার কারণে শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ডিগ্রি স্তরের ১৫৩ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়। একই বছরের ২৮ আগস্ট ২০১০ সাল পর্যন্ত বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

২০১০ সালের পর বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সাড়ে আটশ’ তৃতীয় শিক্ষক এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এমন শিক্ষক আছেন প্রায় সাড়ে ৮শ’ জন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতার অংশ না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় শিক্ষকদের ২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশে এমপিওভুক্ত করা হয়। আদালতের এমন রায় থাকার পরও জনবল কাঠামোতে তৃতীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে যারা মামলা করেননি তারা এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেহেতু আদালতের নির্দেশে আগে তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্তি পেয়েছেন। তাই তৃতীয় শিক্ষককের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে অর্থ বিভাগ। এমপিওভুক্ত হলে জনবল কাঠামোতেও অন্তর্ভুক্ত হবে পদটি।

/এফএ/আপ-এনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম