ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের চতুর্থ বর্ষের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়গুলোর পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে দুই দফা দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন তারা। তাদের পেশকৃত দফা দুটি হলো- ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়গুলোর পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ফলাফল বিপর্যয়ের পর টিচার ও সমন্বয়ক স্যারের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে পুনঃনিরিক্ষণের আবেদন করি। কিন্তু দেড় মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও আমরা রেজাল্ট পাইনি। আর খাতা পুনর্মূল্যায়ন তো দূরের কথা রি-চেকেরও আভাস পাইনি। এমতাবস্থায় আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একজন আরেকজনের ঘাড়ে দোষ দেয়। এমনকি এর মধ্যে মাস্টার্সে ভর্তি নোটিশও দিয়ে দেয়।’
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা চার বছরের জায়গায় ছয় বছর পড়ছি। কোনও ক্লাস ছাড়া মাত্র ২০ দিনের নোটিশে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা রেজাল্ট দেওয়ার পর দেখা গেছে প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে গণহারে ফেল। তিন শ’ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন বা ২৫ জন পাশ করেছে। ফেল করার মতো পরীক্ষা আমরা দিইনি। আমাদের দাবি, হয় আমাদের পরীক্ষা খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে নয়তো দশ দিনের মধ্যে নোটিশ দিয়ে আমাদের আবার পরীক্ষা নিতে হবে।’
সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ওসমান গনী বলেন, ‘আমাদের ২০১৯ সালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ২০২১ সালে। চার বছরের কোর্সে ছয় বছর লেগে গেছে। তারপর ফলাফলে দেখা গেছে গড়ে সবাইকে একটা সাবজেক্টে ফেল করানো হয়েছে। ক্লাস না হলেও আমরা ফুল সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছি। আমাদের গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে ছয় বছর লেগে গেছে। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে এই সাত কলেজ থেকে মুক্তি চাই, খাতার পুনর্মূল্যায়ন চাই।’
আগামী ১০ দিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেওয়া না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘গণহারে ফেল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পরীক্ষার নামে প্রহসন, মানি না মানব না’, ‘হয় পুনর্মূল্যায়ন দাও, নয় বিষ’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় রাস্তায় গাড়ি চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।









