আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলে যাচ্ছে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবারের (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যে খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে রাজধানীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠান খোলার তোড়জোড়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব ঠিক রাখতে একটি বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থী বসার জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চারু ও কারুকলা বিষয়ের শিক্ষক স্মিতা দাস তুলি নিজ হাতে লাল বৃত্তাকার চিহ্ন এঁকে দিচ্ছেন বেঞ্চিতে। পুরো ক্লাসরুমে ইংরেজি জেড অক্ষরের আদলে আসন বিন্যাস করে চিহ্নিত করছেন তিনি।
স্মিতা দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শারীরিক দূরত্ব ঠিক রেখে বেঞ্চিতে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা চিহ্নিত করতে লাল বৃত্ত এঁকে দিচ্ছি। চিহ্নিত স্থানে বসবে শিক্ষার্থীরা, যাতে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব ঠিক থাকে।
উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের দুই থেকে তিনটি পর্যন্ত ভাগ করে দেওয়া হবে। আশা করছি কোনও সমস্যা হবে না।
একই প্রস্তুতি চলছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। প্রতিষ্ঠানটিতে মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। একই সঙ্গে চলছে খোলার প্রস্তুতি।
অনুষ্ঠানে আসা দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম সাদেক চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল থেকে ট্রান্সফার নিয়ে সে ২০২০ সালে ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিতে। এখন সে দশম শ্রেণির ছাত্রী। ভর্তি হয়েও গত দেড় বছরে একদিনও সরাসরি ক্লাস করা হয়নি তার। ভর্তির পর প্রথমবার এসেছেন নিজ প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে।
শুধু তাসনিম নন, রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনেকেই এসেছেন ক্যাম্পাসে।
বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রিয় প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসার মূল ক্যাম্পাসে বসুন্ধরা শাখা থেকে এসেছেন সপ্তম শ্রেণির সামিন মাহজাবিন। বা ও মা দুজনেই এসেছেন তার সঙ্গে। সামিন মাহজাবিন বলেন, ‘বিদ্যালয় খুলবে এটি শুনেই ভালো আনন্দ হচ্ছে। আমি এসেছি বসুন্ধরা শাখা থেকে। রচনা প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছে আজ তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে।’
শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘প্রস্তুতি নেওয়া আছে। কোনও সমস্যা হবে না। অনেক শিক্ষার্থী হলেও আমাদের অনেক গেট রয়েছে। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্রীরা ঢুকতে ও বের হতে পারবে।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোলার প্রস্তুতিতে অনেকটা সময় পার করতে দেখা গেছে সংশ্লিষ্টদের।









