গোপালগঞ্জের রামদিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রের দুই কক্ষে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ওই দুই কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার পরীক্ষার প্রথম দিন ওই কেন্দ্রের দু’টি কক্ষে ২০১৪ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী করা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র (বাংলা ১ম পত্র) ৭৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়। নতুন ২০১৬ সালের সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরা এ প্রশ্ন পেয়ে ওই কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানান।
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান।
ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সিঙ্গা কেসিপিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সঞ্চারী বিশ্বাস জানান, পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র পেয়েই আমরা কর্তব্যরত শিক্ষককে জানাই। কিন্তু তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। প্রশ্ন কমন না পড়ায় এখন পাস করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
গোপালগঞ্জ শহরের হাজি লাল মিয়া সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়ে ওই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। প্রশ্ন কমন না পড়ায় তার পরীক্ষা ভাল হয়নি। আমরা তার ভালো রেজাল্ট নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি।
এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব মো. জইন উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেন্দ্রের ২৪১ ও ২৪২ নং কক্ষে এ সমস্যা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ‘সর্টিং’ করার সময় এ ঘটনা ঘটে যায়। তবে পরীক্ষার্থীরা যখন অভিযোগ করেছিল তখন কক্ষের শিক্ষককের উচিত ছিল বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো।
কাশিয়ানী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব মো. জইন উদ্দিনসহ ওই দু’টি কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ছবি রানী ব্যানার্জী, গুরূপদ হীরা, আজিজ বিন খোরশেদ, পার্থ বিশ্বাস ও সুজন মন্ডলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন কেন্দ্র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় পরীক্ষা কেন্দ্রের ৭১ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাও ২০১৪ সালের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে গ্রহণ করা হয়েছে বলে গোপালগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
/বিটি/এইচকে/







