পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব, উন্মুক্ত দরপত্রে অনীহা

এস এম আববাস
২৭ মে ২০২২, ১৪:২১আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ১৫:১৭

২০১০ সালের রুগ্ন প্রকল্প শেষ না করে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ প্রকল্প থেকে সম্প্রতি এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। কেনাকাটার প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বিধিমালা মানা হয়নি। প্রস্তাব ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) বা উন্মুক্ত দরপত্রের বদলে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনাকাটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

‘শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজসমূহের উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’  প্রকল্পে গত বছরের ৫ হাজার ২০০ টাকা দরে কেনা একটি হাইবেঞ্চের দরপ্রস্তাব এবার এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩৭০ টাকা। হিসেবে অনুযায়ী প্রতিটি হাইবেঞ্চ ৫ হাজার ৮০০ টাকা বেশি।  একইভাবে সিটবেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার ও আলমিরাতেও বেশি ব্যয় ধরা। প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ওপেন টেন্ডার মেথডের (ওটিএম) এর বদলে ডিরেক্ট প্রকিউরম্যান্ট মেথড (ডিপিএম) বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনাকাটার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ থাকে বেশি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের এই প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের আগস্টে। এটির মেয়াদ রয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বিভিন্ন জটিলতা ও প্রকল্প পরিচালকের অদক্ষতায় প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে রুগ্ন প্রকল্পে পরিণত হয়েছে এটি। এরপরও প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করার বদলে জড়িয়ে পড়ছেন আর্থিক দুর্নীতিতে। সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের কেনাকাটা প্রতিযোগিতামূলক ওটিএম পদ্ধতিতে না করে প্রকল্প পরিচালক ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার প্রস্তাব করেন।

একক উৎপাদক এবং সরকারি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে মালামাল কেনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন এমন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারি কলেজের আসবাবপত্র ক্রয় করতে যাচ্ছেন যারা  আসবাবপত্র উৎপাদনে জড়িত নয়। ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তারা জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জড়িত। আসবাবপত্র উৎপাদনের সঙ্গে নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান যারা কলেজের আসবাবপত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাদের নিজস্ব আসবাবপত্র তৈরির কারখানা রয়েছে। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করর্পোরেশনের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আসবাবপত্র কেনার সুযোগ রয়েছে।

ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড তাদের দরপ্রস্তাবে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যৌথভাবে আসবাবপত্র সরবরাহের কাজটি সম্পাদন করবে বলে উল্লেখ করেছে। যা সরকারি ক্রয় বিধিমালার পরিপন্থী।

এছাড়া প্রকল্প পরিচালক আসবাবপত্র ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটিকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন। নতুন কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের কোনও প্রতিনিধি রাখা হয়নি। প্রকল্পে এখনও প্রায় ৫০ কোটি টাকার আসবাবপত্র কেনা অবশিষ্ট রয়েছে। পর্যাপ্ত সময় থাকার পরও প্রকল্প পরিচালক ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে না গিয়ে সরাসরি পদ্ধতিতে আসবাবপত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়।  ওপেন টেন্ডার মেথডে কাজ পায় সুসিতা এন্টারপ্রাইজ। তারা প্রতিটি হাইবেঞ্চের দাম নেয় ৫ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু চলতি বছর ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের দরপ্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে একটি হাইবেঞ্চের দর দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩৭০ টাকা।  এক হাইবেঞ্চেই দরের পার্থক্য ৫ হাজার ৮০০ টাকা। একইভাবে একটি সিটবেঞ্চের দরের পার্থক্য ৪ হাজার ৭০০ টাকা। প্রকল্পভুক্ত সরকারি কলেজের জন্য এমন হাজার হাজার হাইবেঞ্চ, সিটবেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, আলমিরা ইত্যাদি কিনতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওটিএম পদ্ধতিতে আসবাবপত্র কিনে বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।  তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ওটিএম পদ্ধতিতে মালামাল কেনায় অগ্রাধিকারও দিয়েছে সরকার। তারপরও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের এমন পদক্ষেপ দুর্নীতিকেই উৎসাহিত ও অর্থের অপচয় হবে  বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ডিপিএম-এ কেনাকাটা করবো না। যদি ডিপিএম পদ্ধতিতে কিনতে হয় তাহলে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করর্পোরেশনের মাধ্যমেই কেনা হবে।’

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ।  জুনে মেয়াদ শেষ হবে। ২৬টি ভবনের মধ্যে ১১টি ভবন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ভবনের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এসব ভবনের লিফট, জেনারেটর এবং ফার্নিচার সরবরাহ করতে হবে।  সে কারণেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।’

/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম