এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পঞ্চম দিনেও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোটের ব্যানারে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। সারাদেশ থেকে আসা প্রায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মঙ্গলবার শিক্ষকরা তাদের জানান, আইএলও এবং ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু সরকার শিক্ষা খাতে খরচ করছে মাত্র ২ শতাংশ, যার জন্য আইএলও এবং ইউনেস্কো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
তারা জানান, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ভারতসহ বিশ্বের কোনও দেশে বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো বেতন বৈষম্য কোথাও নেই। সরকারের পক্ষ হতে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নেই। অথচ শিক্ষার উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক টাকা অপচয় করা হয়। গত ১৯ বছর ধরে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন, যা অমানবিক ও দুঃখজনক।
শিক্ষকদের জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে নীতিমালার পরিবর্তন করলে অনায়াসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা সম্ভব।
তারা বলেন, সারাদিন শিক্ষক ও কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসকাবের সামনে ধূলা-ময়লাযুক্ত রাস্তার অবস্থান করার কারণে তাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আরিজী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, আবু রায়হান, জি. এম শাওন, ইমরান হোসেন ও আবুল বাশার, মো. শাহ আলম প্রমুখ।









