বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সংস্কার প্রস্তাব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২২ অক্টোবর ২০২৪, ২১:০৯আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ২১:০৯

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের উন্নয়নে ১৩ দফা সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ইউজিসি ভবনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সমিতির নেতারা।

বৈঠকে চেয়ারম্যানকে জানানো হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের উন্নয়নে সংস্কার করা হলে সম্ভাবনাময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি বিদ্যমান কিছু সমস্যার যথাযথ সমাধান এবং সরকারি সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি দেশের জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে অধিক সক্ষম হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আগারগাঁও ইউজিসি ভবনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে ইউজিসি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির ট্রেজারার মঈন উদ্দিন চিশতী, সদস্য কাইয়ূম রেজা চৌধুরী, ফরিদ হাবিব, তামারা আবেদ, জাভেদ হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।

সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির নেতারা বলেন, উল্লিখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। সমিতি সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে সভার উল্লেখ করা হয়।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অদ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, পরিবর্তী সময়ে নতুনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কাজ করবে। যার সুফল সবাই পাবেন। উল্লিখিত সমস্যাবলির বেশিরভাগের যৌক্তিক সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কাজ শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান তথা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণাসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ ও অবদান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন, সক্ষমতা নিরূপণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন কোর্সের চাহিদা ও অনুমোদন করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

১৩ দফার প্রস্তাবনা

১. অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স রহিতকরণ: ক্রয়কৃত উপকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জমি ক্রয় এবং ক্যাম্পাস ভাড়ার ওপর আরোপিত সব ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২. পিএইচডি প্রোগ্রাম ও গবেষণার অনুমোদন: সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর অনুমতি প্রদান এবং গবেষণার অ্যাকাডেমিক ক্রেডিট অন্তর্ভুক্ত করা।

৩. দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদী বিশেষায়িত কোর্স চালুর অনুমোদন: শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম তৈরি এবং স্বল্পমেয়াদী কোর্স চালু করা।

৪. গবেষণায় অর্থায়ন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য সরকারি তহবিল বরাদ্দ এবং উৎকর্ষতা অর্জনকারী শিক্ষকদের স্বীকৃতি প্রদান করা।

৫. র‌্যাঙ্কিং ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ: অ্যাকাডেমিক মান উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য একটি স্বচ্ছ র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।

৬. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: নতুন প্রোগ্রাম, শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া সহজ করা।

৭. সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা: সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।

৮. স্বায়ত্তশাসন ও অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্তশাসন ও অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা প্রদান করা।

৯. ইউজিসি’র আধুনিকীকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: ইউজিসি’র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

১০. ভিসি, প্রোভিসি এবং ট্রেজারার নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা:  যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব।

১১. উচ্চশিক্ষাকে অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা: শিক্ষার উন্নয়নে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা।

১২. শাখা ক্যাম্পাস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি প্রদান।

১৩. ক্যাম্পাস নির্মাণে সহায়তা: ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা।

/এসএমএ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
ঈদের ছুটির দিনেই পরীক্ষা, বিতর্কে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
ইউজিসির সদস্য হলেন ঢাবির অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
পুকুরে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম