গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অভিন্ন নীতিমালা হচ্ছে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৫ আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৫

শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি অভিন্ন চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে দেশের ১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে অংশীজন সংলাপ করেছে কমিশন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি ভবনে আয়োজিত এ সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে নীতিমালা অনুসরণ করা হলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও নীতিমালা নেই। এ বাস্তবতায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে এই ফ্রেমওয়ার্ক সরাসরি অনুসরণ করতে পারে। আবার এই ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে নিজেদের প্রয়োজন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক নীতিমালাও প্রণয়ন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।’’

নীতিমালা প্রণয়নের আগে ইউজিসির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘‘এসব কর্মশালা ও সেমিনার থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের পাশাপাশি উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের পর নীতিমালাটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় উপস্থাপন করে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।’’

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, ‘‘শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চৌর্যবৃত্তি গবেষণার মৌলিকত্ব ও গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।’’

তিনি বলেন, ‘‘গবেষণায় নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকা অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি গবেষণায় নৈতিকতা, সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।’’

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, ‘‘একটি অভিন্ন কাঠামো থাকলে গবেষণার নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার গুণগত পরিবেশ উন্নয়ন এবং গবেষণামুখী জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’

অংশীজন সংলাপে প্রস্তাবিত নীতিমালার পটভূমি ও উদ্দেশ্য, চৌর্যবৃত্তির ধরন ও সংজ্ঞা, চৌর্যবৃত্তি শনাক্তকরণ, অভিযোগ উত্থাপন ও তদন্ত, দায় নির্ধারণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, শাস্তির বিধান এবং আপিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন অংশীজনেরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

এ ছাড়া ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক দুর্গা রানী সরকার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোছা. জেসমিন পারভীনসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে খসড়া চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালার বিভিন্ন দিক ও প্রস্তাবিত কাঠামো তুলে ধরেন ইউজিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ ও সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ।

/এসএমএ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
এবার উচ্চশিক্ষার জন্য টিভি চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণায় জোর দিতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
হিট প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন অধ্যাপক রাকিবুল হক
সর্বশেষ খবর
রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন, প্রস্তুত ১৮৫ কেন্দ্র
রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন, প্রস্তুত ১৮৫ কেন্দ্র
উচ্চ বেতনে চীনে নেওয়ার কথা বলে বাসায় আটকে নির্যাতন, উদ্ধার ১২ নারী
উচ্চ বেতনে চীনে নেওয়ার কথা বলে বাসায় আটকে নির্যাতন, উদ্ধার ১২ নারী
আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর উদ্বেগ
আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর উদ্বেগ
বিদেশ সফরে দেশ নির্বাচনে কী প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 
বিদেশ সফরে দেশ নির্বাচনে কী প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী