চির অন্তরালে চলে গেলেন ‘অন্তরালের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্লেব্যাক শিল্পী মার্নি নিক্সন।
রবিবার ৮৬ বছর বয়সী এ শিল্পী না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ম্যানহাটনে মার্নির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার শিক্ষার্থী ও বন্ধু রান্ডি বানার। মার্নি বেশ কিছুদিন ধরে স্তন ক্যানসারে ভুগছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১৯৫০-৬০ এর দশকজুড়ে হলিউডের সাড়াজাগানো গীতিনাট্যগুলোতে মার্নির সুরের সঙ্গে ঠোঁট মেলাতেন তারকারা। তবে এ কাজের জন্য সাধারণত তিনি কোনও স্বীকৃতি পেতেন না। পর্দার অন্তরালে থেকেই কাজ করেছেন মার্গারেট নিক্সন।
‘দ্য কিং অ্যান্ড আই’ ছবিতে দেবোরাহ কের, ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’-তে নাতালি উড এবং ‘মাই ফেয়ার লেডি’ ছবিতে অড্রি হেপবার্ন-এর হয়ে তার কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল। এছাড়া এমন আরও অনেক গীতিনাট্যেই হলিউড তারকার হয়ে তার কণ্ঠস্বর সবাই শুনতেন। কিন্তু হলিউডে যাত্রা শুরুর আগে এবং এর পরে আরও বেশ কিছুদিন কনসার্ট শিল্পী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন মার্নি।
মার্নি নিক্সনের পুরো নাম মার্গারেট নিক্সন ম্যাকিয়াথ্রন। চার বছর বয়সে ভায়োলিন বাজানো শুরু করেন তিনি। ছয় মাস পর কার্ল মোলদ্রেমের ‘হলিউড বেবি অর্কেস্ট্রা’তেও তার ভায়োলিন বাজানো শুরু হয়। ১১ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলসের কাউন্টি ফেয়ারে আয়োজিত এক সংগীত প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে নেন মার্নি। এরপর ভায়োলিন বাজানো ছেড়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
একই বছর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় তার। এ পর্যায়ে ‘উচ্চারণ করা কঠিন’ উল্লেখ করে নিজের ডাকনামটি ছোট করে ফেলেন তিনি। নিক্সন বলেন, ‘স্কুলের বাচ্চারা আমাকে ম্যাক-আর্থওয়ার্ম বলে ডাকতো’।
ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়জুড়েই অপরিচিত থেকেছেন মার্নি। মার্কিন ফিল্ম স্টুডিও টুয়েনটিথ সেঞ্চুরি ফক্স তার সঙ্গে একটি চুক্তি করে। চুক্তিতে বলা হয়, `দ্য কিং অ্যান্ড আই’তে তিনি যে কণ্ঠ দিয়েছেন তা যেন কখনও প্রকাশ করা না হয়। তবে একটি সংবাদ সম্মেলনে কের নিজেই মার্নির প্রশংসা করায় সে তথ্যটি ফাঁস হয়ে যায়। দ্য কিং অ্যান্ড আইতে আনা চরিত্রের জন্য অস্কার মনোনয় পেয়েছিলেন কের। আর ওই ছবিতে কাজের জন্য মার্নি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ৪২০ ডলার। অবশ্য ১৯৬৫ সালে ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’ গীতিনাট্যটির মধ্য দিয়ে পর্দায় আবির্ভূত হয়েছিলেন মার্নি। আমেরিকান সংগীত জগতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে পীবডি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস
/এফইউ/এম/



