টিএসসি থেকে টরন্টো- প্রায় সর্বত্রই চলছে লাকী বন্দনা। মানে তাকে ফেরানোর আকুতি। এদিকে খবর মিলেছে, শহরের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই কিংবদন্তির মুখে হাসি ফিরেছে!
রবিবার বিকাল নাগাদ বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানালেন লাকীর কন্যা মাম্মিন্তি। এ যেন ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের চলমান উদ্যোগ আর ভালোবাসারই প্রতিধ্বনি।
মাম্মিন্তি বললেন, ‘দুই একদিন ধরে বাবার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বেশ উন্নতি লক্ষ করছি। বিশেষ করে, এতদিন মন খারাপ করে শুয়ে থাকলেও আজ থেকে তিনি উঠে বসছেন, হাঁটতে চাইছেন এবং কথাও বলছেন। সর্বোপরি তার মুখে হাসি ফিরেছে। সেই হাসি আমাদের প্রাণেও ছড়িয়েছে। সবার দোয়া প্রত্যাশা করছি আবারও।'
এদিকে গেল সপ্তাহের শেষ দুই দিন (১৬-১৭ আগস্ট) বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধার জন্য আয়োজন করা হয়েছে বড়সড় একটি কনসার্ট। ‘ট্রিবিউট টু স্যার লাকী আখান্দ’ নামের এই কনসার্ট আয়োজন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি। যেখানে গান গেয়েছে ৩০টিরও বেশি ব্যান্ড। অংশ নিয়েছে অসংখ্য লাকী ভক্ত। লাকী আখান্দের চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হাত বাড়িয়েছেন সবাই। আয়োজকরা সংগ্রহ করেছেন প্রায় তিন লক্ষ টাকা। যা শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে লাকীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তবে তার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনে ভীষণ খুশি হয়েছেন এই কিংবদন্তি।
তারও আগে লাকীর সুচিকিৎসার লক্ষ্যে কানাডার টরেন্টোতে উদ্যোগী হয়েছেন আর্ক ব্যান্ডের স্রষ্টা আশিকুজ্জামান টুলু। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘লাকী ভাইয়ের জন্যে’ শিরোনামের এই আয়োজনেও ছিল গান আর লাকী আখান্দকে নিয়ে স্মৃতি। প্রবাসীরা সেই কনসার্টে এসে সাড়ে ছয় লাখ টাকার যোগান দিয়েছেন। যা এর মধ্যেই পৌঁছে গেছে ঢাকায়।
এদিকে লন্ডনের অক্সফোর্ড হাউজে আসছে ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ‘আর্টিস্ট ফর আর্টিস্ট’ শিরোনামের কনসার্ট। এতে লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসী শিল্পীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় কয়েকজন শিল্পী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া দেশের সংগীতাঙ্গনের শিল্পী সবসময় যোগাযোগ রাখছেন লাকীর সঙ্গে। গত সপ্তাহেই সাবিনা ইয়াসমিন, আলাউদ্দিন আলী, রফিকুজ্জামান, আবিদা সুলতানা, শওকত আলী ইমন, আসিফ ইকবালসহ অনেকেই তার সঙ্গে দেখা করে তাকে সাহস যুগিয়েছেন। তার আরোগ্য কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলা গানের অন্যতম শিল্পী লাকী আখান্দ দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ক্যানসারে ভুগছেন। ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে এ বছর ২৫ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল তার। এই জুনে আবারও কেমোথেরাপির জন্য ব্যাংকক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যেতে পারেননি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মূলত আর্থিক সংকটের কারণেই চিকিৎসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন এই কিংবদন্তি।
/এমএম/এম/



