X
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
১৯ মাঘ ১৪২৯
‘ডুব’ প্রসঙ্গে রোকেয়া প্রাচী

‘শুটিংয়ে আমি যা দেখেছি, সেটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনেও ঘটেছে’

মাহমুদ মানজুর
১৬ নভেম্বর ২০১৬, ১৮:২৩আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৬, ০২:২৬

‘ডুব’ নিয়ে খুব লুকোচুরি হচ্ছে। চলছে ‘বিভ্রান্তি’র খেলা! বাড়ছে ক্ষোভ। কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদ, মেধাবী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কিংবা আন্তর্জাতিক তারকা ইরফান খানদের সঙ্গে বিষয়গুলো বড্ড বেমানান- মনে করছেন সিংহভাগ। অথচ ভারত হয়ে বাংলাদেশ, ফারুকী থেকে শাওন- সবাই যেন ঢিল ছুঁড়ে যাচ্ছেন অন্ধকারে। মুখ ফুটে কেউ বলছেন না- ‘ডুব’ নামে আসলে হচ্ছেটা কী?
তবে এবারই প্রথম দায়িত্বশীল কেউ একজন বলেছেন। মুখ খুলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে। 
পড়ুন ‘ডুব’-এর অন্যতম অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর অভিজ্ঞতা এবং প্রতিক্রিয়া।
রোকেয়া প্রাচী বাংলা ট্রিবিউন: যাই বলেন না কেন বিদেশি সিরিয়ালকেন্দ্রিক নানা আলোচনার পরও আপনিই এখন মিডিয়া স্পট লাইটের নিচে জ্বলজ্বল করছেন। চলচ্চিত্র ‘ডুব’ ও ভারতীয় ‘উড়োজাহাজ’ সঙ্গে আছে প্রসূন আজাদ বিতর্ক। তার নানা ব্যাখ্যা হয়তো আছে। আপনি কী ভাবছেন?
রোকেয়া প্রাচী: এক অর্থে হয়তো ঠিক। কিন্তু এমন কিছু আমি সত্যি চাইনি! ঝুট-ঝামেলার বাইরে আজীবন নিজেকে রাখতে চেয়েছি। এখনও সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে আমার পক্ষ থেকে।
বাংলা ট্রিবিউন: বরাবরই অভিনয়ে কম ছিলেন। তবে ইদানীং একটু বেশিই কম মনে হচ্ছে।
রোকেয়া প্রাচী: ডিসেম্বর থেকে আরও কমে যাবে। আসলে ডিসেম্বর থেকে নতুন কোনও কাজই করছি না। শুটিং চলছে দুটি সিরিয়াল। একটি এসএটিভির ‘পরম্পরা’। অন্যটি আনন্দ টিভির জন্য ‘তবুও ভালোবাসি’। এই দুটোর শুটিং এখন মাসে মাত্র পাঁচদিন করছি। ডিসেম্বর থেকে এ দুটোর কাজও সাময়িকের জন্য গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।
বাংলা ট্রিবিউন: তবে কী নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন! এই স্পটলাইট আর ভাল্লাগছে না? নাকি ডিরেকশনে আরও মনঃসংযোগ ঘটাচ্ছেন?
রোকেয়া প্রাচী: না না। এর কোনওটাই নয়। আরও উন্নততর অভিনয়ের জন্যই খানিক বিরতি নিচ্ছি। একটা চরিত্রের জন্য নিজের প্রস্তুতিও বলতে পারেন। আর পরিচালক হিসেবে বছরে সর্বোচ্চ তিনটা কাজই করি। সেটা এরমধ্যে করে ফেলেছি। তিনটি টেলিফিল্ম বানিয়েছি। ফলে এ বছর আর নির্দেশনা নিয়ে ভাবছি না।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কিন্তু সরাসরি কিছু বলছেন না।

রোকেয়া প্রাচী: বলছি। ভারতের গুণী নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবিতে কাজ করছি। মূলত এই ছবির জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করবো ডিসেম্বর থেকে। শুটিং শুরু হচ্ছে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে। প্রত্যাশা করছি, এই ছবির কাজ শেষ করার আগে আর নতুন কোনও কাজ করবো না। কারণ, আমি এই কাজটি সিরিয়াসলি করতে চাই। যে চরিত্রটি পেয়েছি সেটা বেশ গুরত্বপূর্ন।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে ‘ডুব’ থেকে উঠেই ‘উড়োজাহাজ’-এ ভাসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সন্দেহ নেই, অভিনেত্রী হিসেবে আপনি মেধাবী। তবে ভাগ্যবানও বটে।
রোকেয়া প্রাচী: মেধাবী কিনা জানি না। তবে আমি সর্বোচ্চ সততা নিয়ে যেকোনও কাজ করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, এটা সত্যি- আমি ভাগ্যবান। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর মতো মানুষের ডাক পাওয়া ভাগ্যেরই বিষয়। কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ছবিটির গল্প-চরিত্র প্রসঙ্গে কিছু বলা যায়?
রোকেয়া প্রাচী: গল্পটা প্রসঙ্গে আগাম বলতে চাই না। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করছি। অল্প কয়টা চরিত্র থাকবে। পাণ্ডুলিপির কাজ চলছে। হাতে পেলে পুরোটা বলতে পারবো। তবে মুখে যতটুকু শুনেছি- আমি খুশি।

বাংলা ট্রিবিউন: এটা কি যৌথ প্রযোজনার? সেটাই তো চলছে এখন।
রোকেয়া প্রাচী: আমি আসলে নিশ্চিত না। কাইন্ড অব জয়েনভেঞ্চার, মে বি।

বাংলা ট্রিবিউন: এ পর্যন্ত আপনার ক্যারিয়ারের অন্যতম ছবি ‘ডুব’। সহশিল্পী হিসেবে গ্লোবাল তারকা ইরফান খানকে পেয়েছেন। নির্মাতা হিসেবেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাম-ডাক ভালো। বছরের বড় মিডিয়া মাইলেজটাও এসেছে এখান থেকেই। অভিজ্ঞতা কেমন?
রোকেয়া প্রাচী: আন্তর্জাতিক মানের একজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি। আমার জন্য ভালো একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভালো লেগেছে ইরফানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পেরে। অভিজ্ঞতা বলতে, সে অনেক ডেডিকেটেড, অনেক সুশৃঙ্খল। আসলে এসব গুণ ছাড়া তার মতো বড় মাপের শিল্পী হওয়া যায় না। সেগুলো খুব কাছ থেকে দেখলাম। ইরফান খান যেভাবে কাজ করেন সেটা আসলে দেখার বিষয় শেখারও বিষয়।

বাংলা ট্রিবিউন: একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কোনও কমেন্ট পেয়েছেন ইরফানের কাছ থেকে?
রোকেয়া প্রাচী: আসলে একসঙ্গে কাজ করেছি, ভালোই লেগেছে। মনে হয়েছে সহশিল্পী হিসেবে আমার কাজটাও তার ভালো লেগেছে। এটুকুই। আমার অভিনয় ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন: এতে আপনি তার প্রাক্তন স্ত্রী হিসেবেই কাজ করেছেন। যতদূর জানা গেছে-
রোকেয়া প্রাচী: জ্বি। আসলে গল্পটা তো এক্স ওয়াইফ দিয়ে শুরু হয়নি। শুরুই হয়েছে আমরা একটা সুখী ফ্যামেলি। আমাদের একটা ছেলে একটা মেয়ে। আমার মেয়ে তিশা কলেজে পড়ে। তার কলেজ বান্ধবী আবার পার্ণো মিত্র। ফ্যামেলির মধ্যে একটা সময় কনফ্লিক্ট তৈরি হয় এই পার্ণোকে ঘিরে। ‘ডুব’ ছবির আসরে ইরফান খানের সঙ্গে রোকেয়া প্রাচী, তিশা ও পার্নো মিত্র

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার স্বামী ইরফান খানের চরিত্রটি কেমন? ডিরেক্টর মে বি…
রোকেয়া প্রাচী: তার নাম জাভেদ হাসান। সে নট অনলি ডিরেক্টর, সে বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় রাইটার অ্যান্ড ডিরেক্টর হিসেবে এখানে অভিনয় করেছেন। ঢাকার অদূরে তার একটি বাংলোবাড়ি আছে। যেখানে তিনি তার নাটক-সিনেমার শুটিং করেন। এবং আমার মনে হয়, ইরফান খান এই চরিত্রে বেশ ভালো করেছেন; শুটিংয়ে যতদূর দেখেছি।


বাংলা ট্রিবিউন: দেশের মিডিয়া তো আসলে কিছু জায়গায় মাধ্যমহীন। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম যতটুকু বলছে- এখানে আপনি সম্ভবত গৃহিনি চরিত্রে অভিনয় করেছেন-
রোকেয়া প্রাচী: হুম, আমি এখানে হাউজওয়াইফ থাকি। একটা সময় যখন আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়, আমার মেয়ের বান্ধবীকে যখন জাভেদ হাসান বিয়ে করে ফেলেন তখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমি স্কুলের শিক্ষক হই। তারপর উনি তো (জাভেদ হাসান) মারা যান- গল্পটা এভাবেই শেষ হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: ভারতীয় মাধ্যম হলফ করেই বলছে- এটা আসলে হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটা অংশ নিয়ে তৈরি। যেখানে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের চরিত্রে পাওয়া যাচ্ছে আপনাকে। যদিও পরিচালক ফারুকী এখনও সরাসরি এই বিষয়ে কিছুই বলছেন না। আপনিও কি তেমনই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ উত্তরই দেবেন?

রোকেয়া প্রাচী: প্রথমত এখানে এত লুকোচুরির কিছু নেই। আমি যা বলবো সরাসরিই বলবো। আমি আসলে এখানে মায়া চরিত্রে অভিনয় করেছি। গুলতেকিন আহমেদকে ফলো করে করিনি। তার সঙ্গে আমার কোনও পরিচয়ও ছিল না। তবে আমার চরিত্রে যেটা ছিলো সেটা হচ্ছে, আমি একজন রাইটার-ডিরেক্টরের ওয়াইফ। আমাদের অনেক অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। প্রেম করেই বিয়ে করেছি আমরা। আমার স্বামীর জীবনে আরেকটা মেয়ে আসে। যে কিনা আমাদের মেয়েরই কলেজ বান্ধবী। জাভেদ হাসান চরিত্রে ইরফান

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি যে চিত্রনাট্য বলছেন- সেটা কিন্তু অনেক জানা-শোনা গল্প। যা প্রায় হুবহু ঘটেছিল দেশের নন্দিত কথাসাহিত্যিক-নির্মাতার জীবনে…
রোকেয়া প্রাচী: অবশ্যই। এই গল্পটা আমাদের প্রায় সবারই জানা। কারণ হুমায়ূন আহমেদ আমাদের কাছে অনেক আইকনিক একজন মানুষ। ফলে তার প্রায় সব খবরই আমাদের চোখ-কানে লেগে আছে। তার জীবনের প্রায় সবকিছুই আমাদের কাছে ওপেন সিক্রেট। তিনি নিজেও তার অনেক গল্প লিখে গেছেন। সে হিসেবে আপনি আমি বলতেই পারি- ‘ডুব’-এর যে গল্পটি শুটিং পর্যন্ত আমি যা দেখেছি, জেনেছি- সেটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনেও ঘটেছে। এখন ফারুকী সাহেব হুমায়ূন আহমেদের সেই জীবনকে ফলো করে ছবিটি বানিয়েছেন কিনা- সেটা আমি বলতে পারবো না। এটুকু বলতে পারি- হ্যাঁ, ‘ডুব’-এর গল্পটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনে প্রায় হুবহু ঘটেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: যখন শুটিং করছিলেন তখন এই প্রশ্নগুলো কি আপনার মনে জাগেনি? অথবা আপনারা ‘ডুব’ ইউনিটে বসে কি এই বিষয়টি আলোচনা করেননি?
রোকেয়া প্রাচী: না। পরিচালক ফারুকী সাহেব আমাকে একবারও বলেননি গুলতেকিন আহমেদ হতে। কিংবা তার কোনও কিছু ফলো করতে। কারণ আমার চরিত্রটি তখন মায়া। পাণ্ডুলিপিতে মায়া চরিত্রটিকেই আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু ‘ডুব’ টিম-এ সিনিয়র এবং এই সম্পর্কে জানাশোনার মধ্যে অন্যতম ছিলেন আপনি। কখনও কি জিজ্ঞেস করেননি- এটা তো হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটি গল্প…
রোকেয়া প্রাচী: দেখুন এটা তো জিজ্ঞেস করারও অতীত। কারণ যেখানে আমি দেখছি, বুঝছি, এই গল্পটা হুমায়ূন আহমেদেরই- সেখানে যেচে গিয়ে জিজ্ঞেস করার অর্থ থাকে না। আকাশে চাঁদ উঠেছে দেখেও যদি আমি পাশের মানুষটিকে বলি- আকাশে চাঁদ উঠেছে কি? তখন তো সে মানুষটি আমাকে অন্ধই ভেবে নেবেন। তবে এটাও ঠিক, আমি মোটেই এই ছবিতে গুলতেকিন হওয়ার চেষ্টা করিনি। আমি পাণ্ডুলিপিতে লেখা মায়া চরিত্রটিকেই পোট্রে করার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া, তখন ভেবেছি, একজন হুমায়ূন আহমেদের জীবন কিংবা ছায়া নিয়ে যেকোনও শিল্পকর্ম হতেই পারে। কিন্তু সেটি যে এই প্রক্রিয়ায় হচ্ছে- সেটা তো আর ঠাওর করতে পারিনি তখন। যা এখন পারছি। বাবা-মেয়ে চরিত্রে ইরফান ও তিশা

বাংলা ট্রিবিউন: নির্মাতা ফারুকীও বিষয়টি ক্লিয়ার করছে না। আপনিও বলছেন, গুলতেকিন হতে চাইনি। আবার বলছেন, এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনেরই একটা অংশ বলে মনে হয়েছে আপনার। তাহলে বিষয়টা কি এমন- আমরা একজন কিংবদন্তির বর্ণাঢ্য জীবনের স্পর্শকাতর একটি ঘটনাকে নিয়ে ডাঙ্গুলি খেলছি? কেউ ঝেড়ে কাশছেন না কেন?
রোকেয়া প্রাচী: হয়তো ঠিক। কিন্তু একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি স্ক্রিপ্টটা যতটুকু দেখেছি, বুঝেছি, তাতে করে মনে হয়েছে গল্পটা হুমায়ূন আহমেদের। এখন ফারুকী সাহেব সেই গল্প কোথা থেকে নিয়েছেন, কেন নিয়েছেন- সেসব ক্লিয়ার করার দায় একান্তই তার। আমি আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করলাম।

বাংলা ট্রিবিউন: ওকে। এখন ‘ডুব’ নিয়ে চলতি আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
রোকেয়া প্রাচী: প্রথমত, আমি জানতামই না বিষয়টি এভাবে সিক্রেটলি হচ্ছে। পুরো পাণ্ডুলিপিও আমি হাতে পাইনি। তবে এখন মনে হচ্ছে, একটা ভালো ছবি কেন এমন বিতর্কের মধ্যে যাবে? বিষয়টি উনি (পরিচালক) যদি আগেই ক্লিয়ার করে নিতেন- তাহলে তো এতটা জলঘোলা হতো না। হুমায়ূন আহমেদের লাইফ নিয়ে শুধু উনি কেন, চাইলে যে কেউই নাটক-ছবি বানাতে পারেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এমনকি এই রোকেয়া প্রাচীর লাইফ নিয়েও যেকেউ নাটক-ছবি বানাতে পারেন। এটা হচ্ছেও সারা দুনিয়ায়। কিন্তু একটি ছবি বানিয়ে যদি বিতর্কের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে তো সেটা ঠিক না। যেমন আমি শুটিং করতে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে, এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটা অংশ। আবার এটাও ঠিক, এমন ঘটনা আরও অন্য অনেকের জীবনেও ঘটেছে। কিন্তু এখানে সমস্যাটা হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ একজন ন্যাশনাল আইকন। ফলে কোনও গল্প-চরিত্র যদি তার ছায়া অবলম্বনেও তৈরি করা হয় তবে সেটা আগে থেকেই ক্লিয়ার করে নেওয়া উচিত ছিলো বলেই আমি মনে করি। যেটা না করার কারণে এখন আমরা ছবিসংশ্লিষ্টরা আসলেই বিব্রত হচ্ছি। অন্যদিকে একটা ভালো ছবিকে দর্শকদের কাছে বিতর্কিত করে তোলা হলো মুক্তির আগেই! হুমায়ূন আহমেদের ফ্যামেলি মেম্বারদের সঙ্গে ডিসকাস করেই কাজটা করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা অশোভন!

বাংলা ট্রিবিউন: সেটা হলে হয়তো আপনাদের এভাবে বিব্রত হতে হতো না।
রোকেয়া প্রাচী: অবশ্যই তাই। কারণ একজন শিল্পী হিসেবে এই বিতর্কের বাইরে তো আমিও যেতে পারি না। তাছাড়া আমি তো নির্বিকার কেউ না। ফলে এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত আমাকেও কথা বলতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। অথচ কোনও সদুত্তর দিতে পারছি না। এটা বিব্রতকর। তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদেকে তো আমি ওউন-ও করি। আমার পছন্দের লেখক নির্মাতা তো বটেই, তিনি হচ্ছেন এই দেশের আইকন। সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি সুখকর কিছু হলো না। ‘ডুব’-এর মহরত

বাংলা ট্রিবিউন: আচ্ছা বিষয়টা কি এমন কিছু- ছবিটির মার্কেটিংয়ের জন্য আপনারা একটা নেতিবাচক ক্যামপেইনের জন্য এই কাজটি করেছেন? ছবি মুক্তির পর দেখা যাবে আসলে এখন সবাই যা ভাবছে- বিষয়টি তেমন কিছুই নয়। এমনটাও বলছেন অনেকে।
রোকেয়া প্রাচী: আমি আসলে এভাবে ভাবিনি। এটা আমার দায়িত্বও না। আমার কাজ শুধু চরিত্রটা ধরে প্রপার অভিনয়টা করা। এটা আসলে প্রযোজক-পরিচালক তাদের স্ট্র্যাটিজির বিষয়। এমনকি এই যে এত কথা বলছি, এসবেরও কথা না। তবুও বলছি, কারণ একজন অভিনয় শিল্পীর বাইরে আমি একজন মানুষ। আমার একটা সমাজ আছে। একটা দায়বদ্ধতাও আছে। সেখানে দাঁড়িয়েই আমি কথাগুলো বলছি, কাজটি ভালো হয়নি। ফারুকী সাহেব বিষয়টি জানিয়ে করলেই শোভন হতো। একটা ভালো ছবি মুক্তির আগেই এমন বিতর্কে পড়তে হতো না। আর এটা যদি ক্যামপেইন হয়- সেটা কেমন ক্যামপেইন আমার জানা নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: ছবিতে আপনার চরিত্রের অবস্থান কতটুকু, জানেন কি? কারণ বিদেশ মিডিয়া জানাচ্ছে, এটি মূলত পিতা-কন্যার ছবি। মানে ইরফান-তিশাময়।
রোকেয়া প্রাচী: আমি আসলে অফিশিয়ালি উত্তরটা দিতে পারছি না। এটা আসলে ডিরেক্টর বলতে পারেন। এটা বাবা মেয়ের গল্প হবে না স্ত্রী-স্বামীর গল্প সেটা উনার ব্যাপার। ছবিতে আমি এমপাওয়ার্ড একজন মহিলা হিসেবে আছি। শুটিং করার সময় মনে হয়নি, আমি ছোট কোনও চরিত্রে আছি। তবে সম্পাদনার টেবিলে সেটা কতটুকু থাকে, কী হয়, জানি না।

বাংলা ট্রিবিউন: আর কলকাতার পার্ণো মিত্রর চরিত্রটা?
রোকেয়া প্রাচী: হুম, সেটাও বেশ গুরত্বপূর্ণই মনে হয়েছে। সে ছবিতে আমার মেয়ের বান্ধবী এবং পরে হাজবেন্ডের প্রেমিকা এবং স্ত্রী হিসেবে দেখা যায়। ফলে ছবিতে এই চরিত্রটার গভীরতাও অনেক। তবে গল্পের কাঠামো অনুযায়ী ছবির তিনটি নারী চরিত্রই সমানতালে এগিয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। যদিও ছবির প্রধান চরিত্রে ছিলেন জাভেদ হাসানই। পার্ণো মিত্র

বাংলা ট্রিবিউন: এই যে বিতর্ক শুরু হলো। চলছে এখনও। ‘ডুব’-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী? কথা হয়েছে ফারুকীর সঙ্গে?
রোকেয়া প্রাচী: না। মানে উনার সঙ্গে আমার আসলে সেরকম কোনও কথা হয়নি। উনার সঙ্গে আমার কমিউনিকেশনটা আসলে সেভাবে নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কী মনে হয়, পরিবারকে না জানিয়ে কাজটি করার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?
রোকেয়া প্রাচী: আসলে আমি তো উনাকে (ফারুকী) অনেক বিজ্ঞ, সামাজিক এবং সচেতন মানুষ হিসেবেই জানি। কিন্তু এই কাজটি কেন এভাবে করলেন- সেটার কোনও সদুত্তর আমার কাছে আসলেই নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক হলো ডুব-কথা। আপনার নির্মাণের কী অবস্থা?
রোকেয়া প্রাচী: আগেই বলেছি, এই বছরের নির্মাণ পরিকল্পনা শেষ। ভাবছি নতুন কিছু।

বাংলা ট্রিবিউন: মানে ফিরতে চাইছি প্রসূন আজাদ বিষয়ে। জানি এটি নিয়ে বিব্রত এবং বিরক্ত আপনি। তবুও এবেলায় কিছু বলবেন?
রোকেয়া প্রাচী: বলতে চাই না আসলে। বরং ভুলতে চাই। বলবো এটুকুই, মিডিয়ায় সবাইকে সুশৃঙ্খল নৈতিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। না হলে কারও কল্যাণ হবে না। কাজেই নিজের এবং মিডিয়ার উন্নয়নের জন্য সিনসিয়ারলি কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সম্মানবোধ থাকতে হবে। আমি অন্তত এটুকু মেনটেইন করার চেষ্টা করি।

বাংলা ট্রিবিউন: ভাবছেন নতুন কিছু। আগের উত্তরে বলছিলেন। সম্ভবত ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।
রোকেয়া প্রাচী: ঠিক তাই। ছবি নির্মাণের প্রিপারেশন চলছে। নতুন বছরে শুটিং করতে পারবো আশা করি। স্ক্রিপ্ট লেখা চলছে। এর বেশি বলা যাবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: এটুকুই! আপনিও কিন্তু ‘ডুব’ পরিচালকের মতো এড়িয়ে যাচ্ছেন। বলতে চাইছেন, মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দেখলেই সব জানা যাবে। আগাম কিছুই বলা যাবে না!
রোকেয়া প্রাচী: না, না। তা না। ছবিটির বিষয়ে সবাইকে জানাবো এই ডিসেম্বরেই। ততদিন সময় দিন। রোকেয়া প্রাচী
/এমএম/এম/

সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
সিদ্ধার্থ-কিয়ারার বিয়ে: তারিখ, স্থান, অতিথি, পোশাক সবই চূড়ান্ত
সিদ্ধার্থ-কিয়ারার বিয়ে: তারিখ, স্থান, অতিথি, পোশাক সবই চূড়ান্ত
তানহা তাসনিয়া আসছেন দীর্ঘ সিরিজে
তানহা তাসনিয়া আসছেন দীর্ঘ সিরিজে
জুনে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারা, উদ্দেশ্য ‘আনন্দমেলা’
জুনে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারা, উদ্দেশ্য ‘আনন্দমেলা’
এটা তো একটা চ্যালেঞ্জ, চেষ্টাটুকু করেছি: তিশা
এটা তো একটা চ্যালেঞ্জ, চেষ্টাটুকু করেছি: তিশা
একই সিরিজে শাহরুখ-সালমান-আমিরসহ ৩৫ তারকা!
একই সিরিজে শাহরুখ-সালমান-আমিরসহ ৩৫ তারকা!