কান উৎসবে সাধারণত কানে কানে থাকে তিনটি কথা। যার একটি- স্বর্ণপাম কে জিতবে? এ নিয়ে সাগরপাড়ে, হোটেলগুলোতে আর পার্টিতে কানাঘুষা চলবে ১২ দিন ধরেই। আর অন্য দুটি হলো আক্ষেপ কিংবা আফসোসের সুর। যেমন উৎসবের প্রথম প্রহর থেকেই অনেকের মুখে ইংরেজিতে ও ফরাসি ভাষায় শোনা যায়, ‘আমি কেন আমন্ত্রিত হলাম না?’ আরেকটি দলের মুখে তৃতীয় কথাটি শোনা যায় বেশ আফসোসের সুরে, ‘ইশ! লালগালিচায় একটা সেলফি তোলা হলো না!’ তবে এই দুই দলে না থেকে বিকল্প চেষ্টা করেন অনেকে।
তারা সবাই টিকেট প্রত্যাশী। তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সীরা দিনভর হাতে কাগজ কিংবা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন উৎসবের মূলকেন্দ্র পালে দো ফেস্টিভাল ভবনের মূল ফটকের সামনে। অনেকে সামনের সড়কেও দাঁড়ান। কেউ আবার সাল দুবুসি ও অ্যাক্রেডিটেশন বিতরণের প্রবেশপথের সামনে সটান দাঁড়িয়ে থাকেন।
বেশিরভাগের হাতে দেখেছি কাগজ কিংবা প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ‘ইনভাইটেশন প্লিজ’। সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ছবির নাম উল্লেখ করা। সামনে দিয়ে উৎসবের ব্যাজ বা পরিচয়পত্র আছে এমন কাউকে হেঁটে যেতে দেখলে অনুরোধের শেষ থাকে না তাদের। টিকেট বাগিয়ে নিতে অনেকে গানও করেন। কেউ কেউ আবার শুধু ‘ইনভাইটেশন’ লেখা কাগজ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। একটা টিকেট পেলেই যেন হলো!
শুক্রবার (১৯ মে) উৎসবের তৃতীয় দিনেও সকাল থেকে অনেককে দেখেছি। কেউ একা, কেউবা দলবেঁধে ইনভাইটেশন পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়েছিলেন। টিকেটের জন্য এত আকাঙ্ক্ষার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ লালগালিচায় হাঁটার সুযোগ পাওয়া। সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে ছবি দেখতে চাইলে শুধু ব্যাজ হলেই চলে না। এজন্য প্রয়োজন আলাদা ইনভাইটেশন বা আমন্ত্রণপত্র। এই সময়টাতে বিরতি দিয়ে লালগালিচায় পা মাড়ান তারকারা। ইনভাইটেশন থাকলে তাদের কারও কারও সঙ্গে দেখা হয়েও যেতে পারে! টিকেট প্রত্যাশীদের লক্ষ্য থাকে এটাও।
অর্কেস্ট্রা সারির টিকেট পেলে লালগালিচার অনেকটা পথ হাঁটা যায়। তখন তারকার সামনে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। ব্যালকন বিভাগের টিকেট পেলে মাঝামাঝি দিয়ে ঢুকতে হয়। সিনেমাপ্রেম যে টিকেট প্রত্যাশীদের মাঝে একেবারেই নেই তা বলা যাবে না। বরং লালগালিচায় হাঁটার সমান ভালোলাগা কাজ করে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ের প্রেক্ষাগৃহে ঢুকলে।
কিন্তু ইনভাইটেশন আর সোনার হরিণ পাওয়া যেন একই কথা! পালে দো ফেস্টিভাল ভবনের মূল ফটকের সামনে অনুরোধের জটলা দেখা যায় বেশি। শুধু এখানেই নয়, টিকেট প্রত্যাশীদের অনেকে ভিলেজ ইন্টারন্যাশনালের দিকে ও লালগালিচায় ঢোকার উভয় পথে দাঁড়িয়ে থাকেন। ক্যাসিনোর সামনেও দেখা যায় অনেককে।
কেউ কেউ একটু বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নানান রঙে সাজিয়ে আনেন প্ল্যাকার্ড আর কাগজ। যদি কোনওভাবে একটা ইনভাইটেশন মিলে যায় তাহলেই কেল্লা ফতে! টিকিট প্রত্যাশীদের অনেকের পরিশ্রম সফল হয়। কারণ ব্যস্ততা থাকলে কিংবা কাজ পড়ে গেলে তাদের কাউকে না কাউকে ইনভাইটেশন বিলি করে দেন অনেকে।
টিকেট পাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছেলেরা টাক্সেডো আর মেয়েরা চকচকে পোশাক পরে চলে আসেন সকালেই। কাঙ্ক্ষিত ইনভাইটেশনের প্রত্যাশায় সকাল, দুপুর গড়িয়ে বিকেল-রাতও পেরিয়ে যায়। তবুও আশা বেঁধে রাখেন তারা। যদি কেউ মুখে হাসি ছড়িয়ে দিয়ে যান ইনভাইটেশন!
ছবি: আহামেদ ফরিদ
/জেএইচ/এমএম/







