বাংলাদেশের প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতলেন জয়া আহসান। ভারতের ‘বিসর্জন’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জিও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলকাতার সায়েন্স সিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জিও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস (পূর্ব) ২০১৮’ অনুষ্ঠান।
‘বিসর্জন’ ছবির জন্য জিও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে (পূর্ব) সমালোচক ও জনপ্রিয়— দুই বিভাগেই সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পান জয়া। তবে তিনি পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় বিভাগে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (অসমাপ্ত), সোহিনী সরকার (বিবাহ ডায়েরিস), ঈশা সাহা (প্রজাপতি বিস্কুট), রুকমিনি মৈত্র (ককপিট)। আর সমালোচক বিভাগে জয়ার সঙ্গে মনোনয়ন পান অর্পিতা চ্যাটার্জি (চিত্রকর), ইশা সাহা (প্রজাপতি বিস্কুট), সোহিনী সরকার (দুর্গা সহায়)।
এর আগে ‘আবর্ত’ ও ‘ঈগলের চোখ’ ছবির জন্য জিও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে (পূর্ব) দু’বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন জয়া। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারেননি তখন। অবশেষে তার ঘরে এলো ‘ব্ল্যাক লেডি’।
পুরস্কার গ্রহণ করার পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘এই পুরস্কারটি উৎসর্গ করতে চাই বাংলাদেশে আমার সব পরিচালকদের- যারা অভিনেত্রী জয়া আহসানকে জন্ম দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এখানে যেসব পরিচালক আছেন, তাদেরকেও ধন্যবাদ। বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রীকে এখানে এতটা সম্মানের সঙ্গে কাজ করবার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। বিশেষ ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা অরিন্দম শীল দাকে- যার হাত ধরে এই বাংলায় আমি কাজ শুরু করেছিলাম। সবশেষে আমার পরিবার, বন্ধু এবং দুই বাংলায় ভক্তরা, যাদের অনুপ্রেরণায় আমি যে কোনও কঠিন পথ সহজে পাড়ি দিতে পারি, তাদেরকে বিশেষ বিশেষ ধন্যবাদ।’
পুরস্কার নেওয়া শুধু নয়, জয়া পুরস্কার দিয়েছেনও। যার হাতে তিনি সেরা অভিনেত্রীর ‘ব্ল্যাক লেডি’ নিয়েছেন, সেই ‘কাহানি’খ্যাত পরিচালক সুজয় ঘোষের সঙ্গে মিলে আজীবন সম্মাননা তুলে দিয়েছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে।
জিও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে (পূর্ব) জয়া পরেছিলেন স্বচ্ছ কালো শাড়ির সঙ্গে কাশ্মিরী কাজের ব্লাউজ। কলকাতা টাইমস তার ফ্যাশনের প্রশংসা করে লিখেছে, ‘অসামান্য দেখাচ্ছে জয়া আহসানকে।’
জয়া ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ডুব’ ছবির জন্য এবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন চিরকুট ব্যান্ডের সুমী (গায়িকা, গান- আহারে জীবন), পাভেল অরীন (আবহসংগীত) ও শেখ রাজিবুল ইসলাম (চিত্রগ্রহণ)। কিন্তু তাদের কারও কপালে পুরস্কার জোটেনি।
আসরের সর্বাধিক ছয়টি করে পুরস্কার জিতেছে ‘বিসর্জন’ ও ‘প্রজাপতি বিস্কুট’। চারটি করে পুরস্কার এসেছে ‘ময়ূরাক্ষী’ ও ‘সহজ পথের গপ্পো’র ঘরে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের ওপর বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের প্রথম সারির সব তারকা। এবার আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে নির্মাতা মৃণাল সেন ও অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে। অনুষ্ঠানে নেচেছেন শুভশ্রী, যশসহ অনেকে।
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস (পূর্ব) বিজয়ী তালিকা
চলচ্চিত্র: বিসর্জন
পরিচালক: কৌশিক গাঙ্গুলি (বিসর্জন)
চলচ্চিত্র (সমালোচক): ময়ূরাক্ষী
অভিনেতা: প্রসেনজিৎ (ময়ূরাক্ষী)
অভিনেতা (সমালোচক): সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (ময়ূরাক্ষী)
অভিনেত্রী: জয়া আহসান (বিসর্জন)
অভিনেত্রী (সমালোচক): ঈশা সাহা (প্রজাপতি বিস্কুট)
পার্শ্ব অভিনেতা: কৌশিক গাঙ্গুলি (বিসর্জন)
পার্শ্ব অভিনেত্রী: মমতা শংকর (মাছের ঝোল)
মিউজিক অ্যালবাম: প্রজাপতি বিস্কুট (অনিন্দ্য চ্যাটার্জি, অনুপম রায, শান্তনু মৈত্র ও প্রসেনজিৎ মুখার্জি)
গীতিকার: রিতাম সেন (গান-তোমাকে বুঝিনা প্রিয়, প্রজাপতি বিস্কুট)
গায়ক: নচিকেতা চক্রবর্তী (গান-কেন এরকম কিছু হলো না, পোস্ত)
গায়িকা: চন্দ্রানি ব্যানার্জি (গান-তোমাকে বুঝিনা প্রিয়, প্রজাপতি বিস্কুট)
আজীবন সম্মাননা: মৃণাল সেন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়
নবাগত পরিচালক: মানস মুকুল পাল (সহজ পথের গপ্পো)
নবাগত: নূর ইসলাম ও সামিউল আলম (সহজ পথের গপ্পো)
নবাগতা: রুকমিনি মৈত্র (চ্যাম্প, ককপিট)
মৌলিক গল্প: কৌশিক গাঙ্গুলি (বিসর্জন)
চিত্রনাট্যকার: মানস মুকুল পাল (সহজ পথের গপ্পো)
সংলাপ রচয়িতা: প্রতিম ডি গুপ্ত (মাছের ঝোল)
শব্দসজ্জা: অনির্বাণ সেনগুপ্ত (বিসর্জন)
সম্পাদনা: সুজয় দত্ত রয় ও অনির্বাণ মাইতি (সহজ পথের গপ্পো)
চিত্রগ্রহণ: সুপ্রিয় দত্ত (প্রজাপতি বিস্কুট)
আবহসংগীত: দেবজ্যোতি মিশ্র (ময়ূরাক্ষী)
শিল্প নির্দেশনা: মধুজা ব্যানার্জি ও কৌশিক-বারিক (প্রজাপতি বিস্কুট)



