কান উৎসবের লালগালিচায় প্রতিবাদ জানাবেন বিশ্বের প্রথম সারির ১০০ অভিনেত্রী ও নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা। হলিউড মোগল হার্ভি ওয়াইনস্টিন কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মস্থলে নারীর প্রতি যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া মিটু হ্যাশট্যাগ আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে সমবেত হবেন তারা।
সোমবার (৭ মে) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে নিবেদিত নারীদের প্রতি উৎসর্গ করা হবে এই সম্মিলন। শুধু কান নয়, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে গোটা বিশ্বই বদলে গেছে।’
আগামী ১২ মে সন্ধ্যায় লালগালিচায় দেখা যাবে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য। এবারের আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের প্রধান কেট ব্ল্যানচেটও এতে যুক্ত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কানে চারজন নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে হার্ভির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ইতালিয়ান অভিনেত্রী এশিয়া আর্জেন্টোকে এক হোটেলে ধর্ষণ করেন তিনি। তখন এশিয়ার বয়স ছিল ২১ বছর। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যৌন হয়রানি বিরোধী হটলাইন চালু করেছে কান।
প্রতিযোগিতা বিভাগে নারীরা
নারীদের পক্ষে কান সোচ্চার হলেও এবারের আসরে প্রতিযোগিতা বিভাগে রয়েছে মাত্র তিনজন নারী নির্মাতার ছবি। এর মধ্যে ১২ মে লালগালিচায় নারীদের প্রতিবাদের পর দেখানো হবে ফ্রান্সের ইভা হুসোর ‘গার্লস অব দ্য সান’। অন্য দুটি ছবি হলো লেবাননের নাদিন লাবাকির ‘কেপারনম’ ও ইতালির অ্যালিস রোরওয়াচারের ‘ল্যাজারো ফেলিস’।
বিশ্বের প্রথম নারী নির্মাতা
কান ক্ল্যাসিকসে থাকছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রথম নারী নির্মাতা ফ্রান্সের অ্যালিস গি-ব্লাশের ওপর বানানো প্রামাণ্যচিত্র। এর নাম রাখা হয়েছে ‘বি ন্যাচারাল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব অ্যালিস গি-ব্লাশে’। এটি পরিচালনা করেছেন মার্কিন নারী নির্মাতা পামেলা বি. গ্রিন।
গায়িকাদের জীবন
গানে গানে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করেছেন এমন দুই গায়িকার জীবন দেখা যাবে কানে। মিডনাইট স্ক্রিনিংয়ে রয়েছে প্রয়াত গায়িকা হুইটনি হিউস্টনের জীবন অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ‘হুইটনি’ নামের ছবিটি নির্মাণ করেছেন স্কটিশ পরিচালক কেভিন ম্যাকডোনাল্ড।
এদিকে আরেক বিখ্যাত গায়িকা টিনা টার্নারের জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী হবে কানের ফিল্ম বাজারে। এর নাম ‘টিনার টার্নার’।
২০ নারী নির্মাতার অভিষেক
কানের ৭১তম আসরে বিভিন্ন বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে অনেক নারী নির্মাতার ছবি। তাদের মধ্যে ২০ জনের অভিষেক হচ্ছে সাগরপাড়ের শহরে। প্রতিযোগিতা বিভাগের তিন নারী নির্মাতার কথা তো ওপরেই রয়েছে।
আঁ সার্তেন রিগার্দ বিভাগে নির্বাচিত ১৩টি ছবির ছয়টি একাই নির্মাণ করেছেন নারীরা। এ তালিকায় রয়েছে ভারতের নন্দিতা দাসের ‘মান্টো’, মরক্কোর মরিয়ম বেনেমবারেক পরিচালিত ‘সোফিয়া’, ফ্রান্সের ভ্যানেসা ফিলোর ‘অ্যাঞ্জেল ফেস’, ইতালির ভ্যালেরিয়া গলিনোর ‘ইউফোরিয়া’, কেনিয়ার ওয়ানুরি কাহিয়ুর ‘ফ্রেন্ড’ ও সিরিয়ার গায়া জিজি পরিচালিত ‘মাই ফেবারিট ফেব্রিক’। এছাড়া ‘লিটল টিকেলস’ ছবিটি ফ্রান্সের এরিক মিতায়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন অন্দ্রিয়া বিসকু। আর ‘দ্য ডেড অ্যান্ড দ্য আদারস’ পর্তুগালের জোয়াও সালাভিজার সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করেছে ব্রাজিলের রেনে নাদের মেসোরা।
ক্রিটিকস উইকে রয়েছে পোল্যান্ডের অগনিশকা স্মোজিনস্কার ‘ফিগ’, সুইস নির্মাতা আনিয়া কোফমেলের ‘ক্রিস দ্য সুইস’, ভারতের রোহেনা গেরার ‘স্যার’, হাঙ্গেরির সোফিয়া সিলাগির ‘ওয়ান ডে’।
ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে আছে স্প্যানিশ নির্মাতা আরান্টা ইচেভারিয়া, ফ্রান্সের মারিয়া মোজের ‘প্লেয়ারস’, আমেরিকার ডেবরা গ্রানিকের ‘লিভ নো ট্রেস’, ব্রাজিলের বিয়াট্রিজ সেইনারের ‘দ্য সাইলেন্সেস’ এবং কলম্বিয়ার সিরো গুয়েরার সঙ্গে ক্রিস্তিনা গাইয়েগো যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’।
বিচারকের আসনে ১২ নারী
এবার প্রতিযোগিতা বিভাগে বিচারকদের সভাপতি অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। তার নেতৃত্বে জুরি প্যানেল নির্বাচন করবে স্বর্ণ পাম জয়ী ছবির নাম। তাদের ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন নারী।
আঁ সার্তেন রিগার্দে বিভাগের বিচারক তালিকায়ও নারীদের প্রাধান্য। পুয়ের্তোরিকান অভিনেতা বেনিসিও দেল তোরোর নেতৃত্বে নারীদের মধ্যে কাজ করবেন ফিলিস্তিনি পরিচালক আনমারি জাসির, ফরাসি অভিনেত্রী ভিরজিনি লোদোয়া, টেল্লুরাইড চলচ্চিত্র উৎসবের নির্বাহী পরিচালক জুলি হান্টসিঙ্গার।
ক্যামেরা দ’র বিভাগের সভাপতিও নারী (সুইস পরিচালক উরসুলা মাইয়ের)। তার নেতৃত্বে যে সাতজন থাকবেন তাদের চারজনই নারী। তারা হলেন ফরাসি পরিচালক মারি আমাশুকেলি, ফরাসি-আমেরিকান পরিচালক ইরিস ব্রে, ফরাসি আলোকচিত্রী জেন লাপয়রি।







