সাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র ডন কিহোটের ওপর ভর করা অভিশাপ অবশেষে ভাঙলো। আর কান উৎসবের সমাপনী ছবি নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘও কেটে গেছে। এই আয়োজনের ৭১তম আসরে টেরি গিলিয়াম পরিচালিত ‘দ্য ম্যান হু কিল্ড ডন কিহোটে’ প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত।
এর মধ্য দিয়ে সপ্তদশ শতকে প্রকাশিত মিগেল দে ভান্তেসের স্প্যানিশ উপন্যাস ‘ডন কিহোটে’কে রূপালি পর্দায় তুলে আনার চূড়ান্ত বাধা পেরোতে সক্ষম হলেন টেরি গিলিয়াম। বুধবার (৯ মে) রায়টি দেওয়া হয়। ফলে কানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাপনী ছবি হিসেবে এটি দেখানোর ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইলো না।
কানের আয়োজকরা এজন্য খুব আনন্দিত। উৎসব পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো বুধবার (৯ মে) খবরটি জানাতে দেরি করেননি। টুইটারে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “পাওলো ব্রাঙ্কোর (ছবিটির সাবেক প্রযোজক) নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ‘দ্য ম্যান হু কিল্ড ডন কিহোটে’ ৭১তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের পর দেখানো হবে। সেখানে টেরি গিলিয়ামও থাকবেন। এই জয়কে দারুণ পার্টিতে পরিণত করা যাক।”
এর কিছুক্ষণ পর টুইটারে টেরি গিলিয়ামের একটি বার্তা ও স্থিরচিত্র পোস্ট করেছেন আয়োজকরা। এতে তিনি বলেছেন, ‘এখনও মরিনি, কানে আসছি।’ ফরাসি উপকূলের পত্রিকা নিস মাতিন জানিয়েছে, কানে নির্বাচিত হওয়ার আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭৭ বছর বয়সী এই নির্মাতা। এ কারণে একরাত হাসপাতালেও থাকতে হয়েছে তাকে। তবে এখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো।
টেরি গিলিয়াম টুইটে বলেন, ‘কয়েকদিন বিশ্রাম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রার্থনার সুবাদে সুস্থ হয়ে উঠেছি। আমাদের আইনি জয় হয়েছে। আমরা ১৯ মে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় পা মাড়িয়ে ছবিটি দেখবো। সব সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।’ টুইটের সঙ্গে কিহোটে জিন্দাবাদ হ্যাশট্যাগ জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
খবরটি জেনে খুশি টেরি গিলিয়ামের ভক্তরাও। তার আইনজীবী বেঞ্জামিন সারফাতি জানিয়েছেন, ছবিটির স্বত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্ন প্রসঙ্গ তোলেননি আদালত। তবে পর্তুগিজ প্রযোজক পাওলো ব্রাঙ্কোর আবেদন খারিজ করে কানে এর প্রদর্শনীর পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। তবে তিনি এখনও মনে করেন, ছবিটির স্বত্ব তারই আছে। তাই কানে এর প্রদর্শনী বন্ধ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হলেন না।
আদালতে জয়ী হলেও হতাশার খবর এসেছে ‘ব্রাজিল’ ও ‘টাইম ব্যান্ডিটস’ ছবির পরিচালক টেরি গিলিয়ামের কানে। ‘দ্য ম্যান হু কিল্ড ডন কিহোটে’ আমেরিকায় পরিবেশনার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখালেও পিছিয়ে গেছে আমাজন স্টুডিওস।
ছবিটিতে আধুনিক একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোনাথন প্রাইস। নিজেকে উপন্যাসের চরিত্র ডন কিহোটে মনে করেন তিনি। গল্পে দেখা যাবে, স্প্যানিশ শহরে কিহোটেকে নিয়ে শিক্ষার্থী সুলভ ছবি নির্মাণ করেছিলেন সানচো পাঞ্জা (অ্যাডাম ড্রাইভার), এর শুটিং হয়েছিল ফিরে আসে চলচ্চিত্র নির্মাতা। কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সে।
২০০০ সালে হলিউড সুপারস্টার জনি ডেপকে নিয়ে ছবিটির কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু বন্যায় সেট ধ্বংস, মূল চরিত্রের অভিনেতার অসুস্থতা ও অর্থনৈতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা শেষ করতে পারছিলেন না তিনি। ছবিটি নির্মাণের নেপথ্য ঘটনাগুলো নিয়ে সাজানো হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘লস্ট ইন লা মনশা’।
অবশেষে টেরি গিলিয়াম সফল হওয়ায় ছবিটি ড়মাপনী দিনে দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে কান নির্বাচনও করে ‘দ্য ম্যান হু কিল্ড ডন কিহোটে’। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইনি চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ে এই ছবি। এর সাবেক প্রযোজক পাওলো ব্রাঙ্কোর দাবি ছিল, ছবিটির স্বত্ব তার। গত ৭ মে তার আবেদনে শুনানি হয়েছে। আর আদালত চূড়ান্ত রায় দিলেন বুধবার।







