বাংলাদেশে ১ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ বন্ধ হওয়ার একদিনের ব্যবধানে ফের সচল হলো ভারতীয় জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল। ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কেন বন্ধ ও চালুর এমন নাটকীয়তা হলো তা নিয়ে মুখ খুলছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই। নাম প্রকাশের অনিচ্ছা প্রকাশ করে তারা শুধু এটুকু বলছেন, ‘এটা আসলে ভুল বোঝাবুঝি।’
ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বাংলা ট্রিবিউনকে আজ বুধবার বলেন, ‘১ এপ্রিল দুপুরে জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও গতকাল (২ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আবারও সচল হতে শুরু করে। যদিও সেটি ছিল সীমিত আকারে। তবে আজ (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা নাগাদ দেশের সবখানে জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার স্বাভাবিক হয়।’
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেন এমন নাটকীয়তা হলো? এ প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেলেন কোয়াব সভাপতি, ‘আমি এখন মিটিংয়ে আছি। পরে বিস্তারিত বলবো।’
জানা গেছে, বাংলাদেশে জি নেটওয়ার্কের দুই পরিবেশক সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড ও জাদু ভিশন মিডিয়া লিমিটেডকে গত ১ এপ্রিল তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ প্রাপ্তির পরই জাদু ভিশন জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।
তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ক্যাবল অপারেটরদের কাছে এসব চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে কিনা তা জানাতে বলা হয়েছিল। মূলত এই চিঠি পাওয়ার পরই দেশে জি নেটওয়ার্কের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তবে চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করতে বলেনি মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) টিভি বিভাগের দায়িত্বে থাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চ্যানেলগুলো বন্ধ করতে বলা হয়নি। এসব চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে কিনা তা জানাতে বলা হয়েছে ক্যাবল অপারেটরদের। বিষয়টি সাতদিনের মধ্যে জানাতে ক্যাবল অপারেটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।’
‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৬’-এর উপধারা-১৯(১৩)-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। গত ৩০ মার্চ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি মনে করিয়ে দেন।
‘সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ক্যাবল অপারেটরদের উদ্দেশে বলেন, ‘ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু এ সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মানা হলে বছরে দেশে ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব বাড়বে।’
টেলিভিশনে বিদ্যমান সমস্যার কথা ইঙ্গিত করে ড. হাছান মাহমুদ আহ্বান জানান, ‘টিভি শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আসুন সবাই একযোগে কাজ করি।’
এমন মন্তব্যের দুই দিনের মাথায় ১ এপ্রিল দুপুর নাগাদ হঠাৎ বন্ধ হয় জি নেটওয়ার্কের প্রায় সব চ্যানেল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেগুলো ফের সচল হলো।



