মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেনের কন্যা অভিনেত্রী সোহানা সাবা। সম্ভবত তাই, এই দেশ-মুক্তিযুদ্ধ এবং বীর যোদ্ধাদের নিয়ে তার এমন ভিন্ন ভাবনা। এ নিয়ে অবশ্য আক্ষেপেরও কমতি নেই। সমাধানের পথটাও বাতলে দিলেন তিনি। নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ভিন্নতর উদ্যোগ। এরমধ্যে যারা জেনেছেন, প্রায় প্রত্যেকেই বলেছেন- উদ্যোগেটি অসাধারণ।
সাবা জানান, এখন থেকে তিনি প্রতি বিজয় এবং স্বাধীনতা দিবসে অন্তত দশজন মুক্তিযোদ্ধাকে সরাসরি ফোন দেবেন। জীবন বাজি রেখে এই দেশটি উপহার দেওয়ার জন্য জানাবেন ‘ধন্যবাদ’। বললেন, ‘বহু বছর ধরে মনে হচ্ছিল, আমরা বরাবরই আসল জায়গাটাকে পাশ কাটিয়ে অন্য বিষয়ে গর্ববোধ করি বা করছি। যারা এই দেশটি তৈরির মহানায়ক আমরা বরাবরই তাদেরকে মূল ফোকাসের বাইরে রাখছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান হিসেবে, তার কাছ থেকে যুদ্ধ দিনের নির্মম সব গল্প শুনে আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। আরও মনে হচ্ছে, আমরা সেই মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয় কিংবা আবেগ আজও সঠিকভাবে স্পর্শ করতে পারিনি। সেই চেষ্টাও করিনি। এমন মানষিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় আমার এই উদ্যোগ।’
সাবা আরও বলেন, ‘আমরা এখনও অতি উৎসাহী যুদ্ধাপরাধী কিংবা রাজাকারদের নিয়ে। তারা মৃত্যুর আগে কী খেতে চেয়েছিল, কারা তাদের সঙ্গে শেষ দেখা করেছে, শেষ কথাটি কী ছিল, তাদের ছেলের চেহারা কেমন... ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের আগ্রহের ঘাটতি নেই। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে কী খেয়েছিলেন, কোথায় থেকেছিলেন, কীভাবে জীবন বাজি রেখেছিলেন কিংবা এখন তারা কেমন আছেন- এসব বিষয়ে আমাদের তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই। এটা আমার, এ প্রজন্মের জন্য খুবই বেদনার। আমি আজও আমার বাবা-চাচার যুদ্ধদিনের কথা শুনে শিউরে উঠি। অনুভব করি আজও, তাদের সমুদ্রসম অভিমানের প্রতিধ্বনি।’
সোহানা সাবা আশা করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এই অভিমান একটু হলেও ঘোঁচাবে তার কিংবা অন্যদের একটা ফোনকলের শুভেচ্ছা। তাই ১৬ ডিসেম্বর তিনি তার বাবাকে ফোন দিয়ে প্রথম ‘ধন্যবাদ’ জানাবেন স্বাধীন বাংলাদেশটি উপহার দেওয়ার জন্য। এরপর তার বড় চাচাসহ আরও নয় মুক্তিযোদ্ধাকে ফোন করবেন। এরমধ্যে তালিকা তৈরি করে ফোন নম্বরও সংগ্রহ করেছেন তিনি। জেনে নিয়েছেন দশ মুক্তিযোদ্ধার রণাঙ্গনের গল্পও। কারণ এদিন শুধু ‘ধন্যবাদ’ দিয়েই ফোন রাখতে চাইছেন না সাবা, মেয়ে হয়ে যোদ্ধা বাবা-চাচাদের সঙ্গে যুদ্ধদিনের খানিক গল্পও করতে চাইছেন তিনি।
সাবা বলেন, ‘‘আমার ধারণা, শুধু আমিই নই। এমন উদ্যোগে এখন থেকে সামিল হবেন অন্য শিল্পীরাও। এভাবে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়বে পুরো বাংলাদেশে। আমি চাই, এবার থেকে এই মুঠোফোনের ‘ধন্যবাদ’ কালচারটি ছড়িয়ে পড়ুক সমগ্র বাংলাদেশে।’’
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
/এমএম/



