সিনেমার রাজ্য, স্বজন-পরিজন থেকে বিদায় নিয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চলে গেছেন ওপারে। কিন্তু থেকে গেছেন তার ভক্ত, সহকর্মীদের মনে। সে কথাই বারবার মনে করিয়ে দিলেন তার কাছের মানুষেরা। সৌমিত্র নামের মহীরুহের বিদায়ে শোকে ছেয়ে গেছে পুরো বাংলা। চিরবিদায়ের ক্ষণে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে লিখছেন তারকারা। সেগুলো নিয়েই আমাদের এ আয়োজন—
জয়া আহসান
পর্দায় তিনি যখন অভিনয়ের গরিমা ঝেড়ে ফেলে চরিত্রের আচরণ ফুটিয়ে তুলেছিলেন, ভারতবর্ষের শিল্পভুবনে সেটা শুধু বিস্ময়কর একটা ঘটনাই ছিল না, ছিল এক নতুন যুগের শুরু। বিশ্বচলচ্চিত্রের অভিনয়ের প্রথম সারিতেই তার স্থান। কিন্তু অমন যে ইতিহাসের স্রষ্টা, অমন যে শিখরে ওঠা শিল্পী, মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন এক মহাসাগর। যে মহাসাগর অতলান্ত, কিন্তু শান্ত।
তার মৃত্যু নেই!
দেব
তুমি যেখানেই থেকো ভালো থেকো, তোমাকে খুব মিস করবো ছানা দাদু।
জিৎ
এ এক কিংবদন্তি, বাংলা সিনেমার রাজা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু। সত্যি বলতে এর মধ্য দিয়ে একটি যুগের সমাপ্তি হলো। তিনি হয়তো চলে গেছেন, কিন্তু কাজের মধ্যে এই গুণী আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। কী অসাধারণ সম্পর্ক তিনি তৈরি করেছিলেন। আমি আপনাকে মিস করবো অভিনেতা।
আবির চ্যাটার্জি
যখন নিজেও ভাবিনি হিরো হবো, সেই বয়স থেকে ‘ফেলুদা’ আমার হিরো। আর ফেলুদা মানেই আমার কাছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অনেকেই আমার ফেলুদা চরিত্র করা নিয়ে নানা কথা বলেন। তবে আমি ফেলুদা করেছি সেটা আর মনে রাখতে চাই না। আমার কাছে এক এবং একমাত্র ফেলুদা সৌমিত্র জেঠুই।
খেয়াল করে দেখেছি, সত্যজিৎ রায় যখন প্রথম স্কেচ করছেন ফেলুদার, সেখানে যেন লেখক সত্যজিতের আদলেই ফেলুদা তৈরি হয়েছে। আবার সৌমিত্র জেঠু যখন থেকে ফেলুদা করতে শুরু করলেন, তখন সেই স্কেচে তার চেহারাই বেরিয়ে এলো। বাঙালির আজীবনের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করে দিল সেই ফেলুদা!
ওর মতো হাঁটতে খুব কম লোককে দেখেছি। কাঁধটা অদ্ভুত উঁচিয়ে হাঁটা। চেষ্টা করেছিলাম ব্যোমকেশে হাল্কা নকল করার। কিছুটা পেরেছি। ফেলুদার (সৌমিত্র জেঠু) কাউকে কেয়ার করি না ভাব, অথচ নম্র আত্মবিশ্বাস। সব মিলিয়ে আমাদের কাছে ফেলুদা বলতেই সৌমিত্র জেঠু।
মিমি চক্রবর্তী
তুমি অপরাজিত! ...ভালো থেকো ফেলুদা।
শর্মিলা ঠাকুর
ভীষণ খারাপ লাগছে। আজ আমার জীবনের এক গভীর শোকের দিন। অনেক দিন ধরেই ভুগছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠবেন। উনি ছিলেন আমার বহু পুরনো বন্ধু। উনার মতো কে আছে আর? উনার অভিনয়, নাট্য পরিচালনা, সাহিত্যে যা অবদান, তা যে ঐতিহ্যের পত্তন করেছে, তা চিরন্তন। উনার আবৃত্তি অসাধারণ। উনি চলে গেলেন, কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেক দিন উনি বেঁচে থাকবেন। আজ আমি অত্যন্ত শোকাহত, বড় দুঃখের দিন। ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবির শুটিংয়ে উত্তরবঙ্গের এক ডাকবাংলোয় সৌমিত্র, শুভেন্দু ও আমি ছিলাম। রোজ কাজের পরে আমাদের আড্ডা জমতো নানান বিষয়ে। উনি এত বিষয়ে গভীরভাবে জানতেন যে, বারে বারে মুগ্ধ হয়েছি। তিনি চলে গেলেন- এই অভাব অপূরণীয়।



