অপর্ণা ঘোষকে প্রায়শই ব্যতিক্রমী চরিত্রে দেখা যায়। টিভি ও চলচ্চিত্র, দুই মাধ্যমেই।
স্বাধীনতা দিবসকে (২৬ মার্চ) সামনে রেখে এবার তিনি অভিনয় করলেন বীরাঙ্গনা চরিত্রে। যা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা বেশ কঠিন ছিল। কারণ, গল্পটাকে টেনে আনতে হয়েছে সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত।
সদ্য শুটিং শেষ হওয়া এই বিশেষ নাটকটির নাম ‘বীরাঙ্গনা’। টিপু আলম মিলনের গল্পে এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন আনন জামান। পরিচালনা করেছেন শুদ্ধমান চৈতন।
মিড এন্টারপ্রাইজের প্রযোজনায় নাটকটিতে অপর্ণা ছাড়াও অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক, রিয়া খান, মনির জামান, সানজিদা মিলা প্রমুখ।
নির্মাতা শুদ্ধমান জানান নাটকটির গল্পের ধরণ। ১৯৭১ সাল, চারদিকে যুদ্ধের ডামাডোল। আমঝুপি নামে এক গ্রাম। সে গ্রামেরই দু’জন সয়ফর আর ময়ূরজান। প্রচণ্ড ভালোবাসে একে অপরকে। দেশকে শত্রুমুক্ত করার যুদ্ধে সয়ফর তো আর ঘরে বসে থাকতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে যাবার। কিন্তু ময়ূরজানের কী হবে?
অজানা শঙ্কায় নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না সয়ফর। যুদ্ধে যাবার আগে ময়ূরজানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বিয়ে করে তারা। ঠিক সেই রাতেই গ্রামে হানা দেয় পাক আর্মি। ময়ূরজানকে নিয়ে পালায় সয়ফর। আশ্রয় নেয় ময়ূরজানের খালা মতিবানুর বাড়ি। সেখানেই এক রকম আতঙ্কে বাসর রাত কাটে তাদের। পরদিন খালার কাছে ময়ূরজানকে রেখে যুদ্ধে চলে যায়।
এরপর অন্য ইতিহাস। দেশ স্বাধীন হয়। পাকিস্তানী ক্যাম্প থেকে মুক্ত হন বন্দী ময়ূরজান। তখন তিনি গর্ভবতী। এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় ময়ূরজানের আরেক যুদ্ধ।
এখানে ময়ূরজান চরিত্রে অভিনয় করেন অপর্ণা ঘোষ।
নাটকটির গল্পকার টিপু আলম মিলন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে বীরাঙ্গনারা আজও অবহেলিত। সমাজে বসবাসরত কিছু মানুষের তাচ্ছিল্যের তীর বিদ্ধ করে তাদের। তাদেরই একজন ময়ূরজান। তার জীবনের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। হৃদয়স্পর্শী এই কাহিনি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’
মিলন জানান, ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৮টায় বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে ‘বীরাঙ্গনা’।




