X
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২
১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বাউল জুটির বাঁচার যুদ্ধ (ভিডিও)

সালমান তারেক শাকিল
২১ জুন ২০২১, ০০:০২আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ০৩:২১

আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত অলস দুপুর, রাজধানীর কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকায় মন্দিরা আর দোতারার সুর! বৃষ্টির এন্ড-টাইটেল হয়ে, নাগরিক পর্দায় বুঝি ভেসে উঠলো হৃদয়ভাঙা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর- লোকগান। মাটিহীন প্রাসাদে ঠাঁসা এই শহরে, যা বড় বেশি আশাতীত।

বাউল সুরের সূত্র খুঁজতেই মিললো গেরুয়া জুটি শামসু আর মাজেদাকে। জানা গেল, সম্পর্কে গুরু-শিষ্য। মাজেদার হাতে মন্দিরা আর শামসুর হাতে দোতারা। পালা করে গাইছিলেন দু’জনে। গানের ফাঁকে-ফাঁকে আশেপাশের ভবনে থাকা মানুষের উদ্দেশ্যে মাথা উঁচিয়ে মেলে দিচ্ছিলেন হাত- একটু সহযোগিতার আশে। কেউ বারান্দা থেকে, কেউ নিচে নেমে সাহায্য করছিলেন এই নগরবাউল জুটিকে।

গানের ফাঁকে বাউল জুটি শামসু ও মাজেদার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তারা জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই তাদের স্বাভাবিক জীবন পাল্টে যায়। বন্ধ হয় গানের শো।

কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকায় বাউল জুটি দোতারা থামিয়ে বাউল শামসু বলছিলেন, ‘আমরা থাকি বনানী ৫ নম্বর গেট, আদর্শনগর, কড়াইল বস্তির ভেতরে। মূলত সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়াই, গান-বাজনা করি। কিন্তু করোনায় গেল একটা বছর আমাদের পায়ে শেকল পড়েছে। আটকে পড়েছি এই শহরে। সব প্রোগ্রাম বন্ধ। অন্য কোনও কর্ম তো আমাদের জন্য আর এই দুনিয়ার বুকে নাই। শুধু গান গাই, গান গেয়েই জীবন বাঁচাই। ভিক্ষা করতেও বিবেকে বাধে। তাই বাধ্য হয়ে এখন শহরের গলিতে গলিতে গান গাই, গানের ফাঁকে আকাশের দিকে হাত বাড়াই। যা ভালোবাসা পাই, তা নিয়ে খুশি থাকি।’

বাউল শামসু জানান, তার দেশের বাড়ি খুলনার বাগেরহাট। ছাত্রী মাজেদার বাড়ি যশোরের কেশবপুর থানা।

ছাত্রী কিংবা সহযাত্রী মাজেদা প্রসঙ্গে শামসু বলেন, ‘প্রায় ৩-৪ বছর ধরে আমার সঙ্গে ও গান গাইছে। ও থাকে বউবাজার, আমি থাকি জামাইবাজার। ওই একই এলাকায় আর কী- কড়াইল বস্তি।’

শামসু ও মাজেদা জানান, দু’জনেরই সংসার আছে। শামসুর দুটো সন্তান। এক ছেলে, এক মেয়ে। মাজেদার এক ছেলে। ছেলের ঘরে দু’জন নাতি হয়েছে। শামসু বাউলের মেয়ের ঘরেও দু’জন নাতি। নিজ নিজ সংসার জীবনে দু’জনেই মোটামুটি স্থির।

শামসু বাউল জানান, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে তিনি গান গাইছেন। তার ওস্তাদ আপন চাচা আলেক চান ফকির। মাত্র ৮-৯ বছর থেকেই তিনি চাচার সূত্র ধরে স্টেজে গাইছেন। যা চলছে এখনও, তবে ওস্তাদ চাচা মারা গেছেন একযুগ আগেই।

ভিডিওতে থাকলো বিস্তারিত:

পরিবার সম্পর্কে বাউল মাজেদা বলেন, ‘আমার ফ্যামিলি আছে, কিন্তু স্বামী নাই ভাইয়া! একটা ছেলে আছে, ছেলে রিকশা চালায়। আমি এই ওস্তাদের পিছে ঘুরি। ওস্তাদ আমাকে কিছু টাকা দেয়, তা দিয়েই আমার সংসার চলে।’

আয় সম্পর্কে মাজেদা জানান, দিনে ৪-৫শ’ টাকা হয়।

করোনার আগে মাজেদা চাকরি করতেন। চাকরির ফাঁকে শামসু বাউলের সঙ্গে শো করতেন। করোনার কারণে তার চাকরিটা চলে যায়। এরপর থেকে গুরু-শিষ্য নিয়মিত এই শহরের মাটিহীন বুকে ঘুরে ঘুরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাটির গান।

/এমএম/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
বছর না ঘুরতেই স্বামীর বিরুদ্ধে সারিকার মামলা
বছর না ঘুরতেই স্বামীর বিরুদ্ধে সারিকার মামলা
এক ফ্রেমে দুই রণবীর!
এক ফ্রেমে দুই রণবীর!
এবার বাণিজ্যের রাজধানীতে স্টার সিনেপ্লেক্স
এবার বাণিজ্যের রাজধানীতে স্টার সিনেপ্লেক্স
যৌনপল্লির গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘রঙবাজার’
যৌনপল্লির গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘রঙবাজার’
আর্জেন্টিনার কারণে বিয়ে করা হচ্ছে না!
আর্জেন্টিনার কারণে বিয়ে করা হচ্ছে না!