X
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২
২১ আষাঢ় ১৪২৯
বিজয় বিশেষ

‘বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারও কাছে অস্ত্র জমা দেবো না’

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০

মহান বিজয়ের আজ (১৬ ডিসেম্বর) ৫০ বছর পূর্ণ হলো। জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গৌরবময় এ দিনটি দেশজুড়ে উদযাপন হচ্ছে। দিনটি ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে বাংলা ট্রিবিউন। যোদ্ধাদের কাছে শুনেছে তাদের লড়াইয়ের গল্প। এ পর্বে কথা বলেছেন গেরিলা যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ-

লড়াই যা হওয়ার তা ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়। আমরা তখন সাভারে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ঢুকলাম মেজর জেনারেল গন্দর্ভ সিং নাগরার নেতৃত্বে। দেশ বিজয় পেলো।

মুক্তিযুদ্ধের ৯টা মাস যুদ্ধ করলাম। সঙ্গী হিসেবে সবসময় সঙ্গে থাকতো অস্ত্র। সেই অস্ত্র জমা দেওয়ার গল্পটাই বলছি। এর আগে বলে নিই কীভাবে অস্ত্র হাতে এলো।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আস্তে আস্তে আমরা বুঝতে পারলাম কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে আমাদের যারা পরিচিত ছিলেন তারা রাতে এলাকায় চলে যেতে বললেন।

বললেন, সম্ভব হলে প্রতিহত করতে। তখন আমরা কাকরাইল হয়ে যে রাস্তাটা মতিঝিল গেছে, সেই রাস্তাটা টার্গেট করলাম। প্রতিরোধ করবো ভাবলাম। পারিনি। কিছু হাতবোমা মারলেও, পাকিস্তানি হানাদাররা ছিল অপ্রতিরোধ্য। দেখলাম চারদিক জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এরপর আমাদের বন্ধু হাসানের বাসার ছাদে উঠলাম। দেখলাম, রাজারবাগে আক্রমণ চলছে। আমরা সারা রাত সারা শহর জ্বলতে দেখলাম। ভোরবেলা দেখলাম আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা বেশ আহত। নগ্ন, অর্ধনগ্ন, আহত হয়ে পড়ে আছেন। কারও কারও হাতে রাইফেল। আমরা সাধ্যমতো কাপড় ও খাবার দিলাম। ওরা বললো, ‘আমরা চলে যাবো। ওরা কাউকে ছাড়বে না।’ বললাম, ‘ঠিক আছে আপনারা চলে গেলে অস্ত্রগুলো রেখে যান।’ এই প্রথম আমরা রাইফেল পেলাম। প্রশিক্ষণ শেষে ২ নম্বর সেক্টরের হয়ে লড়াই করেছি। কতগুলো গেরিলা আক্রমণ করেছি তার হিসাব বলা কঠিন।

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলো। এর দেড় মাস পর অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম ৩১ জানুয়ারি। শেষ দিন ছিল সেটা। বলা হলো, পাঁচটার পরে আর অস্ত্র নেবে না। অ্যারেস্ট করবে!

আমি চাইছিলাম, আমার অস্ত্র যেন বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে নেন। এরপর শেখ কামাল আগের দিন ফোন দিয়ে বললেন, কাল জমা দিতে (৩১ জানুয়ারি)। বঙ্গবন্ধু না হলেও খালেদ মোশাররফ হয়তো নিজ হাতে জমা নেবেন। 

আমি বলেছিলাম যে বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারও কাছে অস্ত্র জমা দেবো না। অবশেষে তা-ই হলো। 

আমি সাত ট্রাক অস্ত্র আর সাড়ে চারশ’র মতো সোলজার নিয়ে গেলাম পুরাতন গণভবনে। এটা তখন রমনার মিন্টু রোডের পাশে। বঙ্গবন্ধুই আমার কাছ থেকে অস্ত্র বুঝে নিলেন। একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। সেটা হলো বঙ্গবন্ধু আমার চিবুকে হাত দিয়ে স্নেহ করছেন। এটা সেই সমর্পণ অনুষ্ঠানের। এই অনুষ্ঠানও আমার জীবনের স্মরণীয় এক ঘটনা। একজন সোলজারের অহমিকা থাকে। সেটা ভেঙে আমি অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু আমাদের কথা শুনছিলেন আর আদর করে দিচ্ছিলেন। এরপরই ফিরে এলাম সাধারণ জীবনে।

শ্রুতিলিখন: ওয়ালিউল বিশ্বাস

/এম/এমএম/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
কুমিল্লা সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন রিফাত
কুমিল্লা সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন রিফাত
২ ছাত্রীকে মারধর করা সেই শিক্ষক পলাতক
২ ছাত্রীকে মারধর করা সেই শিক্ষক পলাতক
ডিজিটাল যন্ত্রে বাংলা লেখার সীমাবদ্ধতা আর নেই: মোস্তাফা জব্বার
ডিজিটাল যন্ত্রে বাংলা লেখার সীমাবদ্ধতা আর নেই: মোস্তাফা জব্বার
মাইকোলাইভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার
মাইকোলাইভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার
এ বিভাগের সর্বশেষ
রাজশাহীতে শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসব
রাজশাহীতে শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসব
১৪ ডিসেম্বরের যুদ্ধচিত্র উঠে এলো সাধনার পারফরম্যান্সে
১৪ ডিসেম্বরের যুদ্ধচিত্র উঠে এলো সাধনার পারফরম্যান্সে