চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক আসর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২০ সালের সেরাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে, এবার ২৭টি ক্যাটাগরিতে ৩১ জনকে এই স্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।
এতে শ্রেষ্ঠ ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমার গানের জন্য গায়ক ও সংগীত পরিচালক বিভাগে দুটি পুরস্কার জেতেন ইমরান মাহমুদুল। অন্যদিকে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার ভাগ করতে হচ্ছে দিলশাদ নাহার কণা (বিশ্বসুন্দরী) ও সোমনুর মনির কোনালকে। কণা ‘বিশ্বসুন্দরী’র জন্য আর কোনাল পাচ্ছেন ‘বীর’ প্লেব্যাকের জন্য।
এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে কণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াটি এমন, ‘‘ইমরানের সঙ্গে আমি এর আগে ৩-৪ বার বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছি। সে আমাকে কেন জানি এ গানটি করার সময়ই বলেছিলো, ‘দেখো আপু, জাতীয় পুরস্কার পেলেও আমরা একসঙ্গে পাবো।’ সেটাই হলো এবার। প্রথমেই ধন্যবাদ কবির বকুল ভাইকে। তিনি খুব সুন্দর গানটা লিখেছেন। ধন্যবাদ চয়নিকা দি, ইমরানসহ পুরো ‘বিশ্বসুন্দরী’ টিমকে।’’
অন্যদিকে কোনালও এবারই প্রথম এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কারটি পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার আব্বাকে খুব মিস করছি এখন। আজ যখন কনফার্ম হলাম, আমি অনেক কাঁদছি। হয়তো দুটা বছর আগে হলে বাবা পুরস্কারটা দেখে যেতে পারতেন। মা অন্তত মেয়ের প্রাপ্তি দেখলেন। রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি- একজন শিল্পীর জন্য আর কি লাগে! আমার এই অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে এটা যে কত বড় প্রাপ্তি, তা বলে বোঝানো যাবে না। একটা সময় আমি কুয়েত থেকে শুধু এই গানের জন্য দেশে এসেছিলাম। আমার শ্রোতাদের কাছে যে কমিটমেন্ট করেছিলাম, তা কিছুটা হলেও রাখতে পারলাম। দায়িত্বটা বেড়ে গেলো।’
দেখে নেওয়া যাক ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারগুলো-
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র- যৌথভাবে
১. গোর (গাজী রাকায়েত, ফরিদুর রেজা সাগর)
২. বিশ্বসুন্দরী (অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু)
শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র- আড়ং
শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র- বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক- গাজী রাকায়েত হোসেন (গোর)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- সিয়াম আহমেদ (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- দীপান্বিতা মার্টিন (গোর)
শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা- ফজলুর রহমান বাবু (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী- অপর্ণা ঘোষ (গণ্ডি)
শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা- মিশা সওদাগর (বীর)
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী- মুগ্ধতা মোর্শেদ হৃদ্ধি (গণ্ডি)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার- শাহাদৎ হাসান বাধন (আড়ং)
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক- বেলাল খান (হৃদয় জুড়ে)
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক- প্রয়াত সহিদুর রহমান (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ গায়ক- ইমরান মাহমুদুল (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ গায়িকা- যৌথভাবে
১. দিলশাদ নাহার কণা (বিশ্বসুন্দরী)
২. সোমনুর মনির কোনাল (বীর)
শ্রেষ্ঠ গীতিকার- কবির বকুল (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ সুরকার- ইমরান মাহমুদুল (বিশ্বসুন্দরী)
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার- গাজী রাকায়েত (গোর)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার- গাজী রাকায়েত (গোর)
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা- ফাখরুল আরেফীন খান (গণ্ডি)
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক- শরিফুল ইসলাম (গোর)
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক- উত্তম কুমার গুহ (গোর)
শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক- যৌথভাবে
১. পঙ্কজ পালিত (গোর)
২. মাহবুব নিয়াজ (গোর)
শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক- কাজী সেলিম আহমেদ (গোর)
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা- এনাম তারা বেগম (গোর)
শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান- মোহাম্মদ আলী বাবুল (গোর)
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় নিয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে এই পদক।




