ঘোষিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০ বিজয়ীদের নাম। যেখানে ‘হৃদয়জুড়ে’ ছবির ‘বিশ্বাস যদি যায় রে’ গানের জন্য সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন বেলাল খান। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এম এ রহমান নামের নবীন সংগীত পরিচালক।
নোটিশে তার দাবি, ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘সংগীত’ ক্যাটাগরি থেকে সংগীত পরিচালক বেলাল খানের নাম কেটে তার নাম সংযুক্ত করা হয়।
এমন দাবির পরপরই থানার দ্বারস্থ হলেন সংগীতশিল্পী বেলাল খান।
এম এ রহমানের আচরণ অসম্মানজনক ও হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় বেলাল তা করেছেন।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, ‘মোহাম্মদ আশিকুর রহমান (এম এ রহমান) আমার নির্দেশনায় শুধু একজন মিউজিসিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। যেমনিভাবে অন্য মিউজিসিয়ানরা করেন। অথচ তিনি নিজেকে উক্ত গানের সংগীত পরিচালক দাবি করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। যা সাংবাদিকসহ সুধীজনদের ট্যাগ করে। যাতে উক্ত গানের প্রকৃত সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবে আমার জন্য সত্যিই অসম্মানজনক ও দুঃখের।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘হৃদয়জুড়ে’ ছবির পরিচালক রফিক সিকদার ফেসবুকেও জানিয়েছেন, তিনি এম এ রহমান নামের কাউকে ‘বিশ্বাস যদি যায় রে’ গানের কাজ দেননি ও চেনেন না। এম এ রহমানের এমন দাবি বেলাল খানের ক্যারিয়ারের জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও উল্লেখ করেন এ গায়ক।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বেলাল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘শুধু অন্যকে ছোট করতে তিনি (এম এ রহমান) এ কাজটি করছেন। যারা সংগীতে কাজ করেন, তারা ভালো করেই জানেন কীভাবে গান সম্পন্ন হয়। গানটিতে বাবু ও মীর মাসুদ ভাইয়ের মতো এম এ রহমানও একজন অ্যারেঞ্জার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। কেউ যদি একটা স্ট্রিং বাজান আর দাবি করেন, তিনি সংগীত পরিচালক- তাহলে তো হবে না। এটা হাস্যকর।’’
উদাহরণ টেনে বেলাল খান আরও বলেন, ‘‘আম্মাজান’ গানে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েছেন শওকত আলী ইমন ভাই। কিন্তু তাই বলে তো তিনি তার সংগীত পরিচালক নন। সংগীত পরিচালক ছিলেন প্রয়াত স্যার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আরেকটি কথা, ‘বিশ্বাস যদি যায় রে’ গানটি প্রকাশিত হয়েছে আড়াই বছর আগে। এত পরে কেন তিনি (এম এ রহমান) প্রতিবাদ করছেন? কারণটা কিন্তু জাতীয় পুরস্কার। হয়তো বিতর্ক সৃষ্টি করে এই পুরস্কারটা বাতিল করতে পারেন, কিন্তু আমি পিছু পা হবো না।’’
অন্যদিকে, এম এ রহমানের দাবি গানটির প্রকৃত পরিচালক তিনি নিজে। আর এর জন্য এবার তথ্য সচিব বরাবর আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে বেলাল খানের নাম বাদ দিয়ে তার নাম যুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।
এম এ রহমান পক্ষে আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেজবা উদ্দীন শরীফ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘‘মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ওরফে এম এ রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত তার সংগীত পরিচালনায় প্রায় দুই শতাধিক গান প্রকাশ পেয়েছে। এম এ রহমানের সঙ্গীত পরিচালনায় বেলাল খানের প্রায় ত্রিশটি গানের কাজের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এম এ রহমান ২০১৯ সালে নভেম্বরে ‘হৃদয় জুড়ে’ চলচ্চিত্রে বেলাল খানের গাওয়া ‘বিশ্বাস যদি যায় রে ভেঙে’ গানটির সংগীত পরিচালনা করেন। কিন্তু গত ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০-এর প্রজ্ঞাপনের ১৩ নং ক্রমিকে বর্ণিত সংগীত পরিচালক হিসেবে তার নামের পরিবর্তে বেলাল খানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ এই গানটি সম্পূর্ণ এম এ রহমানের সংগীত পরিচালনায় সৃষ্টি হয়েছে, যাহা সংশোধন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।’’
আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘উক্ত গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার পর এম এ রহমান প্রতিবাদ করিলে বেলাল খান তাকে মনগড়া (অ্যারেঞ্জার) শব্দের সাথে পরিচিত করান এই বলে যে, ‘সংগীত পরিচালকের আধুনিক অর্থ অ্যারেঞ্জার অর্থাৎ তুমিই তো এই গানের সংগীত পরিচালক।’
তবে বেলাল খান তার অভিযোগগুলো অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ‘বিশ্বাস যদি যায় রে ভেঙে’ গানটির প্রথম সংগীতায়োজক মীর মাসুমও ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ হাজির করেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে এই গানটির ৯০ ভাগ সংগীতায়োজন তিনিই করেছেন বেলাল খানের সুর-সংগীত পরিচালনায়। পরে সিনেমার জন্য সংগীতায়োজনে খানিক পরিবর্তন আনা হয় এম এ রহমানের সহযোগিতায়।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বেলাল খানের নাম বাদ দিতে আইনি নোটিশ




