X
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২
১৬ আশ্বিন ১৪২৯

বদলে গেছে বিখ্যাত সিনেমা হল মণিহারের হাল

তৌহিদ জামান, যশোর
০৮ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৯আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৭:৩৪

বদলে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় আসনের (১৫০০ সিট) সিঙ্গেল স্ক্রিন যশোরের বিখ্যাত সিনেমা হল মণিহারের হাল। দর্শক খরায় এই অঞ্চলের সব হল বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও টিকে আছে এটি। করোনাকালে এই হলটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম ঘটে। যদিও কোরবানির ঈদের পর থেকে সেই দুর্দিন অনেকটাই কেটে যাওয়ার পথে।  

সোমবার (৮ আগস্ট) সকাল পৌনে দশটার দিকে মণিহার প্রেক্ষাগৃহের টিকিট কাউন্টারে বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীর দেখা মিললো। তারা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে রয়েছেন টিকিট কেনার জন্যে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রথম শোতে (মর্নিং শো) তারা ‌‘হাওয়া’ দেখতে এসেছেন।

এই তরুণরা যশোরের বিভিন্ন কলেজের ছাত্র। বন্ধুরা সব দলবেঁধে এসেছেন সিনেমা দেখতে। যেমন চিত্র নিকট অতীতে দেখা যেতো না।

যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী আরমান ও তার সাত বন্ধু এসেছেন এদিন। লাইনে দাঁড়িয়ে ১২০ টাকা মূল্যের ড্রেস সার্কেলের (ডিসি) টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

তিনি জানান, ‘‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুমি বন্ধু কালা পাখি...’ গানটি আমরা শুনেছি; ট্রেলার দেখেছি। এই ছবিটি তখন থেকেই মনস্থির করেছি হলে বসেই দেখবো। সে কারণে বন্ধুরা একত্রিত হয়ে আজ সকালেই দেখতে এসেছি।’’

শুধু শিক্ষার্থীরা নন, ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক শাহিনুজ্জামানও এসেছেন ছবি দেখতে। সকালে যশোরে নেমেছেন বাস থেকে। নাশতা সেরেই বন্ধুকে নিয়ে উপভোগ করতে এসেছেন ‘হাওয়া’।সর্বশেষ ২০০৩ সালে তিনি মণিহার হলে ছবি দেখেন। দীর্ঘদিন পর আবারও হলমুখী হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, অতি সম্প্রতি কিছু তরুণ নির্মাতা ভালো সিনেমা তৈরি করছেন।

বদলে গেছে বিখ্যাত সিনেমা হল মণিহারের হাল এই শিক্ষক বলেন, ‘মানুষের বিনোদনের জায়গা বেশ সংকুচিত হয়ে গেছে। আগে আমরা সিনেমাকেই প্রায়োরিটি দিয়েছি বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে। মাঝে দেশে যে ধারার মুভি নির্মাণ করা হয়েছে, একজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সেসব মুভি পরিবার তো দূরের কথা, একাও দেখা অসম্ভব ছিল না। হাল আমলে বেশ কিছু মুভি হয়েছে বেশ ভালো মানের। সে কারণে ফের ঝুঁকছে মানুষ হলের দিকে। ঝুঁকলাম আমিও।’

এদিকে গত ঈদ থেকে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র সূত্র ধরে যে দর্শক সমাগম বেড়েছে, নিকট অতীতে এত দর্শক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মণিহার কর্তৃপক্ষ।

এই প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘‘গেল ৪-৫ বছরে সিনেমা হলে আমরা খুব বেশি দর্শক পাইনি। এই সময়ে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমা দুটির জন্য দর্শক আসছেন, সিনেমা উপভোগ করছেন।’’

মণিহার প্রেক্ষাগৃহের টিকিট বিক্রেতা ওমর খসরু টিটো বলেন, ‘গেলো ৪-৫ বছরে দর্শকদের এমন উপস্থিতি আসলেই লক্ষ করা যায়নি। মর্নিং শো আমাদের নিয়মিত শো নয়। সম্প্রতি এটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‘গত শুক্রবার হলে ‘হাওয়া’ লেগেছে; এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই দর্শক আসছেন। সাধারণত তরুণ-যুবরাই বেশি আসছে। ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র ব্যাপক প্রচারে তরুণরা বেশি আকৃষ্ট হয়েছেন; তারা সে কারণে দলবদ্ধভাবেই টিকিট সংগ্রহ করছেন। আমি দেখেছি, খুব কমসংখ্যক দর্শক এসেছেন, যারা কিনা সিঙ্গেল টিকিট কিনেছেন। ৭-৮ কিংবা ৮-১০টি করে টিকিট কিনছেন তরুণরা।’’

মণিহার কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিদিন এখন ৫টি করে শো চলছে। মর্নিং শোতে দর্শক সংখ্যা একটু কম হয়, তবু আসছে। বিকাল আর সন্ধ্যার শোয়ে ভিড় একটু বেশি হয়। টিকিটের দাম ড্রেস সার্কেল ১২০ টাকা আর রিয়ার স্টল ১০০ টাকা। গত ৫ আগস্ট টিকিটের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে টিকিটের দাম ১০০ ও ৮০ টাকা ছিল বলে জানানো হয়েছে।

বদলে গেছে বিখ্যাত সিনেমা হল মণিহারের হাল প্রেক্ষাগৃহের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ খরার পর হলে দর্শক ফিরে আসায় খুবই ভালো লাগছে। সুন্দর কাহিনিনির্ভর সুস্থধারার সিনেমা নির্মিত হলে দর্শকরা আবারও হলমুখী হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

মণিহার প্রেক্ষাগৃহের ম্যানেজার তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘‘আমরা যেভাবে আশা করেছিলাম, ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমা আমাদের নিরাশ করেনি। ‘পরাণ’ সিনেমায় আমরা রিপিট (একাধিকবার) দর্শক পেয়েছি। ‘হাওয়া’ তো কেবল লেগেছে, আরও কয়েক দিন না গেলে বোঝা যাবে না।’’

১৯৮৩ সালে সোহেল রানা-সুচরিতা অভিনীত ও দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘জনি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা করে দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল মণিহার।

যাত্রার শুরু থেকে মণিহারে দিনে চারটি শোতেই নামতো দর্শকের ঢল। দূরদূরান্ত থেকে সিনেমাপ্রেমী মানুষদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকতো প্রেক্ষাগৃহটি। কিন্তু নব্বই দশকের পর থেকে দর্শক খরা শুরু হয়। সেই খরা আবারও কাটছে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ দিয়ে। এমনটাই বিশ্বাস করছেন মণিহার সংশ্লিষ্টরা। বদলে গেছে বিখ্যাত সিনেমা হল মণিহারের হাল

/এএম/এমএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধন কলকাতার বাড়ির পুজোয়
আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধন কলকাতার বাড়ির পুজোয়
প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে যাচ্ছেন : কৃষিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে যাচ্ছেন : কৃষিমন্ত্রী
কবে যাবে বর্ষা?
কবে যাবে বর্ষা?
এ বিভাগের সর্বশেষ
দশ রূপে মম
দশ রূপে মম
ফের তামিলের বাজিমাত, মন্দের ভালো হিন্দি
বক্স অফিসফের তামিলের বাজিমাত, মন্দের ভালো হিন্দি
ঢালি-টলি-বলি: সন্তান নিয়ে স্বস্তিতে তারা
ঢালি-টলি-বলি: সন্তান নিয়ে স্বস্তিতে তারা
‘বীর ঘটনা’র পর ক্যামেরায় শাকিব-বুবলী, বাস্তবে...
‘বীর ঘটনা’র পর ক্যামেরায় শাকিব-বুবলী, বাস্তবে...
নদীর সঙ্গে নতুন গান
নদীর সঙ্গে নতুন গান