‘সুভাষ দত্ত-অনুশীলন’ ও সুভাষ দত্ত

বিনোদন রিপোর্ট
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:০৪আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১২:৫০

সুভাষ দত্ত. ৯ ফেব্রুয়ারি কীর্তিমান চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্তের ৮৬ তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সুভাষ দত্ত স্মৃতি পরিষদ ও সুভাষ দত্ত পরিবার ও ভারমিলিয়ন ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া ইনস্টিটিউট যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
এদিন বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ‘সুতরাং তিনি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী হয়ে রইলেন’শীর্ষক সুভাষ দত্ত স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ‘সুভাষ দত্ত-অনুশীলন’শীর্ষক চলচ্চিত্র শিক্ষা কার্যক্রম-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
৯০’র শুরুর দিকে সুভাষ দত্তের হাতেই শুরু হয় ‘অনুশীলন’নামে প্রাথমিক চলচ্চিত্র অভিনয়ের ক্লাস। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বড় কলবরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘সুভাষ দত্ত-অনুশীলন’চলচ্চিত্র শিক্ষা কার্যক্রম। এবারের অনুশীলনে শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্র অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শৈল্পিক ও কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষা লাভ করবেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সুভাষ দত্ত অভিনীত ও পরিচালিত চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করবে গানের দল ‘মনমৃত্তিকা’।

সুভাষ দত্ত পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণের কৌশল শিখতে ভারতের বোম্বেতে গিয়ে যান। ছায়াছবির পাবলিসিটি ষ্টুডিওতে মাত্র ত্রিশ টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন।

১৯৫৩ সালে ভারত থেকে ঢাকায় ফিরে যোগ দেন প্রচার সংস্থা এভারগ্রিন-এ। এরপর তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন চলচ্চিত্রের পোস্টার আঁকার কাজের মাধ্যমে। ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পোস্টার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম এর ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে একজন দুষ্ট নায়েব (কানুলাল) এর ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এটি মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি। ষাটের দশকের শুরুর দিকে নির্মিত বহুল আলোচিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। মুস্তাফিজ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি লাভ করে ৪ আগস্ট, ১৯৬১ এবং এটি বাংলা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে এক পেক্ষাগৃহে পঁচিশ সপ্তাহ প্রদর্শনের রেকর্ড তৈরি করে।

এরপর তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে তিনি কৌতুকাভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেও বেশ প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।

১৯৫৭ সালে ভারতের হাই কমিশনের উদ্যোগে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ওয়ারীতে। সেখানে দেখানো হয় সত্যজিৎ রায়'র ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রটি। এটি দেখেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৬৩ সালের মে মাসে তিনি নির্মাণ শুরু করেন ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রটি এবং ১৯৬৪ সালে এটি মুক্তি দেন। এ ছবির মাধ্যমেই তার হাতধরে উঠে আসেন বরেণ্য অভিনেত্রী কবরী। এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্মাননা লাভ করেছিল। ১৯৬৮ সালে জহুরুল হক ও প্রশান্ত নিয়োগির লেখা কাহিনি নিয়ে ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন সুভাষ দত্ত এবং ছবির একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একবার আটক করে সুভাষ দত্তকে। তবে কয়েকটি উর্দু ছবিতেও অভিনয় করার কারণে তখন পাকিস্তানেও তিনি পরিচিত মুখ। সেই সুবাদে সেসময় পাকিস্তানি বাহিনী তাকে ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মাণ করেন ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, যাকে তার বানানো অন্যতম সেরা ছবি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭৭ সালে আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস '২৩ নম্বর তৈলচিত্র' অবলম্বনে ‘বসুন্ধরা’ নামের যে চলচ্চিত্র তিনি নির্মাণ করেন- তা আজও চলচ্চিত্র সমালোচকদের আলোচনার বিষয়। সুভাষ দত্ত
সত্তর দশকের শেষের দিকে ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর লেখা গল্প গলির ধারের ছেলেটি অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করছিলেন ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি। এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি একাধারে চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও শিল্প নির্দেশক ছিলেন।
/এমআই/এম/

সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প