জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস: প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার আহ্বান

কামরুল ইসলাম
০৩ এপ্রিল ২০২৩, ০০:০২আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ০১:৫৩

প্রায় শতবর্ষ আগে ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণের সূচনা হয়েছিল। তবে তা বাণিজ্যিক রূপ পেতে লেগেছে আরও বহু সময়। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায় ঢাকায় নির্মিত প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। এরপর থেকেই মূলত চলচ্চিত্র নিয়ে ঢাকাই মানুষের আগ্রহ, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের বিস্তার ঘটে। যা টের পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেজন্য ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বা ইপিএফসিডি। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএফডিসি নামে পরিচিতি পেয়েছে। 

বঙ্গবন্ধুর সেই যুগান্তকারী পদক্ষেপের দিনটি স্মরণীয় রাখতেই ২০১২ সালে ‘চলচ্চিত্র দিবস’র সূচনা হয়। সেই থেকে প্রতি বছরের ৩ এপ্রিল এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এবারও নানা আয়োজনে বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। তবে রোজার কারণে আয়োজনের রঙ কিছুটা মলিন থাকছে। সরেজমিন দেখা যায়, রবিবার (২ এপ্রিল) বিকাল থেকেই এফডিসি আঙিনায় সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন টানানোসহ প্রবেশদ্বার নির্মাণ, রঙিন নেট ও আলো দ্বারা বিভিন্ন দেয়াল সাজানো হচ্ছে। 

এবারের চলচ্চিত্র দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘দেশীয় চলচ্চিত্রকে ভালোবাসুন, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখুন’।

চলচ্চিত্র দিবসের সার্বিক আয়োজন নিয়ে এফডিসির চিফ অব ফ্লোর অ্যান্ড সেট এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া রবিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু রমজান মাস, তাই সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করতে পারছি না। তবে সকাল ১০টায় র‌্যালি হবে, এরপর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হবে। এরপর একটি আলোচনা সভা হবে। যেখানে চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা ও আগামীর উন্নয়ন সম্পর্কে কথা বলবেন বক্তারা।’

হিমাদ্রি বড়ুয়া এ দিবসের ভাবনা ও আয়োজন নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান সভাপতি, কিংবদন্তি নির্মাতা-অভিনেতা কাজী হায়াতের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আমি শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ। তবে অনুষ্ঠানে যাওয়ার ইচ্ছে আছে আমার।’

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের তাৎপর্য কিংবা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জানতে চাইলে এই নির্মাতা বলেন, ‘বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বঙ্গবন্ধু যে বিল উত্থাপন করেছিলেন, সেটার স্মরণেই এই দিবস পালন করা হয়। এটাই এই দিবসের তাৎপর্য। এর বাইরে চলচ্চিত্র দিবসে আগামীর উন্নয়নের, চলচ্চিত্রের মঙ্গল হতে পারে, এমন কিছু কর্মসূচি বা প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়। এবারও তা-ই হবে। এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো আমরা।’

এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন।

চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজন সম্পর্কে অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্মাতা, প্রযোজক, কুশলী সবাইকে জানানো হয়েছে বলে তথ্য দিলেন হিমাদ্রি বড়ুয়া। তার ভাষ্য, ‘সবাইকে জানানো হয়েছে। যারা সুযোগ পাবেন, আসবেন। আমি বহু বছর ধরেই এফডিসির সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছরই আমরা বেশ জমকালো আয়োজনে দিবসটি পালন করি। তবে রোজার কারণে এবার সীমিত আয়োজন।’ সাজলো এফডিসি প্রাঙ্গণ

/এমএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প