বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপতন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (৮ মে) মারা যান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। পশ্চিমবঙ্গের এই লেখক তার লেখার জাদুতে বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ফলে তার মৃত্যুতে শোকের বিষণ্ণতা এপারেও ভেসে এসেছে।
সমরেশ মজুমদারের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস ‘কালবেলা’। এটি অবলম্বনে সিনেমা বানিয়েছিলেন গৌতম ঘোষ। যেখানে গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র ‘মাধবীলতা’র ভূমিকায় অভিনয় করেন পাওলি দাম। সেই সুবাদে সমরেশের সঙ্গেও পরিচয়-সখ্য গড়ে ওঠে অভিনেত্রীর।
বর্তমানে মুম্বাইতে শুটিংয়ে ব্যস্ত পাওলি। সেখান থেকেই মুঠোফোনে সমরেশ প্রয়াণের খবরটা পান। আর তাতেই স্তব্ধ, হতবাক। তবু কিছু কথা না বললেই নয়। তাই স্মৃতির ডায়েরি খুলে জানালেন কিছু গল্প।
পাওলি বলেন, “গৌতমদার নেতৃত্বে ‘কালবেলা’ করার সময়েই সমরেশদার সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়। এর আগে তার লেখা পড়েছি। মুগ্ধ ছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সমরেশদার সঙ্গে পরিচয় হওয়া ছিল আলাদাই অভিজ্ঞতা। সময়টা ২০০৬ সালের শেষের দিক হবে। ২০০৭-এ আমরা ‘কালবেলা’র শুটিং শুরু করি। তার আগে মাঝেমাঝেই সমরেশদার সঙ্গে আড্ডা হতো। কাজ নিয়ে কথা তো হতোই, কিন্তু সমরেশদা দারুণ আড্ডাবাজ ছিলেন। সিনেমা, সাহিত্য থেকে খাওয়াদাওয়া—সবেতেই সমান আগ্রহ। সবসময় মজার মজার গল্প বলতেন আর খুব হাসাতে পারতেন।”
পাওলি জানান, বাংলাদেশের প্রতি সমরেশ মজুমদারের অসামান্য ভালোবাসা ছিল। তার ভাষ্য, ‘ওপার বাংলার প্রতি খুব টান ছিল। আমি ফরিদপুরের মেয়ে (পাওলির পৈতৃক ভিটা ফরিদপুরে, তবে তার জন্ম কলকাতায়) শুনেই কত গল্প করেছিলেন। ওপারের রান্নাবান্না, মানুষজন—সবই ঢুকে পড়তো গল্পে, আড্ডায়।’
‘কালবেলা’ সিনেমার স্মৃতি ঘেঁটে পাওলি দাম বললেন, “মাধবীলতা’ আমার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বলা চলে। এর আগে এত বলশালী চরিত্রে কাজ করার দায়িত্ব সেভাবে আসেনি। মাধবীলতা তো ভালোবাসার প্রতীক। বাঙালির চোখে সেই চরিত্রের আলাদা জায়গা রয়েছে। মাধবীলতা হয়ে ওঠার জন্য তাই আমিও নানা রকমভাবে চেষ্টা করেছি। শেষে যখন ছবিটি তৈরি হলো, সমরেশদা সেটি দেখে আমাকে খুব বড় সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার লেখার মাধবীলতা আর পর্দায় তোমার চরিত্রের মধ্যে কোনও পার্থক্য পাইনি। তুমি এটা কী করে করলে!’ স্বয়ং লেখকের কাছ থেকে এ কথা শুনতে পাওয়া সত্যিই খুব বড় প্রাপ্তি।”
সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে আর দেখা হয়নি সমরেশ-পাওলির। সেই আক্ষেপ জানিয়ে অভিনেত্রী জানালেন, ‘খুব সুন্দর সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল আমাদের। পরে অনেক সময় বলতেন এমনিই গল্প করতে যেতে। আমি তার বাড়ি, অফিসে গিয়েছি আগে। তবে করোনার পর থেকে আর দেখাই হয়নি। মহামারির এই সময়টায় যেমন সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সমরেশদার সঙ্গেও খানিকটা তেমনই হয়। তবে আর যে কখনও দেখাই হবে না, তা তো ভাবতে পারিনি। এখনও পারছি না।’
পাওলি দাম ছাড়াও টলিউডের অনেক তারকা সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি থেকে শুরু করে শ্রীলেখা মিত্র, সৃজিত মুখার্জিসহ অনেকেই সোশ্যাল হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়েছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার




