বেশি খরচার যুগ। এই সময়ে গোটা একটা মিউজিক অ্যালবাম তৈরি হলো। অথচ এক টাকাও খরচ হয়নি! এমনই অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে তরুণ সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানির নতুন অ্যালবাম ‘লুটপাট-মিউজিয়াম অব স্যাডনেস’র ক্ষেত্রে।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত এলাপে সানি জানালেন, তার এই অ্যালবামে মোট সাতটি গান রয়েছে। এগুলো তৈরিতে বিভিন্নভাবে কাজ করেছেন দেশের অনেক মেধাবী তরুণ। তবে তারা কেউই পারিশ্রমিক নেননি। বরং পারষ্পরিক ভালোবাসা থেকেই কাজগুলো করেছেন। এজন্য ‘লুটপাট’কে ‘আর্টিস্ট ফান্ডেড অ্যালবাম’ বলে অভিহিত করছেন তারা।
সানি বলেন, “আমার জানা মতে দেশে এমন অ্যালবাম কেউ করেননি। এটা আসলে অভাবনীয় একটা ব্যাপার। অ্যালবামটিতে যারা কাজ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই প্রফেশনাল মিউজিশিয়ান। অথচ তারা কোনও টাকা নেননি। আমার অ্যালবামের গানগুলোর জন্য কেউ গিটার বাজিয়েছেন, কেউ রেকর্ডিংয়ে ছিলেন, কেউ কম্পোজিশনে কাজ করেছেন, কেউ আবার স্টুডিও দিয়েছেন। এভাবে সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই ‘লুটপাট’ পূর্ণতা পেয়েছে।”
এই অ্যালবামের বিভিন্ন গানে সানিকে সঙ্গ দিয়েছেন ‘মেঘদল’ ব্যান্ডের রাশেদ শরীফ শোয়েব, ‘চিরকুট’র জাহিদ নিরব, ‘স্মুচেস’ ব্যান্ডের মিছিল, ‘সহজিয়া’র জাফরি ও আয়নাস মহল্লা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েকটি গানে ড্রামস বাজিয়েছেন আরাফাত কাজী, বেজ বাজিয়েছেন জ্যাসন ও রুদ্র, ভায়োলিনে ছিলেন ভাস্কর এবং কি-বোর্ডে আসিলুল।
শুধু তাই নয়, কলকাতার বিখ্যাত ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের নীল মুখার্জিও একটি গানে কাজ করার কথা রয়েছে। এজন্য শিগগিরই ভারতে যাবেন সানি।
কেবল অডিও গান নয়, ‘লুটপাট’র গানগুলোর ভিডিও নির্মাণেও ‘জিরো কস্ট’ পন্থা অবলম্বন করেছেন সানি। টিম প্ল্যাটফর্ম ও গুপি বাঘা প্রডাকশন তার দুটি গান প্রযোজনা করেছে।
ইতোমধ্যে অ্যালবামটির তিনটি গান প্রকাশ হয়েছে। এগুলো হলো- ‘আমরা হয়তো’, ‘খুনি তত্ত্ব’ ও ‘পথের পাথর’। এর মধ্যে প্রথম গানটি কেবল সানির ইউটিউব চ্যানেল থেকেই ১২ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে।
উল্লেখ্য, বছর সাতেক আগে ‘মুক্তাঞ্চল’ অ্যালবাম দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন আহমেদ হাসান সানি। সে অ্যালবামের কয়েকটি গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল। সিনেমায়ও গান করেছেন এ তরুণ। গিয়াসউদ্দিন সেলিম নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’-এ তার গাওয়া ‘আমারে উইড়াইয়া দিও’ মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের।




