মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন দুজনেই। সেটা থেকে আর সেরে উঠতে পারেননি। ঢাকাই শোবিজে শোকের বোঝা দ্বিগুণ করে দুজনে একই দিনে (২০২২ সালের ৮ জুলাই) পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। শনিবার (৮ জুলাই) তাদের প্রথম প্রয়াণ দিবস।
মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বিদায় নেওয়া সেই তারকাদ্বয় হলেন শর্মিলী আহমেদ ও আলম খান। একজন অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঢাকার সিনেমা ও নাটকে; অন্যজনের সুর-সংগীত সমৃদ্ধ করেছে দেশের সংস্কৃতি। গেলো বছরের ৮ জুলাই সকাল সাড়ে আটটার দিকে মারা যান শর্মিলী আহমেদ। এর মাত্র তিন ঘণ্টা পরই মৃত্যু হয় আলম খানের।
বাবা আলম খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন পুত্র আরমান খান। এছাড়া পারিবারিকভাবেও শিল্পীর স্মরণে আয়োজন থাকছে। তবে দুই তারকার প্রয়াণবার্ষিকীতে সংগীত কিংবা অভিনয় অঙ্গনে কোনও আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি।
এক নজরে আলম খান
১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে আলম খান জন্মগ্রহণ করেন। কয়েক বছর পর বাবার চাকরির সুবাদে তিনি কলকাতায় চলে যান। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাবার সঙ্গে ঢাকায় আসেন। এরপর এই নগরেই তার বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, সংগীত সব। স্কুলজীবনেই সংগীত চর্চা শুরু করেন তিনি। ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জির কাছ থেকে নিয়েছেন গানের দীক্ষা।
আলম খান মূলত সিনেমার গানে সুর-সংগীতের জন্য বিখ্যাত। ১৯৭০ সালে আবদুল জব্বার খানের ‘কাঁচ কাটা হীরে’ সিনেমার মাধ্যমে তার সেই ক্যারিয়ার শুরু হয়। তার সুরকৃত প্রথম জনপ্রিয় গান ‘স্লোগান’ সিনেমার ‘তবলার তেড়ে কেটে তাক’। ১৯৭৮ সালে তার ক্যারিয়ারের উত্থান হয় ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানের মাধ্যমে। আবদুল জব্বারের কণ্ঠে গানটি ছড়িয়ে যায় দেশজুড়ে, যেটা এখনও সমান জনপ্রিয়।
পরবর্তী সময়ে আলম খানের সুরে ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কি জাদু করিলা’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘ভালোবেসে গেলাম শুধু’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘সাথীরে যেও না কখনো দূরে’, ‘কাল তো ছিলাম ভালো’, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’সহ বহু গান কালজয়ী হয়েছে। জীবদ্দশায় তিন শতাধিক সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন এই নন্দিত ব্যক্তি। তার সুরারোপিত গানের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে ছয়বার এবং শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন আলম খান।
এক নজরে শর্মিলী আহমেদ
১৯৪৭ সালের ৮ মে মুর্শিদাবাদের বেলুরচাক গ্রামে জন্ম তার। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী পিএন গার্লস হাই স্কুল থেকে। ১৭ বছর বয়সেই পেশাদার অভিনয়ে যুক্ত হন তিনি। এর দু’বছর আগে ১৯৬২ সালে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেন শর্মিলী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘দম্পতি’তে কাজ করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৪০০ নাটক ও দেড় শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ। তিনি মূলত মা চরিত্রে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। এ কারণে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই তাকে ‘মা’ সম্বোধন করতেন। এই মা-অধ্যায় শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ মহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ নাটকের মাধ্যমে।




