গণ-অর্থায়নে নির্মিত একটি সিনেমা। গেলো বছর ভারতের গোয়ায় ‘৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’তে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেয়। অতঃপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েও দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়।
বলা হচ্ছে, খন্দকার সুমন নির্মিত ‘সাঁতাও’ সিনেমার কথা। সাফল্যের নানা ধাপ পেরিয়ে এটি এবার অংশ নিচ্ছে রাশিয়ার উৎসবে। ‘১৯তম কাজান আন্তর্জাতিক মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসব’-এ নির্বাচিত হয়েছে এটি। উৎসবটির ‘রাশিয়া- দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে ছবিটি।
আগামী ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার তাতারিস্তান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কাজান শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন তাতারিস্তানের প্রেসিডেন্ট রুস্তম মিনিখানভ এবং রাশিয়ার সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়।
সুখবরটি নিশ্চিত করে ‘সাঁতাও’ নির্মাতা খন্দকার সুমন জানান, ‘রাশিয়া- দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড’ বিভাগে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তুরস্ক, রাশিয়া ও উজবেকিস্তানের মোট ১০টি সিনেমা জায়গা পেয়েছে। এটি মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ না হলেও থাকছে আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা। সেরা ছবিটিকে তিন লাখ রুবল (বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি) দেওয়া হবে।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে খন্দকার সুমন বলেন, “এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে আমার প্রথম চলচ্চিত্র মনোনীত হওয়ায় খুব আনন্দিত। এই সুখবরের সঙ্গে আরও একটি ভালো খবর জানাতে চাই, আমাদের ‘সাঁতাও’ শিগগিরই একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে। তখন দর্শক যে কোনও জায়গা থেকেই ছবিটি দেখার সুযোগ পাবেন।”
শুধু ঢাকার উৎসবে নয়, এর আগে ৬ষ্ঠ নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ওয়ার্ল্ড প্যানোরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ‘গৌতম বুদ্ধ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে ‘সাঁতাও’।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের এক কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার গল্পে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এর মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক।




