একমাত্র ছেলে প্রফুল্ল অংশুমানকে নিয়ে গান করেন বাবা আশীষ ভট্টাচার্য্য। নতুন ছড়াগান, আধুনিক গান ও সমসাময়িক নানান ইস্যু নিয়ে সচেতনতামূলক গান করেন তারা। তাদের ব্যান্ডের নাম ‘সং ফর গুড’। গানে গানে জগতে ভালোর আলো ছড়িয়ে দিতে চান তারা। সোশ্যাল হ্যান্ডেল মাত করা সেই পিতা-পুত্রের এবার অভিষেক হলো নাটক ও সিনেমায়!
সদ্য মুক্তি পাওয়া সরকারি অনুদান প্রাপ্ত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’-এ প্লেব্যাক করলো বাবা ও ছেলে। পরিচালক এফ এ শাহিনের লেখা ও লাবিক কামাল গৌরবের সুর-সংগীতায়োজনে অংশুমান গাইলো ‘গুপ্তধন’ নামের গানটি। একই সিনেমায় স্থান পেয়েছে বাবা আশীষ ভট্টাচার্য্যর লেখা-সুর-কণ্ঠে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণকে সম্মান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী নিয়ে ‘একটা আঙুল’। সিনেমার পাশাপাশি গান দুটো পরিবেশক প্রতিষ্ঠান টাইগার মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত হয়েছে।
মাত্র দশ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে শিশু অংশুমান খুবই খুশি। তার ভাষায়, ‘সিনেমায় গান গাইব তেমনটা ভাবতেই পারিনি। লাবিক আংকেল বাবাকে কল দিয়ে যেতে বলল, তারপর অডিশন দিয়ে সুযোগ পেয়ে গেলাম। গানটা খুবই সুন্দর। সিনেমায় কয়েকজন বন্ধু মিলে গুপ্তধন খুঁজতে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় গানটি শুরু হয়। বাবা-মাকে নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখেছি, নিজের গান শুনেছি, খুব ভালো লেগেছে।’
ছেলে অংশুমানকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের গল্প শোনাতে গিয়ে ‘একটা আঙুল’ গানটি আশীষ লিখেছিলেন ও সুর করেছিলেন ২০২১ সালে। সেসময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় অংশুমানের কণ্ঠে গানটি প্রথম প্রকাশ পায়। ২০২২ সালে পরিচালক এফ এ শাহীন গানটি শুনে চলচ্চিত্রে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব দেন। লাবিক কামাল গৌরবের সংগীতায়োজনে গানটি চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। গানটির নতুন সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছেন আশীষ, লাবিক, লিমনসহ অনেকে। ‘ঘরে বসে ছেলেকে যে গান শুনিয়েছিলাম, সেই গান শিশুদের চলচ্চিত্রে বেজে উঠলো, সারাবিশ্বের বাংলা-ভাষাভাষী শিশুরা এই গান শুনবে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্পর্কে জানবে, এ বড় আনন্দের ব্যাপার।’ বলছিলেন আশীষ।
এদিকে দুরন্ত টিভিতে শুরু হয়েছে শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক ও পুষ্টি বিষয়ক ২৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘রাঁধি বাড়ি খাই দাই’। সেই নাটকের ২৬ পর্বের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন আশীষ ভট্টাচার্য্য। পাশাপাশি ২৬ পর্বের ২৬টি বিষয়ভিত্তিক গানও লিখেছেন তিনি। একইসাথে ছেলে অংশুমানকে নিয়ে সেই নাটকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন আশীষ। ‘আসলে শিশুদের জন্য অনেকদিন ধরেই নতুন গান করছি, গল্প লিখছি। আমার আর অংশুমানের ডিম খাওয়ার একটা গান সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে দুরন্ত টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রস্তাব দেয় নাটকের পাণ্ডুলিপি ও গান লেখার। সেই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু অভিনয় করতে হবে সেটা ভাবিনি। প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে গিয়ে অনেক ভালো লেগেছে। স্বাভাবিক জীবনে যেমন শিশুদের সাথে হাহা-হিহি করি, তেমনটাই করেছি শুটিংয়ের সময়। শিশুরা তো দারুণ অভিনয় করেছে। আমি কেমন করেছি শিশু-দর্শকরা ভালো বলতে পারবে’, যোগ করলেন আশীষ।
সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজে ৫ম শ্রেণীতে পড়ছে অংশুমান। লেখাপড়ার পাশাপাশি গানের চর্চা চলছে নিয়মিত। সামনে শিশুদের জন্য আরও মজার সব নতুন গান আসছে। তাই নিয়েই অংশুমানের ব্যস্ততা।
গান, গল্প, অভিনয়ের পাশাপাশি আশীষ ভট্টাচার্য্য শিশুদের জন্য ‘সকাল বেলার পাখি’ নামে একটি সৃজনশীল স্কুল পরিচালনা করেন। অনলাইনে পরিচালিত সেই স্কুল এবার অফলাইনে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য আরও নতুন গান ও গল্পের বইয়ের কাজ চলছে। শুধু নিজের সন্তান নয়, বাংলা-ভাষাভাষী সব শিশুরা যেন বাংলা সংস্কৃতির আলোয় বড় হতে পারে, তাদের শৈশবটা যেন আরও রঙিন করতে পারে, ছেলে অংশুমানকে নিয়ে সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন আশীষ।




