হলিউডে ফিরলো পুরস্কার আদান-প্রদানের লালগালিচা পার্টি। ৮১তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে আধিপত্য বিস্তার করলো পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারকের বায়োপিক ‘ওপেনহাইমার’। সেরা চলচ্চিত্র (ড্রামা) পুরস্কারসহ সর্বাধিক পাঁচটি স্বীকৃতি পেয়েছে এটি। গোল্ডেন গ্লোবসের সর্বোচ্চ পুরস্কার সেরা চলচ্চিত্র (ড্রামা) বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন আমেরিকান টিভি ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে।
‘ওপেনহাইমার’ ছবিতে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির পরিচালক জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা (ড্রামা) হয়েছেন কিলিয়ান মারফি। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ও মার্কিন পরমাণু শক্তি কমিশনের (এইসি) উচ্চপদস্থ সদস্য লুইস স্ট্রাউস চরিত্রে দারুণ নৈপুণ্যের জন্য সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা বিভাগের পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। তারা উভয়ে আমেরিকান তারকা।
ইউনিভার্সেল পিকচার্সের পরিবেশনায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওপেনহাইমার’-এর জন্য প্রথমবার সেরা পরিচালক বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেলেন ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। তার স্ত্রী এমা থমাস ছবিটির অন্যতম প্রযোজক। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ক্রিসকে স্বীকৃতি দেওয়ায় খুব খুশি হলাম। আমি মনে করি, অন্যরা যেসব কাজ করে সেগুলোর চেয়ে তার চলচ্চিত্র আলাদা। ক্রিস ক্যামেরার পেছনে সেরা হওয়ায় ক্যামেরার সামনে থাকা সবার কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে পারে।’
আমেরিকান তারকা কিলিয়ান মারফি সেরা অভিনেতা (ড্রামা) বিভাগের পুরস্কার গ্রহণের পর বলেন, ‘ক্রিস্টোফার নোলানের সেটে প্রথম হেঁটেই বুঝেছিলাম এটি আলাদা। তার কঠোরতা, মনোযোগ ও নিবেদন এতটাই যে অভিনয়শিল্পীরা বসারই সুযোগ পায় না।’
বিশ্বব্যাপী ‘ওপেনহাইমার’ ৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে। ছবিটির জন্য সেরা মৌলিক সুর বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন লুদবিগ গোরানসন।
আদিবাসী লিলির ইতিহাস
‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ ছবিতে ওসেজ নারী মলি বুর্কহার্ট চরিত্রে হৃদয়ছোঁয়া নৈপুণ্যের জন্য সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা) হয়েছেন লিলি গ্ল্যাডস্টোন। তার মাধ্যমে এবারই প্রথম গোল্ডেন গ্লোবসের ইতিহাসে আমেরিকান আদিবাসী কেউ এই পুরস্কার জিতলো। মঞ্চে এসে ট্রফি গ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক জয়। এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়, আমার সব চমৎকার বোনের পক্ষ থেকে এটি আমার হাতে নিয়েছি।’
১৯২০ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা রাজ্যে তেল সম্পদ কব্জা করার লোভে ওসেজ উপজাতির সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করতে থাকে শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীরা। সেই সত্যি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত আমেরিকান কথাসাহিত্যিক ডেভিড গ্রানের জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘কিলারস অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন: দ্য ওসেজ মার্ডারস অ্যান্ড দ্য বার্থ অব দ্য এফবিআই’ অবলম্বনে এটি পরিচালনা করেছেন মার্টিন স্করসেসি। তাকে এবং নিজের দুই সহশিল্পী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও আর রবার্ট ডি নিরোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন লিলি গ্ল্যাডস্টোন। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আপনারা সবকিছু বদলে দিয়েছেন।’
‘বার্বি’র হারজিৎ
সেরা চলচ্চিত্র (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) বিভাগে বিখ্যাত পুতুল চরিত্র নিয়ে সাজানো ‘বার্বি’র জয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। একে তো এটি এবারের গোল্ডেন গ্লোবসে সর্বাধিক ৯টি মনোনয়ন পেয়েছে, তাছাড়া নারী ক্ষমতায়নের গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবি ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করা বিশ্বকাঁপানো ব্লকবাস্টার।
কিন্তু ‘বার্বি’কে হতাশ করে সেরা চলচ্চিত্র (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) সম্মান পেয়েছে ঊনিশ শতকের ইউরোপীয় ভিক্টোরিয়ান যুগের পটভূমিতে নির্মিত ‘পুয়োর থিংস’। গ্রিসের ইয়োর্গোস লানতিমোস পরিচালিত ছবিটি গত বছর ৮০তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণসিংহ পুরস্কার জিতেছে।
সার্চলাইট পিকচার্সের পরিবেশনায় মুক্তিপ্রাপ্ত পরাবাস্তব কমেডি ছবিটির গল্প আত্মহত্যা করা তরুণী বেলা ব্যাক্সটারকে কেন্দ্র করে। মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করে তার বিজ্ঞানী বাবা। কিন্তু বেলার মধ্যে দেখা দেয় শিশুসুলভ আচরণ। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণে বের হয়ে আত্ম-আবিষ্কারের ক্ষুধা ও যৌনতা নিরীক্ষার নেশা পেয়ে বসে তাকে।
বেলা ব্যাক্সটার চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেত্রী (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) হয়েছেন এমা স্টোন। গোল্ডেন গ্লোবসে এটি ৩৫ বছর বয়সী এই তারকার দ্বিতীয় জয়। ২০১৭ সালে ‘লা লা ল্যান্ড’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) পুরস্কার পান তিনি।
এবারের আসরে ‘বার্বি’ মাত্র দুটি পুরস্কার ঘরে তুলেছে। ছবিটিতে ব্যবহৃত ‘হোয়াট ওয়াজ আই মেড ফর?’ সেরা মৌলিক গান হয়েছে। এর গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বিলি আইলিশ এবং ফিনিয়াস ও’কনেল। তাদের হাতে উঠেছে ট্রফি। এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া বিভাগ সিনেম্যাটিক বক্স অফিস অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছে ‘বার্বি’। উত্তর আমেরিকায় কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার এবং বৈশ্বিক বক্স অফিসে কমপক্ষে ১৫ কোটি ডলার আয় করা ব্যবসাসফল ছবিকে দেওয়া হচ্ছে এই সম্মান। গ্রেটা গারউইগ পরিচালিত ‘বার্বি’ বিশ্বব্যাপী ১৪৪ কোটি ডলার (১৫ হাজার ৮৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা) ব্যবসা করেছে। এটাই কোনো নারী পরিচালকের ছবির সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ড।
নতুন বিভাগের জন্য গোল্ডেন গ্লোবস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘বার্বি’র অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী মার্গো রবি। সিনেম্যাটিক বক্স অফিস অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার জয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পৃথিবী গ্রহের প্রত্যেককে এটি উৎসর্গ করতে চাই, যারা গোলাপি পোশাক পরে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখেছেন।’
ছেলেদের বোর্ডিং স্কুলের গল্প নিয়ে নির্মিত আলেকজান্ডার পেইনের ‘দ্য হোল্ডওভারস’ ছবির সুবাদে আমেরিকার পল জিয়ামাত্তি সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) এবং ডে’ভাইন জয় র্যান্ডলফ সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন। শিক্ষকের ভূমিকায় পল জিয়ামাত্তি এবং ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত মা মেরি চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন কৃষ্ণাঙ্গ তারকা ডে’ভাইন জয় র্যান্ডলফ।
কানের পর গোল্ডেন গ্লোবস
৭৬তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম জয়ী ‘অ্যানাটমি অব অ্যা ফল’ জিতেছে দুটি স্বীকৃতি। সেরা অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র হয়েছে এটি। এছাড়া ফরাসি ছবিটির পরিচালক জাস্টিন ত্রিয়েত ও তার প্রেমিক আর্থার হারারি সেরা চিত্রনাট্যকার বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন। ‘অ্যানাটমি অব অ্যা ফল’-এর গল্পে দেখা যায়, তুষারপাতে স্বামীর মৃত্যুর পর প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হয় জার্মান লেখক সান্ড্রা। আদালতে বিচারকার্যের সময় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান এই নারী।
এশিয়ার একমাত্র অর্জন
সেরা অ্যানিমেটেড ছবির পুরস্কার জিতেছে ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’। এটি জাপানিজ অ্যানিমেশন কিংবদন্তি হায়াও মিয়াজাকির শেষ নির্মাণ। এর মাধ্যমে ৮২ বছর বয়সে এসে প্রথমবার গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড পেলেন তিনি। গোল্ডেন গ্লোবসের ইতিহাসে ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষার কোনও ছবি এবারই প্রথম পুরস্কারটি জিতলো। ডিজনির ‘উইশ’ ও ‘এলেমেন্টাল’কে হটিয়ে সেরা হয়েছে ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’। এর গল্প এক বালককে কেন্দ্র করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাকে হারানোর পর রহস্যময় হেরনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।
হায়াও মিয়াজাকি অবসর থেকে ফিরে সাত বছর সময় নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’। তিনিই এর চিত্রনাট্য লিখেছেন। জাপান ছাড়াও উত্তর আমেরিকায় অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে এটি। গত ডিসেম্বরে মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছে এই ছবি।
‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’ জাপানের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবির মধ্যে অন্যতম। এর প্রযোজক তোশিও সুজুকি বলেন, ‘নতুন বছরে জাপানে একের পর এক মর্মান্তিক ভূমিকম্প ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে গোল্ডেন গ্লোবস জয়ের খুশির খবর সবার মুখে সামান্য হলেও হাসি ফোটাতে পারে।’
গোল্ডেন গ্লোবসকে ভাবা হয়ে থাকে অস্কারের পূর্বাভাস। ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লো। হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত অ্যানিমেটেড ছবি ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ ২০০২ সালে অস্কার জিতেছে।
টেলিভিশন বিভাগে সেরা
ছোট পর্দার জন্য গোল্ডেন গ্লোবসে যুক্ত হয়েছে নতুন বিভাগ সেরা স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান। এটি জিতেছেন রিকি জার্ভেজ। নেটফ্লিক্সের ‘রিকি জার্ভেজ: আরমাগেডন’ তাকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি।
টেলিভিশন বিভাগগুলোর মধ্যে এইচবিও ম্যাক্সের ‘সাকসেশন’ সেরা টিভি সিরিজ (ড্রামা) হয়েছে। এর গল্প একজন বিত্তশালী মিডিয়া মোগলকে কেন্দ্র করে, তার ছেলেরা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এতে দারুণ অভিনয়ের জন্য আমেরিকার কিয়েরান কালকিন সেরা অভিনেতা (ড্রামা সিরিজ), অস্ট্রেলিয়ার সারাহ স্নুক সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা সিরিজ) এবং ব্রিটিশ তারকা ম্যাথিউ ম্যাকফ্যাডিয়েন সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন। ম্যাথিউ ম্যাকফ্যাডিয়েন প্রথমবার গোল্ডেন গ্লোবস জিতলেন।
সেরা টিভি সিরিজ (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) পুরস্কার পেয়েছে রেস্তোরাঁর মালিকানাকে কেন্দ্র করে সাজানো এফএক্স চ্যানেলের ‘দ্য বিয়ার’। এতে শেফের ভূমিকায় দারুণ অভিনয়ের জন্য আমেরিকার জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) এবং আয়ো এডেবিরি সেরা অভিনেত্রী (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি) স্বীকৃতি পেয়েছেন। জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট এ নিয়ে দ্বিতীয়বার গোল্ডেন গ্লোবস জিতলেন।
নেটফ্লিক্সের ‘বিফ’ সেরা লিমিটেড সিরিজ হয়েছে। এতে দারুণ অভিনয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ান বংশোদ্ভুত আমেরিকান তারকা স্টিভেন ইয়ান সেরা অভিনেতা (লিমিটেড সিরিজ, অ্যান্থলজি সিরিজ অথবা টিভি মুভি) এবং ভিয়েতনাম ও চীনা বংশোদ্ভুত আমেরিকান স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অ্যালি অং সেরা অভিনেত্রী (লিমিটেড সিরিজ, অ্যান্থলজি সিরিজ অথবা টিভি মুভি) স্বীকৃতি পেয়েছেন। দুই তারকার জন্যই এটি প্রথম গোল্ডেন গ্লোবস জয়।
নেটফ্লিক্সের আরেক সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’-এ প্রিন্সেস ডায়ানা চরিত্রে মনকাড়া অভিনয়ের সুবাদে সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী হয়েছেন ব্রিটিশ তারকা এলিজাবেথ ডেবিকি।
বিভিন্ন বিভাগে মনোনীত হলিউড কিংবদন্তিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন মেরিল স্ট্রিপ, রবার্ট ডি নিরো ও জোডি ফস্টার। পপ সুপারস্টার টেলর সুইফট নিজের কনসার্ট-নির্ভর চলচ্চিত্রের সুবাদে সিনেম্যাটিক বক্স অফিস অ্যাচিভমেন্ট বিভাগে মনোনীত হিসেবে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
নতুন সঞ্চালক
ফিলিপাইন বংশোদ্ভূত আমেরিকান স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান জো কয় প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস সঞ্চালনা করেছেন। এবারই প্রথম বড় পরিসরের অনুষ্ঠান জমানোর সুযোগ পেলেন তিনি। রবিবার (বাংলাদেশ সময় ৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্য বেভারলি হিলটন হোটেলে ছিল এই জমকালো অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে শুরু হলো নতুন বছরের পুরস্কার মৌসুম।
গত বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সম্মানী বৃদ্ধির দাবিতে অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের জোড়া ধর্মঘটের নজিরবিহীন ঘটনার পর গোল্ডেন গ্লোবসের সুবাদে হলিউডের চেনা জৌলুস ফিরে এলো। দীর্ঘ ছয় মাস পর হেভিওয়েট তারকাদের আবারও দেখা গেলো একই ছাদের নিচে।
৮১তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস সরাসরি সম্প্রচার করেছে আমেরিকান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস। এত বছর গোল্ডেন গ্লোবস দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নেটওয়ার্কে।
৩০০ জন বিনোদন সাংবাদিকের ভোট
এবারের আসরের বিজয়ী তালিকা নির্বাচন করেছেন আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০০ জন বিনোদন সাংবাদিক। প্রত্যেক ভোটার প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি করে বিজয়ী নির্বাচন করেন। বেশিসংখ্যক ভোট পাওয়া চলচ্চিত্র ও শিল্পীদেরই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের অনুসন্ধানে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক সাংবাদিকের অলাভজনক সংগঠন হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনে (এইচএফপিএ) জাতিগত বৈচিত্র্যের অভাব প্রকট হয়। এছাড়া ৮০ জন বিনোদন সাংবাদিকের এই সংস্থার কিছু সদস্যের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার খবর বেরিয়ে আসে। এসবের পরিণতিতে এইচএফপিএ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি সংস্কারের অংশ হিসেবে ৮০তম গোল্ডেন গ্লোবসে লালগালিচা পার্টি ও বিজয়ীদের সশরীরে নিমন্ত্রণ করে পুরস্কার বিতরণ করা হয়নি।
২০২৩ সালের জুনে এইচএফপিএ থেকে গোল্ডেন গ্লোবসের স্বত্ব কিনে নেয় এলড্রিজ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ডিক ক্লাক প্রোডাকশন্স (ডিসিপি)। এরপর ভোটিং সদস্যপদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০ জন। তাদের মধ্যে অ-শ্বেতাঙ্গসহ ৬০ শতাংশে জাতিগত বৈচিত্র্য রয়েছে। তারা ৭৫টি দেশের নাগরিক। তাদের ৪৭ শতাংশ নারী।





