মৃত্যুর দু’দিন পর ২৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি মসজিদে জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত হলো শাফিন আহমেদের প্রথম জানাজা। সে সঙ্গে মরদেহ ঢাকায় আনার আনুষ্ঠানিকতাও চলছে জোর কদমে। এমনটাই জানান শাফিন আহমেদের ছেলে আজরাফ।
তিনি বলেন, ‘বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে। তাকে আনতে মা সেখানে গেছেন। অনেক ধরনের প্রসেস আছে, সে প্রসেসগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছেন।’
জানাজার পর শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভার্জিনিয়ার বাঙালিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাফিন আহমেদের স্ত্রী ডা. রুমানা দৌলা।
পরিবার আশা করছে, দুই দিনের মধ্যেই শিল্পীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। তবে দাফনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। যদিও সম্ভাবনা রয়েছে, রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শিল্পীর বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্তের কবরে শায়িত করা হবে শাফিনকে।
এদিকে শাফিন আহমেদের মরদেহ আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল বড় ভাই হামিনের। কিন্তু শাফিনের দাফন, কবরস্থানের জায়গা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দেশে থাকতে হয়েছে তাকে।
গত (২৫ জুলাই) বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার খানিক পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন শাফিন আহমেদ।
এর আগে ২০ জুলাই তার ভার্জিনিয়ায় একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শো বাতিল করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। পরে আবারও তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শাফিন আহমেদ। তার মা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। ছোট বেলা থেকেই শাফিন আহমেদ গানের ভেতরেই বড় হন। বাবার কাছে উচ্চাঙ্গসংগীত শিখেছেন আর মার কাছে নজরুলগীতি। এরপর বড়ভাই হামিন আহমেদ-সহ ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সুবাদে পাশ্চাত্য সংগীতের সংস্পর্শে এসে ব্যান্ড সংগীত শুরু করেন। দেশে ফিরে দুজনেই যুক্ত হন মাইলস ব্যান্ডের সঙ্গে। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
শাফিন আহমেদের কণ্ঠে জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে রয়েছে ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘জ্বালা জ্বালা জ্বালা’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ফিরে এলে না’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’ প্রভৃতি।




