বলা হচ্ছিলো চলমান বিপ্লবে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জামায়েতটি হবে শনিবার (৩ আগস্ট) বেলা ৩টায় রবীন্দ্র সরোবরে, দেশের প্রায় সর্বস্তরের সংগীতশিল্পীর অংশগ্রহণে। বিপ্লবের শিরোনাম হিসেবেও শিল্পীরা বেছে নিয়েছিলেন বিদগ্ধ বিপ্লবী কিংবদন্তি বব মার্লেকে। তার ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’ গানটি ধরে ডাক দেওয়া হয়েছে দেশের সংগীতশিল্পীদের। তাতে কে সাড়া দেয়নি? ব্যান্ড, একক, রবীন্দ্র, নজরুল- প্রায় সবাই সোশ্যাল হ্যান্ডেলে জানান দিয়েছেন, রবীন্দ্র সরোবরে মিলিত হওয়ার বিষয়ে।
সময় ছিলো বেলা ৩টা। জমায়েত শুরু হলো ২টা থেকেই। ৩টার আগেই সরোবরে হাজির মাকসুদুল হক, হামিন আহমেদ, পার্থ বড়ুয়া, প্রিন্স মাহমুদ, শওকত আলী ইমন, শেখ মনিরুল ইসলাম টিপু, লতিফুল ইসলাম শিবলী, রাহুল, জিয়াউর রহমান, আশফাকুল বারি রুমন, জুনায়েদ ইভান, সাকিবসহ আর্টসেল, শিরোনামহীন, জলের গান, ওয়ারফেজ, মাইলস, চিরকুট ও অ্যাশেজ ব্যান্ডের সদস্যদের অনেকে। সঙ্গে অসংখ্য শিক্ষার্থী, অনুসারী আর অভিভাবকরা। এরমধ্যে অনেকের হাতে শোভা পাচ্ছিলো দারুণ সব গানের বাণী। যেমন প্রিন্স মাহমুদের লেখা-সুরে জেমসের কণ্ঠে ‘হতেই পারে আমাদের এই মিলনমেলাই এক ইতিহাস’! সঙ্গে চলছিলো গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য। কথা বলছিলেন মাকসুদুল হক, প্রিন্স মাহমুদ, লতিফুল ইসলাম শিবলীরা।
ঠিক ২টা ৫৮ মিনিট। তখনও চারপাশ থেকে মৌমাছির মতো রবীন্দ্র সরোবরে নামছিলেন সংগীতাঙ্গনের সদস্য আর শিক্ষার্থী-স্বজনরা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ৩টা বাজার ঠিক দুই মিনিট আগে সরোবরের মাঝ থেকে শিবলী-প্রিন্স মাহমুদের নেতৃত্বে শ্লোগান দিতে দিতে পুরো জমায়েত বেরিয়ে গেলো ধানমন্ডি ৮ নম্বর ব্রিজ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লক্ষ্যে! এ যেন শুরুর আগেই শেষ।
সরোবরে উপস্থিত অনেকেই তাজ্জব বনে গেলেন এমন কাণ্ডে। এমনকি বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারলেন না, হচ্ছেটা কী! প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু নাকি শেষ- এই প্রশ্ন সবার মুখে। ৩টার পরে অসংখ্য সংগীতমুখ আর শিক্ষার্থীরা এসে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ছিলেন। এরমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যান্ড তারকাদের বেশিরভাগই সরোবর থেকে বিষণ্ণ মনে ফিরে গেছেন যার যার ঠিকানায়। মুখে কিছু না বললেও চোখে স্পষ্ট, অজানা একটা ভয়!
তবে ৩টার পর এই আয়োজনের প্রাণভোমরা হয়ে উঠলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। ব্যান্ড সদস্য শূন্য সরোবরে তাকে ঘিরেই যেন এদিন এক ঘণ্টার প্রতিবাদ সভা হলো। আসিফ আকবর শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে। যদিও পুরো আয়োজনটির নেতৃত্বে ছিলো দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডগুলো।
বিকাল ৪টার দিকেও বিভিন্ন ব্যান্ডের সদস্য ও অনুসারীদের আসতে দেখা গেছে সরোবরে। তাদের একজনই নাম না প্রকাশের শর্তে জানালেন, ‘আমরা আজ এখানে এসে দিকভ্রান্ত হলাম!’ আরেকজন জ্যেষ্ঠ ব্যান্ড তারকা জানালেন, সরোবরের এই আয়োজনে বহিরাগত ঢুকে অঘটন ঘটানোর আগাম খবর মিলেছে, তাই দ্রুত সবাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে ছুটেছেন হঠাৎ করেই।
বলা দরকার, ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রায় দুই শতাধিক। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। সংগীতশিল্পীরা ছাড়াও তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সমাজের নানা স্তরের মানুষ ও সংগঠন।
ছবি: রাকিবুল ইসলাম




