টানা ১৭ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিবাদন (স্ট্যান্ডিং ওভেশন)। ভাবা যায়! স্প্যানিশ পরিচালক পেদ্রো আলমোদোভারের ‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’-এর বেলায় সেটাই ঘটেছে। এতে অস্কারজয়ী আমেরিকান দুই তারকা জুলিয়ান মুর ও টিল্ডা সুইন্টনের অভিনয়ে মুগ্ধ ৮১তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দর্শক ও অতিথিরা।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ভেনিস লিদোতে পালাৎসো দেল সিনেমা ভবনের সালা গ্র্যান্দে থিয়েটারে ‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়েছে। ছবিটির প্রদর্শনী শেষে ৬৩ বছর বয়সী দুই অভিনেত্রীর গালে স্নেহের চুম্বন দিয়ে চ্যাম্পিয়ন বক্সারদের মতো তাদের দুই হাত ওপরে তুলে ধরেন পেদ্রো।
এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সময় অভিবাদন পাওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে ‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’। এর আগে মূল প্রতিযোগিতায় থাকা ব্র্যাড করবেট পরিচালিত ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’ ১২ মিনিট, পাবলো লারাইনের ‘মারিয়া’ ৮ মিনিট ও জাস্টিন কারজেল পরিচালিত ‘দ্য অর্ডার’ ৭ মিনিটের অভিবাদনে সিক্ত হয়েছে।
‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’ ৭৪ বছর বয়সী পেদ্রো আলমোদোভারের ইংরেজি ভাষায় প্রথম চলচ্চিত্র। আমেরিকান নারী সাহিত্যিক সিগরিড নুনেজের ‘হোয়াট আর ইউ গোয়িং থ্রো’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এর চিত্রনাট্য।
ছবিটিতে ইনগ্রিড চরিত্রে জুলিয়ান মুর ও মার্থা চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিল্ডা সুইন্টন। গল্পে দুই নারী এক সময়ের বন্ধু ছিলেন, যারা নিজেদের কর্মজীবনের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে একই ম্যাগাজিনে কাজ করতেন। ইনগ্রিড এখন জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। তার বইয়ের কপি বিক্রি হয় লাখ লাখ। তবে ক্যানসারের কারণে জীবন সায়াহ্নে এসে পড়েছেন তিনি। এমন অবস্থায় মার্থার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ গড়ে তোলেন ইনগ্রিড। মার্থা ছিলেন যুদ্ধের সংবাদদাতা। ব্যক্তিজীবনে অপূর্ণ একজন মা তিনি। সনি পিকচার্স ক্ল্যাসিকসের পরিবেশনায় চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।
ভেনিসে জুলিয়ান মুর অনেক বছর ধরে নিয়মিত। ১৯৯৩ সালে রবার্ট অ্যাল্টম্যানের ‘শর্ট কাটস’ ছবির জন্য উৎসবটিতে অংশ নেন তিনি। ২০০২ সালে টড হেইন্সের ‘ফার ফ্রম হ্যাভেন’ ভেনিসের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার এনে দেয় তাকে। ২০০৯ সালে ফ্যাশন ডিজাইনার টম ফোর্ড পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘অ্যা সিঙ্গেল ম্যান’ ও ২০১৭ সালে জর্জ ক্লুনি পরিচালিত ‘সাবারবিকন’ ছবির প্রচার করতে ভেনিসে পা রাখেন জুলিয়ান মুর। ২০২২ সালে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক ছিলেন তিনি।
টিল্ডা সুইন্টনের ঝুলিতেও আছে ভেনিসের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। ১৯৯১ সালে ডেরেক জারমান পরিচালিত ‘এডওয়ার্ড টু’ ছবির সুবাদে এই স্বীকৃতি পান তিনি। ২০০৯ সালে লুকা গুয়াদানিনোর ‘আই অ্যাম লাভ’ ছবির জন্য ভেনিসে পা পড়েছিল তার। ২০২০ সালে আজীবন সম্মাননা হিসেবে স্বর্ণসিংহ দেওয়া হয় তাকে।
‘দ্য রুম নেক্সট ডোর’-এর আগে ২০২১ সালে পেদ্রো আলমোদাভারের ‘প্যারালাল মাদারস’ ভেনিস উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ছিল। এতে অনবদ্য নৈপুণ্যের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন স্প্যানিশ তারকা পেনেলোপি ক্রুজ।
ভেনিস উৎসবে পেদ্রো আলমোদাভারের ‘উইমেন অন দ্য ভার্জ অব অ্যা নার্ভাস ব্রেকডাউন’ ১৯৮৮ সালে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার জিতেছে। ২০২০ সালে ভেনিসের অফিসিয়াল সিলেকশনে থাকা পেদ্রোর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’-এ অভিনয় করেছেন টিল্ডা সুইন্টন। ১৯৮৩ সালে পেদ্রোর ‘ডার্ক হ্যাবিটস’ ছবিটি উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ছিল। ২০১৯ সালে তাকে উৎসবের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।





