জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর একটাই প্রশ্ন, তিনি থানায় কেন? শুটিং সেট আর মিডিয়াকর্মীদের বাইরে তো তার আর কোনও জীবন ছিল না। গুলশান থানায় আটক অবস্থায় শেষ ভোরে (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি বারবার এই কথাগুলো বলছিলেন অভিনেতা এস এম আশরাফুল আলমের সঙ্গে।
খবর মিলেছে, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গুলশান থেকে রাফাত মজুমদার রিংকুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
রিংকুকে আটকের খবর পেয়ে অভিনেতা আশরাফুল আলম ভোর ৫টার দিকে ছুটে যান গুলশান থানায়। সেখানে গিয়ে কথা বলেন রিংকুর সঙ্গে।
আশরাফুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানসিকভাবে সে (রিংকু) যথেষ্ট শক্ত আছে। কিন্তু বারবার বলছিল, ‘‘আমি তো দেশের কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনও ক্ষতি করি নাই। এমনকি ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে একটি কথাও বলি নাই। তাহলে আমি এখানে কেন?’ কথাগুলো বলার সময় সে নিজের আবেগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু পারেনি। খুব কষ্ট হচ্ছে একজন ডিরেক্টরকে এভাবে দেখে।’’
এদিকে রিংকুর চাচা শিমুল মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ জানান, রাজনৈতিক মামলায় রিংকুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আরও জানান, নির্মাতা নাটকে ব্যস্ত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চাচা বলেন, ‘রিংকু মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলে। মূলত সেই সূত্রে শত্রুতা করে কেউ ধরায়ে দিছে।’
এদিকে রিংকুর গ্রেফতারে সকাল থেকেই ফুঁসে উঠেছে নাট্যাঙ্গন। ফেসবুকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্রায় সর্বস্তরের নির্মাতা, শিল্পী, কুশলী।
রিংকু এই সময়ে জনপ্রিয় নির্মাতাদের একজন। তার নির্মিত নাটকের সংখ্যা শতাধিক। রিংকুর নির্মিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে রঙিন আশা, পুতুলের সংসার, ইতিবৃত্ত, নরসুন্দরী, কবর, বন্ধন, ব্লগার মিতু, জাল, রূপান্তর, কাটুস, অতিরিক্ত, নোঙর, রিকশা গার্ল প্রভৃতি।
এর মধ্যে চলতি বছর ‘রূপান্তর’ নাটক নির্মাণ করে প্রচুর হুমকির মুখে পড়েন রিংকু। অভিযোগ, এই নাটকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা দেশে ‘ট্রান্সজেন্ডার সংস্কৃতি’ প্রমোট করছে। এরপর নাটকটি অন্তর্জাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নির্মাতা প্রকাশ করেছেন দুঃখ।
এর বাইরে নাটক নির্মাণ করে রাফাত মজুমদার রিংকু দীপ্ত টিভি অ্যাওয়ার্ড, মেরিল প্রথম আলো অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।




