স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে কি?

বিনোদন রিপোর্ট
১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৪আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৩০

স্থগিত করা হয়েছে ১৭তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় উৎসবটির আয়োজক বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের একাংশ। 

এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শর্ট ফিল্ম ফোরামের সকল সদস্যর পক্ষ থেকে প্রেরিত তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম, মানজারে হাসীন মুরাদ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এদেশের বিকল্পধারার স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নির্মাণকর্মীদের একটি স্বাধীন সংগঠন। প্রতি দুই বছর অন্তর বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এই আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবটির আয়োজন করে থাকে এবং প্রাণের আনন্দেই সবাই এই উৎসবে অংশ নেন। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, কোনও কোনও মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে চলচ্চিত্র উৎসবটি তার নিজস্ব মূল্যবোধ ও চরিত্র হারাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের জরুরী সাধারণ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সিদ্ধান্তক্রমে এই উৎসবটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে চলচ্চিত্র উৎসবটির আয়োজন করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এরপরও কেউ যদি এই উৎসবটি আয়োজনের চেষ্টা করে থাকে, তবে সে উৎসবটি বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের উৎসব হবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সকল সদস্যকে সে উৎসবটি বর্জন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে, আমরা এদেশের জনগণ ও গণমাধ্যমকেও ওই চলচ্চিত্র উৎসবটিকে বয়কট করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম এবং মানজারে হাসীন মুরাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসার পর গতকালই বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জহিরুল ইসলাম পাল্টা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘এই তিনজন নির্মাতা বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রাচীনতম সদস্য হলেও বর্তমানে তারা শর্ট ফিল্ম ফোরামের কোনও নির্বাহী দায়িত্বে নেই। শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্যাড ব্যবহার করে এ ধরনের বিবৃতি বা উৎসব স্থগিত করার এখতিয়ার তাদের নেই। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে উৎসব যথারীতি চলবে।’

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কটু মন্তব্য উৎসবকে সংকটে ফেলে। তিনি শুরুতে উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তানভীর মোকাম্মেল ‘নাগরিক’ নামের ভারতীয় পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আপাতদৃষ্টে এটি ছিল ছাত্র-জনতার একটি আন্দোলন। কিন্তু নেপথ্যে তা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আমেরিকার সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই দ্বারা পরিকল্পিত, মার্কিন প্রশাসনের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামী, হিযবুত তাহরীর এবং অন্যান্য ইসলামিক শক্তিগুলোর এক ইসলামি অভ্যুত্থান।’’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তানভীর মোকাম্মেলের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সরকারি–বেসরকারি সব মহলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের অনেক সদস্যও এতে ক্ষুব্ধ হন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় তার নেতৃত্বে গঠিত উৎসব কমিটি স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। পরে ফোরামের একটি অংশ নানা টালবাহানা করে উৎসব বাতিল করার জন্য নির্বাহী কমিটি ও পুনর্গঠিত ফেস্টিভ্যাল কমিটিকে চাপ দিতে থাকে। এমনকি তারা এমনও বলেছে যে উৎসব আয়োজনে তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে, যদি দুজন উপদেষ্টাকে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়।’

উৎসবটি শেষ পর্যন্ত হলে তাতে থাকবে শতাধিক দেশের ২৭৬ চলচ্চিত্র।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল চারটায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। উৎসব শেষ হবে ২৭ ডিসেম্বর।

এবারের আসরের কান্ট্রি ফোকাস হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে ফিলিস্তিন। ২৫ ডিসেম্বর বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ফিলিস্তিনের আটটি ফিকশন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

আঞ্চলিক ফোকাস হিসেবে আরব দেশগুলোকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স মিলনায়তনে বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯টি ফিকশন ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।

জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ড্রিম, দ্য ফাইট, দ্য ভিক্টরি’ প্রদর্শিত হবে ২৩ ডিসেম্বর। এর বাইরে একাধিক সেশন রয়েছে। এসব সেশনে নুরুল রাশেদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, রফিকুল আনোয়ার, তারেক আহমেদ, নাঈম মোহায়মেনসহ অনেকে উপস্থিত থাকবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন কথাসাহিত্যিক এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

২৭ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন থাকবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিত্রশিল্পী ওয়াকিলুর রহমান ও সিটি ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার আশানুর রহমান।

এবারের উৎসবটি জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ এবং শিল্পী এসএম সুলতানের জন্মশতবার্ষিকীকে উৎসর্গ করা হয়েছিলো।

/সিবি/এমএম/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ, নতুন সমীকরণ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
যার কণ্ঠের বিরহে ভিজছেন ‘মায়াপাখি’র দর্শক
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
অপুর পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে সোনার কলস দিলেন সাগর
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প
গ্ল্যামার ভুলে ‘সাধুর বউ’: নাজিফা তুষির এক অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প