জয়িতার আগাম ঘোষণা ছিল, ‘শুরু করবো ঠিক রাত ৮টায়। যারা টিকিট কিনেছেন, ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চলে আসলে ভালো হয়!’
১৮ জানুয়ারি, ঘড়ির কাঁটা রাত ৮টার ঘরে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর যাত্রা বিরতিতে গিয়ে দেখা গেলো চেনা-জানা গানপাগল মানুষের কলধ্বনি। এদিন রাতটা অন্যভাবে সাজিয়েছেন গান ও কবিতার অন্যতম কণ্ঠস্বর জয়িতা। পাঠ, আবৃত্তি ও রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে এক অপূর্ব সন্ধ্যা।
৮টার কিছুটা পরে শুরু করে টানা দেড়ঘণ্টা আলোছায়ামাখা মঞ্চটা মাতিয়ে রাখলেন জয়িতা।
তিনি একাধারে গাইলেন রবীন্দ্রনাথের গান, পাঠ করলেন কবিতা। ‘তবু মনে রেখো’ নামের এই ত্রিমাত্রিক আয়োজনটি শুনতে এসেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সারা যাকের, আফসানা মিমিসহ আরও অনেকে, যাদের মধ্যে জয়িতার বড় হওয়া। সেই তাদের সামনে জয়িতা যেন পরীক্ষায় উতরে গেলেন দিব্যি।
আয়োজনটি প্রসঙ্গে জয়িতা আগেই বলেছেন, ‘গান, কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি মিলিয়ে আমি চেয়েছি একটা পূর্ণাঙ্গ প্রডাকশন, যার মধ্য দিয়ে একটা গল্প তৈরি হবে। বিষয় হিসেবে এই বিক্ষিপ্ত সময়ে আমরা প্রেম ও বিরহ বেছে নিয়েছি।’
কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক আর অভিনেতা খালেদ খানের মেয়ে জয়িতা। এত বড় মাপের শিল্পী বাবা-মায়ের সন্তানদের বাড়তি চাপ হয় নিজেকে প্রকাশে। জয়িতার উপস্থাপনায় সেই চাপ টের পাওয়া যায় না নিজস্বতার কারণে। যে গান মিতা হকের কণ্ঠে শোনা, একই গান নতুন করে ধরা দেয় জয়িতার কণ্ঠে।
যে কবিতা বাবার কণ্ঠে দাপুটে, সেটিও জয়িতার স্বরে ছড়িয়ে পড়ে অন্য এক দ্যোতনা হয়ে। বাবা-মায়ের পরিচয়ের বাইরে গিয়েও গান আর আবৃত্তি দিয়ে জয়িতা নিজের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন, যার শেষ প্রতিধ্বনি মিললো ‘তবু মনে রেখো’র দৌলতে।
একটার পর একটা গান, ফাঁকে কবিতা পাঠে একটুও ছেদ ঘটেনি পুরোটাজুড়ে।
জয়িতা বললেন, ‘আমার জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। যেখানে গান, পাঠ, আবৃত্তি পুরোটা একা করেছি। এই দুঃসাহস করার কারণ জানতে চাইলে বলবো, গ্রহ নক্ষত্রে বিশাল পরিবর্তন ঘটছে- তাই মনে হয় পারলাম এই দুঃসাহস করতে!’
জীবনানন্দ দাশ, আবুল হাসান, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, হেলাল হাফিজ, ইরাজ আহমেদের কবিতাগুলো বেদনার কাব্য হয়ে ওঠে; যখন জয়িতা প্রশ্ন করেন, ভালোবাসা কি অমরত্ব ফুলগাছ? যারা পায় না, তারা মরে যায়?
কবি ইরাজ আহমেদের গ্রন্থনায় জয়িতার ‘তবু মনে রেখো’; যেন খুঁজে-ফেরা মানুষের হয়ে প্রশ্ন করা, কবিতা আর গানের ছন্দে ওম ছড়ানো কিংবদন্তি এক শীতরাত।





