২০০ কোটি রুপি আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার মামলার কারণে বারবার চর্চায় উঠে এসেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। জেলবন্দী এই যুবকের সঙ্গে বলিউডের একাধিক নায়িকার সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এবার অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহিকে লেখা সুকেশের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চিঠিতে নোরার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে নিয়েও নানা কথা লিখেছেন সুকেশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হাতে লেখা চিঠিটি সুকেশেরই লেখা বলে যাচাই করেছে এনডিটিভি। তবে চিঠিতে সুকেশ যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যমটি।
চিঠিতে সুকেশ দাবি করেছেন, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে তিনি কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন। ওই সময়ের কথিত কথোপকথন প্রকাশ করার জন্য নোরাকে চ্যালেঞ্জও করেছেন তিনি।
সুকেশ আরও দাবি করেছেন, নোরা তার পরিচয় ও প্রভাব সম্পর্কে জানতেন। তাদের কথিত হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে বিলাসবহুল বিভিন্ন উপহার নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বারকিন ব্যাগ, বিএমডব্লিউ এবং রেঞ্জ রোভার গাড়ির প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রেঞ্জ রোভার নিয়ে কথিত একটি কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে সুকেশ দাবি করেন, নোরা গাড়িটিকে ‘কিউট স্টেটমেন্ট কার’ বলেছিলেন। তবে চিঠির সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে জ্যাকুলিনকে ঘিরে সুকেশের দাবি। নোরা তার সঙ্গে জ্যাকুলিনের সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সুকেশের দাবি, নোরা তাকে জ্যাকুলিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার ফোন করতেন। এমনকি দিনে ১০ বার পর্যন্ত ফোন করে তাকে জ্যাকুলিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেন নোরা। পাশাপাশি নিজের জীবনযাপনের খরচ বহনের জন্যও নোরা তাকে চাপ দিতেন বলে দাবি করেছেন সুকেশ।
চিঠির শেষদিকে নোরাকে সতর্কও করেছেন সুকেশ। লিখেছেন, ‘আমাকে উসকাবে না।’ নিজের দাবির পক্ষে আরও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সেসব প্রমাণ প্রকাশ্যে আনার হুমকিও দিয়েছেন সুকেশ।
সুকেশ আরও দাবি করেছেন, তিনি যদি এসব কথিত প্রমাণ প্রকাশ করেন, তাহলে কোনো জনসংযোগ কৌশলই নোরার ভাবমূর্তি রক্ষা করতে পারবে না।
জ্যাকুলিনের সঙ্গে সুকেশের সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও বহুবার আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালে জেল থেকে জ্যাকুলিনকে লেখা সুকেশের একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে জ্যাকুলিনকে ‘বেবি’ সম্বোধন করে তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। এমনকি জ্যাকুলিনের জন্য নবরাত্রির ব্রত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন সুকেশ।
সুকেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নোরা ফাতেহি অবশ্য আগে কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে এ ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করে আসছেন।
২০০ কোটি রুপি অর্থপাচার মামলায় অভিযুক্ত সুকেশ এর আগেও বিভিন্ন বলিউড তারকাকে নিয়ে নানা অভিযোগ করেছেন। তার লেখা চিঠিও এর আগে আলোচনায় এসেছে। এবার নোরাকে লেখা নতুন এই চিঠিতে জ্যাকুলিনকে ঘিরে সুকেশের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।









