‘‘আমার হাত দিয়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু করেছি। তবে এখন এটি আর আমার একার নয়। আমার অনুপস্থিতিতে এর দায়িত্ব দেশের সবাই পালন করবে’-বাংলা ট্রিবিউনকে এভাবেই কথাগুলো জানালেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তীতে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছেন এই অভিনেতা। গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে ‘আদরের সন্তান’খ্যাত অভিনেতা চিকিৎসা নিয়েছেন।
১২ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য আবার ঢাকা ছাড়বেন এই চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান।
অভিনেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন জানতে চাইলে তার ছেলে জয় বলেন, ‘‘আগের চেয়ে সবার দোয়ায় তিনি ভালো আছেন। আব্বুকে (ইলিয়াস কাঞ্চন) আর কেমো থেরাপি দিতে হবে না। ১২ তারিখে যাওয়ার পর আব্বুর ইমো থেরাপি আছে। ডাক্তাররা আশাবাদী, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’’
বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চন কাউকে চিনতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘‘অনেকে না জেনে সংবাদ করছেন। আব্বু সবাইকে চিনতে পারেন। উনার মেমরিতে কোনও সমস্যা নেই। আব্বুর টিউমারটা হয়েছে ব্রেনের স্পিচ জায়গায়। এ কারণে তিনি অনেক সময় যেটি বলতে চান সেটি প্রকাশ করতে পারছেন না।’’
অসূস্থ হওয়ার পূর্বে ইলিয়াস কাঞ্চন ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন।
তবে চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ার পর দলটির আর কোনও কার্যক্রম দেখা যায়নি। দলটি নিয়ে ভবিষ্যত কোনও পরিকল্পনা আছে কি না-সেটি নিয়েও কথা বলেন কাঞ্চনের ছেলে।
জয় বলেন, ‘‘দলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরের দিনই আব্বু চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান। তারপরের সময়টা কেমন কেটেছে সেটি সবাই জেনেছেন। এই মুহূর্তে দলটি নিয়ে আমাদের নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই।’’
দেড় বছরের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর থেকেই সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাকে দেখতে গুলশানের বাড়িতে গেছেন বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর। এর পর একে একে গেছেন রোজিনা, আনোয়ারা, আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি, বাপ্পারাজ ও সম্রাটসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই।









